আবারো অভ্যুত্থানের প্রয়োজন হতে পারে মন্তব্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, বাংলাদেশে আরেকটি অভ্যুত্থানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। তিনি তরুণ প্রজন্মকে প্রচলিত রাজনীতির ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে ‘প্রতিবন্ধক’ হিসেবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং কোনো কিছুতে অন্ধ বিশ্বাস না করে সমালোচনামূলক বিচার বুদ্ধি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন।
সোমবার (৯ জুন) বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) মিলনায়তনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ঠাকুরগাঁও চিরন্তন’ আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তরুণদের উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, ‘বাংলাদেশে একটা অভ্যুত্থান হতে হয়েছে এবং যেই ধারা আবারো শুরু হয়েছে, আগামীতে এটার প্রয়োজনীয়তা আসতে পারে। আমাদেরকে ওই ক্রিটিক্যাল জাজমেন্ট এবং থিংকিং-এর জায়গাটাতে থাকতে হবে। এখনো বাংলাদেশের ট্র্যাডিশনাল পলিটিকসটাই বিদ্যমান এবং এটাই রি-এস্টাবলিশ হওয়ার চান্সটা বেশি। কিন্তু আমাদেরকে ওইখানে একটা প্রতিবন্ধক হিসেবে দাঁড়াতে হবে। ইয়াং জেনারেশনের হাত ধরেই এই পরিবর্তনটা এসেছে। লিড নিয়েছিল এই ইয়াং জেনারেশন, যারা স্পেশালি ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট, পরে কলেজ, স্কুল জয়েন করেছে।’
তরুণদের প্রতি অন্ধ বিশ্বাস না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদেরকে যা দেখানো হয়, সেটা রাজনীতিবিদদের লেন্সে হোক, সরকারের লেন্সে হোক, দেশের, দেশের বাইরের লেন্সে হোক, তার সবকিছু সত্য নাও হতে পারে, অনেক ক্ষেত্রে সত্য না। কিন্তু আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ হচ্ছে, আমরা যেন কোনো একটা জিনিসের ওপরে একদম অন্ধ বিশ্বাস না করে ফেলি। সেটা যদি দেশের প্রথম সারির একটা মিডিয়া হয়, তাও না, সেটা যদি দেশের অন্যতম সেরা একজন রাজনীতিবিদ হয়, তাও না।’
পরিবর্তনের দীর্ঘসূত্রিতা প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘আমি আপনাদেরকে বলতে পারি, বাংলাদেশে যদি অভ্যুত্থান না হয়ে একটা বিপ্লব হতো, বিপ্লবী সরকার হতো, তাও আমাদের আকাঙ্ক্ষিত সকল পরিবর্তন সম্পন্ন হতো না। এত বড় একটা চেঞ্জ কোনো দিন কয়েক মাস বা দুই-এক বছরে হয়ে যায় না। কিন্তু আমরা যদি প্রতিবন্ধক হয়ে না দাঁড়াই, আবার ওই সিস্টেমগুলো রি-এস্টাবলিশ হবে, এটা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই প্রবল।’
‘ঠাকুরগাঁও চিরন্তন’-এর সভাপতি সুজন আলীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জিহাদুজ্জামান জিসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন, ইএসডিওর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক শহীদুজ্জামান, গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমিন প্রমুখ।







