ইবি প্রতিনিধি
জাতীয় ছাত্রশক্তি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার নবগঠিত কমিটিকে ঘিরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত অংশগ্রহণকারীদের মূল্যায়ন না করা এবং সাবেক ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের কর্মীদের নেতৃত্বে আনাসহ নানা অভিযোগ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেছে শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস কর্নারে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। এতে সংগঠনটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মুবাশ্বির আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক মিশনু আল আসনাউন, সদস্য নিরব আলীসহ অন্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় তারা অবিলম্বে জাতীয় ছাত্রশক্তি ইবি শাখার নবগঠিত কমিটি প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মুবাশ্বির আমিন অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ৫ জুলাই ইবি ছাত্রশক্তির কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সাথে দেখলাম, জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে উঠে আসা রাজনৈতিক সংগঠন এনসিপির ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তিতে জুলাইয়ের প্রকৃত লড়াকু যোদ্ধাদের বিন্দুমাত্র মূল্যায়ন করা হয়নি। জুলাইয়ের স্পিরিটকে পদদলিত করে এবং শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে যাদের নেতৃত্বে আনা হয়েছে, তারা বিগত স্বৈরাচারী আমলের ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের সুবিধাবাদী কর্মী।’
তিনি বলেন, ‘এই তথাকথিত কমিটির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান ফ্যাসিবাদী আমলে ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত ছিলেন। এ বিষয়ে আমাদের কাছে যথেষ্ট ছবি ও প্রমাণ রয়েছে। এছাড়া ৫ আগস্টের পর শাহ আজিজুর রহমান হলে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের জন্য তিনিই মধ্যস্থতা করেছিলেন। সদস্য সচিব ইফতেহার উদ্দিনও অতীতে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ছাত্রদলের কমিটিতে জায়গা পাওয়ার জন্য সিভি জমা দেন। এ বিষয়ে একাধিক সংবাদ ও প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের রাজপথের পরীক্ষিত ক্যাম্পাস নেতৃত্বকে অবমূল্যায়ন করে ছাত্রদলের ‘বি-টিম’ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে কমিটি গঠন করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগকে অবমাননা করা হয়েছে। এটি একটি হাইব্রিড পকেট কমিটি। আমরা এই কমিটিতে প্রত্যাখ্যান করছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তি ইবি শাখার আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান বলেন, ‘কমিটিতে থাকা তিনজনের কারো ছাত্রলীগে কোনো পদ-পদবি ছিল না। এমনকি ছাত্রলীগে পদ পাওয়ার জন্য সিভি জমা দেয়ারও কোনো প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। অভিযোগকারী ব্যক্তি কমিটি ঘোষণার দিন, ৫ জুলাই রাতে আমাকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। তিনি পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং নির্দিষ্ট একটি পদের নিশ্চয়তা চান। আমি তাকে বলেছিলাম, সাংগঠনিক কার্যক্রমের ভিত্তিতে কেন্দ্র বিষয়টি বিবেচনা করবে। এরপর হঠাৎ তিনি কেনো এমন বক্তব্য দিচ্ছেন, তা আমার জানা নেই।’
প্রসঙ্গত, গত ৫ জুলাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ফুয়াদ হাসানকে আহ্বায়ক, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ইফতেহার উদ্দিন তামিমকে সদস্য সচিব এবং আল-হাদিস বিভাগের যায়েদ বিন ওসমানকে মুখ্য সংগঠক করে ইবি শাখার তিন সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে জাতীয় ছাত্রশক্তি। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার আগামী এক বছরের জন্য এ কমিটির অনুমোদন দেন এবং সাত দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেন। এরপর থেকেই নবগঠিত এ কমিটিকে ঘিরে নানা বিতর্ক ও অভিযোগ উঠছে।









