বহুল প্রত্যাশিত রাজশাহী মহানগর বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ রোববার (১০ আগস্ট)। নগরীর পাঠানপাড়া ঈদগাহ মাঠের সামনে সড়কে বেলা আড়াইটায় মহানগর বিএনপির সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
জানা গেছে, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ইতোমধ্যে সম্মেলনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রাজশাহী মহানগর বিএনপির সম্মেলন ঘিরে উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা। তাই এই সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশা তাদের।
বহু আগে থেকেই রাজশাহী বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি পেলেও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের শাসনামলে এর ছেদ ঘটে। শেখ হাসিনার পতনের পর এখন হারানো ও অতীত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে চায় দলটি। রাজশাহী যে আসলেই বিএনপির ঘাঁটি তা বাস্তবে প্রমাণ রাখতে চায় তারা। রাজশাহী মহানগর বিএনপির সম্মেলন ঘিরে উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা।
দীর্ঘদিনের চাওয়া এই সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি চাঙাভাব তৈরি হয়েছে। তবে এবার নেতাকর্মীরা চাচ্ছেন সিনিয়র জুনিয়র সমন্বয়ে নতুন নেতৃত্ব উঠে আসুক মহানগর কমিটিতে।
এবার মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে পুরনোদের আধিপত্য কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতানুগতিক ধারার নেতৃত্ব থেকে এবার নতুনত্ব দিতে চায় দলটি। কিন্তু দেড় দশক আওয়ামী সরকারের নির্যাতন-নিপীড়নের কারণে ঘরবাড়ি ছাড়া ছিলেন দলটির নেতাকর্মীরা। পুলিশি হামলা ও হয়রানিতে দুর্বল হয়ে পড়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম। তাই নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এবার মহানগর বিএনপির সম্মেলনের মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে স্বরূপে ফিরতে পারে দলটি।
জানা গেছে, রাজশাহী মহানগর কমিটিকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরাসরি নজর রাখছেন। দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে এবারের সম্মেলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
নেতাদের সাথ কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন রাজশাহী বিএনপিতে প্রভাব বিস্তার করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কবির হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক মেয়র ও সাবেক এমপি মিজানুর রহমান মিনু ও অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফার অনুসারীরা।
এদের মধ্যে কবির হোসেন ও নাদিম মোস্তফার মৃত্যু হওয়ার পর রাজশাহীর নেতাকর্মীদের একটি অংশ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। আরেকটি অংশ মিজানুর রহমান মিনুর সাথে যোগাযোগ রাখছেন। এ অবস্থায় রাজশাহী মহানগর বিএনপির সম্মেলন ঘিরে নতুন হিসাবনিকাশ করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্র মতে, সবশেষ ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর এরশাদ আলী ঈশাকে আহ্বায়ক ও মামুন অর রশিদ মামুনকে সদস্য সচিব করে রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটি এখনো বহাল রয়েছে।
এর আগে ২০১৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর কেন্দ্র থেকে সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে সভাপতি ও শফিকুল হক মিলনকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। তারও আগে দীর্ঘদিন ধরে মিজানুর রহমান মিনু সভাপতি ও শফিকুল হক মিলন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং শফিকুল হক মিলন কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক হন।
দীর্ঘদিন পর মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে এই সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল সভাপতি এবং মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মামুন অর রশিদ মামুন সাধারণ সম্পাদক হতে পারেন। অথবা মামুন অর রশিদ মামুন সভাপতি ও যুবদলের রাজশাহী মহানগর আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন সাধারণ সম্পাদক হতে পারেন।
নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, যারা বিগত ১৫ বছরে হামলা মামলার শিকার হয়েছেন, জেলে গেছেন, রাজপথে ছিলেন এবং সৎ ও যোগ্য; তারা নেতৃত্বে আসবেন। আর যারা বিগত সময়ে ম্যানেজ পলিটিক্স করেছেন এবং আগামীতে এ ধরনের ম্যানেজ পলিটিক্স করতে পারেন তারা যেন নেতৃত্বে না আসতে পারেন এটাই তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাওয়া।
নেতারা জানান, সম্মেলন সামনে রেখে এরই মধ্যে ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ে কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলন সফল করতে মহানগরীর প্রতিটি ইউনিটে কর্মিসভা, মতবিনিময় ও প্রচার কার্যক্রম চালানো হয়। সম্মেলনে এবার প্রায় ৭০০ কাউন্সিলর রয়েছে। তবে সরাসরি ভোটে নেতা নির্বাচন করা হবে নাকি কেন্দ্র থেকে ঘোষণা দেয়া হবে, তা নিশ্চিত করতে পারেননি কেউই।
সূত্র জানায়, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সম্মেলন সংক্রান্ত সার্বিক প্রস্তুতির জন্য দলের দু’সহ-সাংগঠনিক সম্পাদককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা হলেন আমিরুল ইসলাম খান আলীম ও ওবায়দুর রহমান চন্দন।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মামুন অর রশিদ মামুন বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চাইলে আমি মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে আসবো। রাজশাহী বিএনপির ঘাঁটি। এই ঘাঁটি আবারো আমরা পুনরুদ্ধারের করতে চাই। তবে দেশনেতা তারেক রহমান যাকেই নেতৃত্বে দেবেন আমরা তাকেই মেনে নেব।
মাহফুজুর রহমান রিটন জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যাকে যোগ্য মনে করবেন, তিনিই নেতৃত্বে আসবেন। তবে সৎ, যোগ্য ও দলের জন্য নিবেদিত এমন নেতৃত্ব আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী ঈশা জানান, দলকে আরো সংগঠিত ও শক্তিশালী করতেই এই সম্মেলনের আয়োজন। বিএনপি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে রাজশাহীতে এটি হবে একটি ঐতিহাসিক সম্মেলন। এবার প্রায় ৭০০ কাউন্সিলর থাকছেন। এ সম্মেলনের পর দলের সব বিভেদ দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।









