ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের অধিভুক্তি বাতিল করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (BIT) আদলে স্বতন্ত্র শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত না এলে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে যাওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নগরীর টাউনহলের জুলাই চত্বরে ফেসটুন, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভ শেষে একটি মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, তারা তাদের দাবিগুলো ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকোলজি অনুষদের ডিন, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, শিক্ষা উপদেষ্টার একান্ত সচিব এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে স্মারকলিপি আকারে জমা দিয়েছেন।
এর আগে ১০ জুলাই সারাদিন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি) গঠনের এক দফা দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা।
এ সময় রহমতপুর বাইপাস মোড়ে অবস্থান নেন তারা। অবরোধ কর্মসূচির কারণে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ-জামালপুর ও ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের রহমতপুর বাইপাস মোড় বেশ কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিল।
ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রবিন মোল্লা জানান, ১০ জুলাই আমরা ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ করেছিলাম। তখন জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ প্রশাসনের লোকজন আমাদের আশ্বস্ত করেন যে, ঢাকায় শিক্ষা উপদেষ্টার সাথে ছাত্রদের মিটিং করার ব্যবস্থা করে দেবেন।
তিনি আরো বলেন, ‘আজ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ বিষয়ে আমরা জানতে চাই। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সাথে মিটিং এর বিষয়ে জেলা প্রশাসক সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। আমরা তাকে জানিয়ে এসেছি, রোববার আমরা নিজেরাই মন্ত্রণালয়ে যাব।’
বিক্ষোভ চলার সময়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমাদের দাবি স্পষ্ট। আমরা আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি ইউনিটের অধীনস্ত থাকতে চাই না। আমরা একটি স্বতন্ত্র শিক্ষা ব্যবস্থা চাই, যা আমাদের মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ করে দেবে এবং আমাদের ভবিষ্যতের জন্য আরো উপযুক্ত হবে।’
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র শিবাজী রায় মৃদুল অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি, কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কারিগরি প্রশাসন আমাদের বিষয়গুলো আমলে না নিয়েই একতরফাভাবে তাদের অধিভুক্ত প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোর সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা নিয়ে নিয়েছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের ডিন এবং কারিগরি অধিদফতরের প্রধানের সাথে দেখা করে আমাদের সমস্যার কথা বলেছি। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ঊর্ধ্বতনদের সাথেও একাধিক বৈঠক হয়েছে। কিন্তু তারা আমাদেরকে কোনো সমাধান দেয়নি। এটি সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতি চরম অবিচার।’
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের দাবি উপেক্ষা করা হচ্ছে এবং তাদের ভবিষ্যতের বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ উদাসীন।
তারা আরো বলেন, ‘আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মেনে নেয়া না হয়, তবে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো। আমরা ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির মাধ্যমে আমাদের দাবি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে দেবো।’
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানতে বারবার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।









