‘বেআইনি ক্ষমতা দখল বন্ধ না করলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না’ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেছেন, ‘নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কিনা বিষয়টি সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সেনাবাহিনী ওপর নির্ভর করবে।’
শুক্রবার (২০ জুন) সকালে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে জেলা শাখার উদ্যোগে পৌরসভা ও ইউনিয়ন শাখা জামায়াতের সভাপতি ও সেক্রেটারিদের দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কিনা এ বিষয়টি তিনটি সত্যির উপর নির্ভর করে। একটা হলো, বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বাধীন সরকার, দ্বিতীয়টা হলো, নির্বাচন কমিশন এবং তৃতীয়টা হলো সেনাবাহিনী। আমরা পর্যবেক্ষণ করবো, যদি দেখি লেভেল প্লেইং ফিল্ড গঠিত হয় নাই, যে কারণে হচ্ছে না, সে কারণটি উল্লেখ করে দূর করার জন্য বলা হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘কোনো ইলেকশন হয় নাই, আদালতের আদেশ শেষ, নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা শেষ, সরকারের বক্তব্য শেষ, মেয়াদও শেষ এরপরও নগর ভবন দখল করে আনহল্ডফুল পাওয়ার এক্সারসাইজ (বেআইনি ক্ষমতা দখল) করে আছে। এই আনহল্ডফুল পাওয়ার দেখিয়ে ম্যাসেজ দেয়া হচ্ছে, আগামী দিনে নির্বাচন হোক বা না হোক আমরাই এ দেশ পরিচালনা করবো। এটার নাম লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নয়। সুতরাং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড গঠন করতে হলে এ ধরণের বেআইনি ক্ষমতা দখল বন্ধ করতে হবে। যদি বন্ধ করতে না পারেন, তাহলে বুঝা গেল যে, নির্বাচন নিরপেক্ষ হবার পরিবেশ তৈরি হয় নাই।’
জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রব, সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. ছামিউল হক ফারুকী, জেলা নায়েবে আমির কামরুল হাসান মিলনসহ স্থানীয় নেতারা।
অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন কতটুকু নিরপেক্ষ থাকেন তা পরীক্ষা হবে, নির্বাচন কমিশনকে বলা হয়েছে দেশের প্রত্যেকটি ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা রাখবে হবে। সেখানে কে মাস্তানি করে তা বুঝা যাবে। কারণ সিসি ক্যামারায় রেকর্ড হয়ে গেলে সহজেই পরিবর্তন করা যায় না। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক আসবেন এবং দেখবেন। প্রয়োজনে নির্বাচন একদিনে নয়, একাধিক দিনে হবে। যত ধরনের মাস্তানি আছে সব বন্ধ করার প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হবে। আর নির্বাচন কমিশন যদি সেটা করতে চান তাহলে বুঝা যাবে জনগণের পক্ষে তারা কাজ করছেন। আর যদি না চান তাহলে বুঝতে হবে তারা একটি বিশেষ দলের পক্ষ হয়ে কাজ করছেন। এটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নয়। কাজেই তারা এখন অগ্নি পরীক্ষায় আছেন।’
জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা আরো বলেন, ‘সেনাবাহিনী আমাদের সম্মান ও শ্রদ্ধার পাত্র। সেনাবাহিনী জনগণের পক্ষে থাকবে। কোনো বিশেষ দলকে পূনর্বাসিত করা, কোনো পক্ষের সমর্থন করার সুযোগ বাংলাদেশে কোনো কর্তৃপক্ষের নেই এবং কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থার নেই। জনগণের মধ্যে সবাই আছে। জনগণের মধ্য থেকে যারা কাজ করতে চান, সেটা করার জন্যই সেনাবাহিনী জনগণের পাশে থাকবে। এটাই সেনাবাহীনীর কাছে আমাদের প্রত্যাশা এবং সেনাবাহিনী সেই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করবে এটাই সবাই চায়।’









