ফেনীতে ইসকনের মিছিলে নেতৃত্ব দেয়া শিক্ষক মৃণাল কান্তি দাসকে পিটিয়েছে স্থানীয়রা। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
আহত মৃণাল সরিষাদী বালিকা বিদ্যানিকেতনের সহকারী প্রধান শিক্ষক।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, চব্বিশের জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পটপরিবর্তনের পর মৃণাল কান্তি দাসকে নিয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে এলাকাবাসী। এরপর চিন্ময় কৃষ্ণপ্রভুর মুক্তি দাবিতে ফেনী শহরে ইসকনের মিছিলে নেতৃত্ব দেয়ার পর মৃণালকে স্কুলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে তিনি স্কুলে গিয়ে অবরুদ্ধ হলে পুলিশ উদ্ধার করে। এরপর দীর্ঘদিন তিনি আর স্কুলে য়াননি। বৃহস্পতিবার সকালে মৃণালকে নিয়ে ওই স্কুলে যান জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ টি এম সামছুল হক চৌধুরীসহ কয়েকজন শিক্ষক। স্থানীয়দের বাধার মুখে মৃণাল কান্তি স্কুলে ঢুকতে পারেননি।
জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ টি এম সামছুল হক চৌধুরী জানান, তিনি সহ শিক্ষক নেতারা মৃণালকে স্কুলে ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেখানে পরিস্থিতি বুঝে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে খোঁজখবর নেন। ফেরার পথে রেললাইন সংলগ্ন স্থানে মৃণালকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয়।
সরিষাদী বালিকা বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন জানান, সহকারী প্রধান শিক্ষক মৃণাল দাসের বিষয়ে উপজেলা প্রয়াসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কমিটিতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ছাড়াও সরিষাদী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর উদ্দিন ও স্থানীয় রুহুল আমিন বাচ্চু রয়েছেন।
তদন্ত কমিটির সদস্য সরিষাদী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর উদ্দিন জানান, তদন্ত কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্রুতসময়ে প্রতিবেদন দিতে তাগিদ দেয়া হয়েছিল। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অবসর গ্রহণের পর তদন্ত কার্যক্রম থমকে যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরীন কান্তা জানান, সহকারী প্রধান শিক্ষককে ইতিপূর্বে অবরুদ্ধ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ওই শিক্ষকের স্কুলে যাওয়ার বিষয়ে তাকে জানানো হয়নি। হামলার ঘটনা জেনে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সজল দাস জানান, ঘটনাটি তারা শুনেছেন। তবে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পাননি।









