নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের হাওরাঞ্চলে শুরু হয়েছে বৈশাখী উৎসব। একে ঘিরে কুলিকুন্ডা গ্রামে বসেছে শতবছরের‌ পুরনো ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি মেলা।

মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) উপজেলা সদরের কুলিকুন্ডা উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয় মাঠে এ মেলা বসে।

মেলায় দেখা মিলছে দেশীয়, সামদ্রিক মাছের শুঁটকিসহ প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আমদানি করা বিভিন্ন প্রজাতির শুঁটকি। যার লোভে ভিড় জমেছে ভোজন রসিকদের। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারো মেলায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

মেলা উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে শুঁটকি নিয়ে হাজির হন ব্যবসায়ীরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ আশপাশের জেলা থেকেও শুঁটকি কিনতে ভিড় জমান ভোজন রসিকরা।

জানা যায়, এবার প্রায় দুই শতাধিক জাতের শুঁটকির পসরা নিয়ে বসেছেন দোকানিরা। এসব শুঁটকির মধ্যে ছিল বোয়াল, গজার, শোল, বাইম, ছুড়ি, লইট্টা, পুটি, টেংরা, কাইকা, আলুনি, চাপলিসহ নানা জাতের দেশীয় মাছের শুঁটকি। এছাড়াও মেলায় ভারত থেকে আমদানি করা বিভিন্ন প্রজাতির শুঁটকির দেখা মিলেছে।

এদিকে মেলায় জেলার বিভিন্ন এলাকার শুঁটকি ব্যবসায়ী ছাড়াও চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, আশুগঞ্জ, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ থেকে শুঁটকি নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দোকানে থাকা সামুদ্রিক বিরল জাতীয় মাছের শুঁটকিসহ ইলিশ ও কার্প জাতীয় মাছের ডিমের শুঁটকি লোভ জমিয়েছে ক্রেতাদের।

স্থানীয়রা জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাংলা পঞ্জিকার নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে উপজেলার কুলিকুন্ডা গ্রামে এ শুঁটকি মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপি নেতা মো: কামরুল আলম ভূইয়া নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘প্রায় দুই শ‘ বছরেরও অধিক সময় ধরে পহেলা বৈশাখে এখানে শুঁটকির মেলা বসে। এ শুঁটকি মেলার বড় বৈশিষ্ট হচ্ছে ‘বিনিময় প্রথা’। অর্থাৎ পণ্যের বিনিময়ে পণ্য। তবে এ পণ্যের বিনিময়ে পণ্য প্রথা গত দুই বছর ধরে দেখা যায়নি। এ বছর স্বল্প আকারে বিনিময় প্রথা দেখা গেছে।’

উপজেলার কুলিকুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা মজিবুর রহমান সর্দার বলেন, ‘মেলায় এখনো বিনিময় প্রথা চালু থাকায় আমরা ধারণা করছি, এ মেলা আদিম কালের। মেলাটি আমাদের কুলিকুন্ডা গ্রামের ঐতিহ্য বহন করে।’

শুঁটকি কিনতে আসা মহব্বত আলী বলেন, ‘প্রাচীনকালে যখন কাগজের মুদ্রা প্রচলন হয়নি তখন থেকেই কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের বিনিময়ে এখান থেকে শুঁটকি কিনতেন। কালের বির্বতনে এ মেলার জৌলুস অনেকটা কমেছে। হ্রাস পেয়েছে বিনিময় প্রথাও। ঐতিহ্য হিসেবে এ মেলায় শুঁটকি কেনার জন্য এসেছি। ছোট বেলায় বাবার সাথে আসতাম।’

এদিকে মেলায় শুঁটকি নিয়ে আসা ব্যবসায়ী কৃষ্ণদাস বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে হ্রাস পেয়েছে ঐতিহ্যবাহী পণ্য বিনিময় প্রথা। এখন নামে মাত্র এ প্রথা চালু আছে। আমি প্রতি বছরই শুঁটকি নিয়ে মেলায় আসি।’

স্থানীয়রা জানান, এক দিনের মেলায় লাখ লাখ টাকার শুঁটকি বিক্রি হয়। এছাড়া মেলায় গৃহস্থালী পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের খেলনা বিক্রি হয়।

এদিকে এবার শুঁটকির আমদানি বেশি হলেও দাম বেশ চড়া ছিল বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ।