ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের সালথায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এসময় ১২টি দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।

বুধবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফরিদপুর-সালথা আঞ্চলিক সড়কে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বাইলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

এ সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে প্রায় ৩০ জনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে প্রায় ৬ ঘণ্টা ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।

পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন উভয় পক্ষের নেতারা।

জানা গেছে, সালথার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ওয়াদুদ মাতুব্বর গত ৫ আগস্টের পর গ্রেফতার হয়ে জেল খাটার পর গা ঢাকা দেন। তার অনুপস্থিতিতে তার গ্রাম্যদলের লোকজন প্রতিপক্ষের সাথে মিলে যায়। তবে ওয়াদুদ মাতুব্বরের লোকদের দলে ভেড়ানো নিয়ে সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নুরু মাতুব্বরের সাথে স্থানীয় জাহিদ মাতুব্বরের বিরোধ বাধে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা চলছিল।

সম্প্রতি নুরু মাতুব্বর গ্রেফতার হন। তার বিরুদ্ধে ফরিদপুরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা মামলা ছাড়াও ২০১৮ সালে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের গাড়ি বহরে হামলার মামলা রয়েছে। নুরু মাতুব্বরের অনুস্থিতিতে তার গ্রাম্যদলের নেতৃত্ব দেন তারই ভাই উপজেলা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুনছুর মাতুব্বর ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা মহিনউদ্দীন।

এ বিষয়ে জাহিদ মাতুব্বর বলেন, ‘নুরু মাতুব্বর গ্রেফতারের পর তার লোকেরা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করছে। বুধবার বিকেলে তারা বাইলা গট্টি ও ভাবুকদিয়া গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে আমাদের দুই কর্মীকে মারধর করে। এরপরে বাইলা বাজারে ব্যবসায়ী মামুন শেখকে কুপিয়ে জখম করে সংর্ঘষ বাঁধিয়ে দেয়। এরা এলাকায় আওয়ামী লীগের আধিপত্য ধরে রাখতে এ হামলা চালিয়েছে।

তবে মুনছুর মাতুব্বর অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে বিএনপির লোক বলে দাবি করে বলেন, ‘আমরা বিএনপি করি। জাহিদ মাতুব্বর আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি লাবু চৌধুরীর লোক। গত দিনে তার অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ ছিলাম। বুধবার বিকেলে বড় বাইলা গ্রামের সবুর খানকে কোনো কারণ ছাড়াই মারধর করে জাহিদ মাতুব্বরের লোকেরা। এরপরে সংঘর্ষ বেধে যায়।’

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আতাউর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে বাইলা বাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।’