ইউনুস সরকারের প্রধান দায়িত্ব নির্বাচন করা মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘গত ১৫ বছর দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। আমরা সংস্কার বুঝি না, বুঝি গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার।’
সোমবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড শেখ বাজার এলাকায় পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর দেশে একটা নতুন সরকার আসছে। এই সরকারকে ছাত্র-জনতা রাজনৈতিক দল সবাই মিলেই আমরা দায়িত্ব দিয়েছি। প্রফেসর ইউনুস সাহেবকে। তিনি রাজনৈতিক লোক না, ভোট করে বেড়ান না। কিন্তু উনি অনেক জ্ঞানী গুনী লোক, দেশে বিদেশে তার খুব সুনাম। এমনকি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় যে পুরস্কারটা উনি পেয়েছেন। ওটাকে বলে নোবেল পুরস্কার। এরকম একটা মানুষকে আমরা এখন দায়িত্ব দিয়েছি দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার এবং দেশে একটা নির্বাচন করার জন্য। এই সরকারে প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে এখানে একটা নির্বাচন করবে, যে নির্বাচনে সবাই ভোট দিতে পারবে। আমার ভোট আমি দিব যাকে খুশি তাকে দিব। কারণ দেশের ৫৩ বছর পেরিয়ে গেছে। এ সময়ে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়ে সরকার পরিবর্তন করতে পারি নাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশটাকে জাহান্নামে পরিণত করেছিল। হামলা-মামলা, গুম, খুন, নির্যাতনসহ কোটি কোটি টাকা লুট করেছে তারা। দেশের মানুষ অস্থির হয়ে জীবন দিয়ে রক্ত দিয়ে হাসিনাকে উৎখাত করেছে। গণঅভ্যুত্থানের পরে বেগম জিয়া হাসপাতাল থেকে একটি বাণী দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, অনেক নির্যাতন হয়েছে, রক্তপাত ঘটেছে। আসুন সব প্রতিহিংসা বাদ দিয়ে আমরা একটা সুন্দর বাংলাদেশ গড়ি। সবাই মিলে সুন্দর একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।’
সংস্কার ও নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সংষ্কার কি? আমি বুঝি না। আমি বুঝি গণতন্ত্র, আমি বুঝি মানুষের অধিকার। ইউনুস সরকারের প্রধান দায়িত্ব একটা নির্বাচন করা। গত ১৫ বছর দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এখন একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দেশের স্বার্থে, মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে নির্বাচন দেয়া আপনাদের প্রধান কর্তব্য। সংস্কারের পাশাপাশি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা আপনাদের উচিত। নির্বাচনের সঠিক দিনক্ষণ ও সঠিক রোডম্যাপ দেন অতিশিগগিরই। এদেশের মানুষ তাদের নিজস্ব সরকার দেখতে চায়। বর্তমানে এমপি নাই, সমস্যা হলে কার কাছে যাবেন। এ জন্য আমরা বারবার করে বলছি, সংস্কারটাও হউক, নির্বাচনটাও হউক।’
এসময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিন, সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিনসহ দলটির অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।









