চুয়াডাঙ্গা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার প্রদান করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের চেম্বার ভবনের আব্দুল্লাহ কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষায় এ প্লাস প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলার ২৫০ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সম্মাননা হিসেবে ক্রেস্ট ও পুরস্কার প্যাকেজ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শিক্ষার্থীদের মন জয় করে নেয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি সাগর আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, প্রধান আলোচক হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আমির মো: রুহুল আমিন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় গবেষণা সম্পাদক মো: ফখরুল ইসলাম, সাবেক কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: মাহবুব হোসেন মিলন।

প্রধান অতিথি আমিরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিস্ট সরকারকে যেভাবে এ দেশের ছাত্রসমাজ রাস্তায় নেমে প্রতিরোধ করেছে এবং অবশেষে এদেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়। আগামী দিনে এ দেশের ছাত্রসমাজ আর কোনো শক্তির কাছে মাথা নত করবে না। সত্য, ন্যায় ও জনগণের অধিকারের জন্য তারা সর্বদা দৃঢ় অবস্থান নেবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা এমন একদল তরুণ তৈরি করতে চাই, যারা হবে সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও নৈতিকতাসম্পন্ন, যারা আগামীর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে এবং বিশ্ব দরবারে দেশের মর্যাদা উজ্জ্বল করবে।

তিনি বলেন, মেধাবী হওয়ার পাশাপাশি তোমাদের দেশপ্রেমিক ও সত্যিকার অর্থে সুন্দর মানুষ হতে হবে। সুন্দর মানুষের গুণাবলীর মধ্যে রয়েছে, সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, নৈতিকতা ও ন্যায়ের প্রতি অবিচল অবস্থান। এই গুণগুলো নিজেদের মাঝে ধারণ করতে হবে।

তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি। কেবল মেধার সম্মান বা সংবর্ধনা পাওয়ার জন্য নয়, বরং প্রকৃত সাফল্যের জন্য পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে হবে এবং নৈতিক শিক্ষার পরিধি আরও বাড়াতে হবে।’

প্রধান আলোচক মো. রুহুল আমিন বলেন, বাংলাদেশে গোল্ডেন এ প্লাস কিংবা এ প্লাস পাওয়া অনেক শিক্ষার্থী পরবর্তীতে দক্ষ চিকিৎসক ও প্রকৌশলী হয়েছেন। তাদের জ্ঞানের ঘাটতি নেই, কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক সময় দেখা যায়, একজন চিকিৎসক বিনা কারণে রোগীকে অতিরিক্ত পরীক্ষা করাচ্ছেন, একজন প্রকৌশলী মানসম্মত রডের পরিবর্তে নিম্নমানের বাঁশ ব্যবহার করছেন। জ্ঞান তাদের আছে, কিন্তু অভাব রয়েছে নৈতিকতার। এই নৈতিকতা অর্জন করতে হলে আমাদের কোরআন পড়তে হবে, কোরআন জানতে হবে এবং কোরআন বুঝতে হবে। একসময় বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জনে প্রায় ৬০ জন কোরআন পড়তে পারতেন; অথচ আজ সে সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে হয়তো সাতজনেরও নিচে। তাই যেমন মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে আপনারা গোল্ডেন এ প্লাসের সম্মাননা পাচ্ছেন, তেমনি কোরআন শিখে ও বুঝে আখিরাতেও সম্মানিত হওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে।