তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে সিলেটে এমনিতেই বাড়ছে লোডশেডিং। এর মধ্যে টানা ১০ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে নগরীর কুমারগাঁও ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের আওতাধীন ২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পাওয়ার স্টেশন। এটি নগরবাসীর জন্য মরার উপর খাড়ার ঘাঁ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে বেড়েছে লোডশেডিংয়ের মাত্রা। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) সূত্রে জানা গেছে, কুমারগাঁও পাওয়ার স্টেশনের একটি ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ায় সেটি বন্ধ রাখা হয়েছে। যেহেতু যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আনতে হয়, তাই কবে নাগাদ এটি মেরামত হয়ে পুনরায় চালু হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে তীব্র তাপদাহের সময়ে সিলেটে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরম আকার ধারণ করেছে। দিনে গড়ে প্রায় ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন নগরী। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরের মানুষ। বেশী বিপাকে পড়েছেন অসুস্থ, শিশু ও বয়স্ক নাগরিকগণ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেটের বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কুমারগাঁও ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের ২৫ মেগাওয়াট পাওয়ার স্টেশন প্রায় ১০ দিন ধরে বন্ধ। তাই সিলেটে এখন শুধু গ্রিড থেকে পাওয়ার আনা হচ্ছে। সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে নিজস্ব জেনারেশন সিলেটে আর নেই। তার উপর চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে ন্যাশনাল লোড ডেসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি)। তাই সিলেটে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ক্রমশই চরম আকার ধারণ করেছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কুমারগাওয়ের পাওয়ার স্টেশন চালু না হলে জনদুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে পাওয়ার স্টেশন বন্ধের কারণ ও চালু হওয়ার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানেন না সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) ও কুমারগাঁও গ্রিড উপকেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরতরা।

একদিকে বিউবো কর্তৃপক্ষ বলছে, কুমারগাওয়ের ২৫ মেগাওয়াট পাওয়ার স্টেশন বন্ধ হয়েছে পাওয়ার স্টেশনের ট্রান্সফরমার পুড়ে যাওয়ার কারণে। অপরদিকে বন্ধ হওয়া পাওয়ার স্টেশনের প্রধান প্রকৌশলীও অবসরে চলে গেছেন।

বিউবো সূত্রে জানা যায়, সিলেট নগরীতে পাঁচটি ডিভিশনে ১৩টি সাবস্টেশন আছে। তাপমাত্রা বেশি থাকার কারণে বর্তমানে সমস্যা বেশি হচ্ছে। ফিউজ ছিঁড়ে যাওয়া, তার ছিঁড়ে পড়ে যাওয়া বৃদ্ধি পেয়েছে। তার উপর কুমারগাওয়ের ২৫ মেগাওয়াট পাওয়ার স্টেশন বন্ধ। এই পাওয়ার স্টেশনের ট্রান্সফরমার পুড়ে গেছে প্রায় ১০দিন। এর পর থেকেই সিলেটে লোডশেডিং বেড়ে গেছে এবং ভোল্টেজও কম হচ্ছে। পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে না সিলেটে।

বিউবো সিলেট বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শামস-ই আরেফিন বলেন, 'পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় আমাদের কিছু এলাকায় লোডশেডিং করতে হয়। তার উপর আবার ঢাকা থেকে হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয় বিদ্যুৎ। অথচ এই লোডশেডিংয়ে আমাদের কোনো হাত নেই। তারপরও গ্রাহকরা কেবল আমাদের উপরই ক্ষোভ ঝাড়েন।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল কাদির বলেন, সিলেটের বিদ্যুৎ সরবরাহ হয় কুমারগাও গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে। এই কুমারগাওয়ের ২৫ মেগাওয়াট পাওয়ার স্টেশন বন্ধ। এই পাওয়ার স্টেশনের ট্রান্সফরমার পুড়ে গেছে প্রায় ১০দিন। এটা বন্ধ থাকার কারণে ভোল্টেজও কম হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব কারণে সিলেটের লোডশেডিংও বেড়ে গেছে। আমরা এখন গ্রিড থেকে পাওয়ার আনছি। আমাদের নিজস্ব জেনারেশন সিলেটে আর নেই। এটা চালু হলে সিলেটের লোডশেডিং কমবে। লো ভোল্টেজের সমস্যাও সমাধান হবে। ট্রান্সফরমার পুড়ে গেছে। আর এটার যন্ত্রপাতি বাইরে থেকে আনা হয়। তাই সেটা কবে নাগাদ চালু হবে বলতে পারছি না।