ফেনী সদরে ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে কিশোর গ্যাংয়ের নির্মমতার শিকার হয়ে সজিব নিহতের তিন বছর পার হয়েছে। ফলে তার মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে হত্যাকারীদের বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের রতনপুর নিজ এলাকায় মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা।
আল ইমরানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন দেলু, স্থানীয় আবু আইয়ুব আনছারী শামীম, জামাল উদ্দিন টিংকু, আব্দুল্লাহ আল মামুম, খুরশিদ আলম জাবেদ, সাইমুম হক রাজিব, খান জিয়া, মোস্তাফা হাসান এলমান, নিহত সজীবের ভাই মো: সোহেল।
বক্তারা অনতিবিলম্বে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
আল ইমরান বলেন, ‘সজীব হত্যা মামলার আসামিরা মামলা তুলে নেয়ার জন্য বাদীপক্ষকে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। এজন্য সজীবের ভাইয়েরা নিরাপত্তা হুমকিতে রয়েছেন। অতি দ্রুত সকল আসামিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাই।’
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের মে মাসে দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের নুরুল্লাহপুর ও পার্শ্ববর্তী ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের রতনপুর এলাকার মধ্যে ফুটবল খেলা হয়। খেলাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে ঈদুল আজহার আগের দিন রতনপুর এলাকায় ইলেক্ট্রিকের কাজ করতে গেলে পূর্ব বিরোধের জেরে সজিব ও তৌহিদের উপর হামলা চালায় ইউসুফের ছেলে রিফাত (১৮), রফিকের ছেলে শামীম (১৮) ও মোস্তফার ছেলে আফসারসহ (১৯) কয়েকজন। একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের ফেলে চলে যায়। হামলাকারী সবাই পার্শ্ববর্তী ফেনী সদর উপজেলার রতনপুর এলাকার বাসিন্দা।
এদিকে ঘটনায় ঈদের দিন রাতে সজিবের বাবা সোলেমান ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা করেন। তবে ১৫ দিন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৪ জুলাই মারা যান সজিব।
পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ফেনী মডেল থানার এসআই রতন কান্তি দে ২০২৩ সালের ১২ জুলাই আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে শামীম, নুরুল আফছার, জহির উদ্দিন সুমন, আজাদ, সুজন, শিশু রিফাত ও আরমান হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়।
এদিকে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া রিফাত আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। রিফাতের দেয়া তথ্যানুযায়ী বিরলী গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার খায়েজ আহম্মদের বাড়ির পাশের কালভার্টের নিচ থেকে হামলায় ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার করা হয়।









