বিয়ানীবাজার (সিলেট) সংবাদদাতা
বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে প্রথমে অপসারণ করা হয়, অতঃপর ইউপি সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি আলতাফ হোসেন নিজেকে ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ ঘোষণা দিয়ে চেয়ারম্যানের আসন দখল করেন। এ ঘটনা নিয়ে যখন উপজেলাব্যাপী আলোচনা-সমালোচনা চলছে, ঠিক তখনই নতুন আলোচনার জন্ম দিলেন ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ আলতাফ।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় আলতাফ হোসেন জানিয়েছেন, ‘তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত নন।’ তার এই দাবিই তাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। এই মন্তব্যের জেরে স্থানীয়রা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলতাফ হোসেনের অতীত কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তার এ বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করছেন।

একইসাথে আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন এলাকাবাসীসহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যগণও। এরই মধ্যে মাথিউরা ইউনিয়নের ছয়জন ইউপি সদস্য তার ‍বিরুদ্ধে সিলেটের জেলাপ্রশাসকক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার (২২ মে) ‘ইউনিয়নবাসী’র ব্যানারে মাথিউরা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে তার বিরুদ্ধে মানব বন্ধনেরও আয়োজন করা হয়।

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, মাথিউরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমান উদ্দিনকে গত সোমবার (১৯ মে) স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আর বুধবার (২১ মে) থেকেই শূন্য পদে প্যানেল চেয়ারম্যান-১ আলতাফ হোসেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

ওই সূত্রের অভিযোগ- প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই আলতাফ হোসেন নিজেই এই দায়িত্ব দখল করেছেন এবং ফেসবুকে নিজেকে ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ দাবি করে পোস্ট করেছেন। পাশাপাশি ওই পোস্টে ইউনিয়নরবাসীর সহযোগিতা চান তিনি।

আলতাফ হোসেনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নেয়া এবং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের নিয়ে কোনো সাধারণ সভা না করায় তার দায়িত্ব পালন নিয়ে আপত্তি তুলেছেন ওই ইউনিয়নের ছয়জন সদস্য। তারা বিষয়টি লিখিতভাবে সিলেটের জেলাপ্রশাসককে অবহিত করেছেন। বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগপত্রটি দেয়া হয়েছে।

প্যানেল চেয়ারম্যান-২ ফয়জুল হক নজমুল বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যে প্রক্রিয়ায় তিনি প্রভাব খাটিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। সে একই প্রক্রিয়ায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এটি কোনোভাবে আইনসিদ্ধ নয়। আমরা বিষয়টি সিলেটের জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছি।

তিনি বলেন, চেয়ারম্যান বরখাস্ত হওয়ার পর তার কার্যালয় তালাবদ্ধ ছিল। আমরা জেনেছি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার ট্রেনিংয়ে ঢাকায় গেছেন। তাহলে চেয়ারম্যানের কার্যালয় কার অনুমতি নিয়ে খোলা হয়েছে।

ঢাকায় অবস্থানরত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মুস্তফা মুন্না বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সেটি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের কার্যালয় কারো অনুমতি না নিয়ে যে প্রক্রিয়ায় খোলা হয়েছে, সেটি ঠিক হয়নি। এখানে নিয়মের ব্যাঘাত হয়েছে। এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে তিনি যেসকল কাগজপত্রের স্বাক্ষর করেছেন সেগুলো বাতিল হবে।