জুলাই অভ্যুত্থান বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাদারীপুর জেলা বিএনপির বিজয় মিছিলে হামলায় স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা ও তার দুই ভাই সহ চারজনকে কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুইজনকে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুরে শহরের ডিসিব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- মাদারীপুর পৌরসভার ‘নতুন মাদারীপুর’ গ্রামের আজিজ মুন্সির ছেলে লিখন মুন্সি, মিলন মুন্সি ও সোহাগ মুন্সি ও একই এলাকার মামুন ঢালির ছেলে আবির ঢালি। তাদের মধ্যে লিখন মুন্সি শ্রমিকদল নেতা শাকিল মুন্সি হত্যা মামলার আসামি ও নিষিদ্ধঘোষিত মাদারীপুর পৌর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জেলা বিএনপির আয়োজনে গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে একটি বিজয় মিছিল শকুনি লেকেরপাড় থেকে বের হয়ে ইটেরপুলের দিকে রওনা দেয়। এতে অংশ নেয় লিখন মুন্সিসহ তার চারভাই। এ সময় পেছন থেকে লিখনের মেঝভাই মিলনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় কুপিয়ে জখম করা হয় মিলনকে। তাকে বাঁচাতে লিখন ও সোহাগ এগিয়ে আসলে তাদেরকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। আহতদের ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে তিনভাইকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হলে দুইজনকে পাঠানো হয়েছে ঢাকা মেডিক্যালে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে থানা পুলিশ। এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা পুলিশের। এদিকে তিনভাইকে কুপিয়ে পালিয়ে যাবার সময় ধাওয়া দিয়ে একই এলাকার মামুন ঢালীর ছেলে আবির ঢালীকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে আবির ফরিদপুর মেডিক্যালে ভর্তি রয়েছে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, ‘শ্রমিকদল নেতা শাকিল মুন্সি হত্যাকাণ্ডের জেরে এই হামলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। এদিকে লিখন মুন্সির লোকজন আবির ঢালী নামে একজনকে কুপিয়ে আহত করেছে, তাকে ফরিদপুর মেডিক্যালে নেয়া হয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আর শ্রমিকদল নেতা শাকিল মুন্সি হত্যাকান্ডের জেরেই এই ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, ২৩ মার্চ রাতে মাদারীপুর সদর উপজেলার ‘নতুন মাদারীপুর’ এলাকায় সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি (একাংশ) ও নতুন মাদারীপুর এলাকার মোফাজ্জেল মুন্সির ছেলে শাকিল মুন্সিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় ২৬ মার্চ দুপুরে নিহতের বড়ভাই হাসান মুন্সি বাদি সদর মডেল থানায় ৬৭ জনের নামে একটি হত্যা মামলা করেন। সেই মামলায় আসামি করা হয় লিখন মুন্সিকে।









