সিলেট বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খান মো: রেজা-উন-নবী বলেছেন, ‘রাষ্ট্র ও সরকারের সকল প্রতিষ্ঠানের কাজ হচ্ছে জনকল্যাণ ও জনআকাঙ্খার বাস্তবায়ন করা। কিন্তু দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার ও সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এজন্য সবার আগে আমাদের নৈতিক ও মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। যেকোনো ক্ষেত্রে সামর্থ্য না থাকলে সেবা নিশ্চিত করা যাবে না। তাই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর সংস্কার ও সামর্থ্য বাড়াতে হবে। সিলেটের স্বাস্থ্যখাতে চিকিৎসক ও জনবল সংকট দূর করতে অন্তর্বর্তী সরকার আন্তরিক। শীঘ্রই এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
শুক্রবার (২৫ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের উদ্যোগে ও সিলেটের জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ওই কথা বলেন।
সেমিনারে জেলার বিভিন্ন উপজেলার ইউএনও, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কর্মকর্তা, এলজিইডিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কমিউনিটি ক্লিনিকের বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী অংশ নেন।
খান মো: রেজা-উন-নবী বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টেও তথ্যমতে গত ১৫ বছরে ১৬৩ কোটি মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছেন। তারা মানুষকে ১০ রকমের সেবা ও ২২ ধরণের ওষুধ বিনামূল্যে প্রদান করেন। যা একটি দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকের গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে। তবে এইখানেও নানা ত্রুটি বিচ্যুতি রয়েছে। এসব দূর করতে হবে। দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট সিস্টেম পরিহার করে সবার আগে নাগরিকের কল্যাণের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে। তাহলে সরকারও আপনাদেরকে প্রাধান্য দেবে। অবকাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করবে। বিদেশী দাতা গোষ্ঠী ও সংস্থা ওপেক ও জাইকার মাধ্যমে দেশে পাঁচ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ হলে প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবা আরো প্রসারিত হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার খান মো: রেজা-উন-নবী আরো বলেন, ‘সরকারের জনকল্যাণমূখী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো। সমাজের অবহেলিত হতদরিদ্র মানুষগুলো সেইখানে যায়। আর যাদের অর্থ সম্পদ আছে তারা প্রাইভেট চিকিৎসা নেয়। আমাদের মনে রাখতে হবে জনগণের টাকায় আমাদের বেতন হয়। সবার আগে জন আকাঙ্খাকে প্রাধান্য দিতে হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে পরিচালিত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত ও জনবল সংকট দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
সিলেটের জেলা প্রশাসক শের মো: মাহবুব মুরাদের সভাপতিত্বে ও কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) নাসির উদ্দিনের পরিচালনায় 'প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে কমিউনিটি ক্লিনিকে কার্যক্রম জোরদারকরণ' সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আখতারুজ্জামান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক সূবর্ণা সরকার, স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা: নূরে আলম শামীম।
বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক নিয়াজুর রহমান, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসের সিলেট ব্যুরো প্রধান সেলিম আউয়াল, ব্লাস্টের অ্যাডভোকেট ইরফানুজ্জামান চৌধুরী, গণদাবী পরিষদের চৌধুরী আতাউর রহমান আজাদ, মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহমদ, ওসমানীনগর উপজেলার ইউএনও জয়নাল আবেদীন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সুদর্শন সেন, বিয়ানীবাজার উপজেলার একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য কর্মী নাজমা বেগম, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য কর্মী আকরামুল হক চৌধুরী। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিলেটের সিভিল সার্জনের পক্ষে মেডিকেল অফিসার ডা: স্বপ্নীল সৌরভ রায়।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আখতারুজ্জামান বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীগণ নিজের পরিজনকে সামলিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে কাজ করছেন। তারা সামর্থ্যরে সবটুকু উজাড় করে তৃণমূল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করছেন। প্রতি বছর এই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো ১৬ কোটি মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। যা রাষ্ট্র ও সরকারের জন্য বিশাল সাপোর্ট। তৃণমূলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনবল সংকটের বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। দাতা সংস্থা ওপেক ও জাইকার যৌথ উদ্যোগে দেশে ৫ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে।









