লক্ষ্মীপুর জেলা জুড়ে বুধবার সন্ধ্যা থেকে আজ বৃহস্পতিবারও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারে কমলনগরের চরমার্টিন এলাকায় রাস্তা ভেঙ্গে পানি লোকালয়ে ঢুকেছে। প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা।

টানাবৃষ্টির কারণে পৌরশহরের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। গতবারের মতো বন্যার আশঙ্কাও করছেন অনেকে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া সুস্পষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। আর এর প্রভাবেই এই বৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলার রামগতি আবহাওয়া সতর্কীকরন অফিসের কর্মকর্তা মো: সৌরভ হোসেন।

তিনি জানান, সাগরে লঘুচাপটি বৃহস্পতিবার সকালে নিম্নচাপে রূপ নেয়। এই কারণে আগামী ১ জুন পর্যন্ত বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাথে ঝড়ো হওয়ায় বইতে পারে বলে জানান তিনি।

পাশাপাশি মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করা জেলেদেরকে পরবর্তী নির্দেশ দেয়া না পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদ থেকে মাছ শিকারের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ মে) দুপুর থেকে বৈরী আবহাওয়া ও সাগর উত্তাল থাকায় মেঘনা উপকূলীয় লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরী ফেরিঘাটের সাথে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে মেঘনা অঞ্চল।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, মেঘনার উপকূলীয় রায়পুরের তিনটি ইউনিয়নে মূল ভূখণ্ডের বাইরে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় পাঁচটি নতুন চর জেগেছে। জেগে ওঠা এসব চরে মানুষ বসবাস শুরু করেছেন। প্রায় ২০ কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।

কানিবগারচর, টুনুর চর, চরবংশী, মিয়ারহাট, চরকাছিয়া, চরজালিয়া, চরইন্দ্ররিয়াসহ কয়েকটি চরে ধান চাষের পাশাপাশি রয়েছে গরু ও মহিষের পাল। প্রাকৃতিক দুর্যোগে চরগুলো কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেলে নৌকা ও গাছে অবস্থান নিয়ে মানুষ রক্ষা পেলেও প্রাণহানি হয় পশুগুলোর। জোয়ারে অনেক গবাদিপশু ভেসে যায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরসহ উপকূলীয় চারটি উপজেলায় প্রায় ৩৭ কিলোমিটার উপকূলীয় বাঁধ রয়েছে; যার মধ্যে প্রায় ৩১ কিলোমিটার বাঁধই ঝুঁকিপূর্ণ। রায়পুরে ২০ কিলোমিটার খুবই ঝুঁকিপুর্ণ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি রয়েছে। প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সময়মতো মেরামতের উদ্যোগ নিলে কম খরচ ও কম সময়ের মধ্যে মানসম্মত কাজ করা সম্ভব।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খান জানান, উপকূলীয় এলাকার বিশেষ করে রায়পুর, কমলনগর, রামগতি উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ অনেকটাই সংস্কার করা হয়েছে। আরো কয়েকটি এলাকা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি এলাকায় টেকসই বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। অবশিষ্ট অংশগুলো ও দ্রুত সংস্কারের জন্য ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার জানান, এখনো আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি। ঘূর্ণিঝড়ের খবরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।