বান্দরবানের রুমায় সেনাবাহিনীর অভিযানে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) এক কমান্ডারসহ দুজন নিহত হয়েছে। এ সময় সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি এসএমজি, একটি চাইনিজ রাইফেল, ৪৫১ রাউন্ড বিভিন্ন অস্ত্রের গুলিসহ নানা সরঞ্জাম।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ভোরে উপজেলার পলি প্রাংশা এলাকায় নাইতং পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, গোপন সংবাদে খবর পাওয়ার পর সেনাবাহিনী সেখানে অভিযান চালায়। উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের পর দুজন সন্ত্রাসী নিহত হয়। সেখান থেকে একজন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকেও আটক করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিহত দুজনের মধ্যে একজন লালমিন থাং বম। তিনি সাত সদস্যের ওই গ্রুপটির কমান্ডার ছিলেন। যদিও পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিহতদের নাম-ঠিকানা জানানো হয়নি। সন্ধ্যায় সেনাবাহিনী রুমা থানা পুলিশকে লাশ হস্তান্তর করেছে।
এদিকে, এ ঘটনার পর ওই এলাকায় সেনাবাহিনীর অভিযান ও তল্লাশি চলমান রয়েছে। আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বিকেলে চট্টগ্রামের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের এরিয়া কমান্ডার জিওসি মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান রুমা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এছাড়া সন্ধ্যায় রুমা জোনের অধিনায়ক লে. কর্নেল আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিং করেন।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, ফেসবুকে পেজ খুলে ২০২২ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট বা কেএনএফ। বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি জেলার নয়টি উপজেলা নিয়ে একটি আলাদা রাজ্য গঠনের ঘোষণাও দেয় তারা। কয়েকটি সশস্ত্র অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজি এবং হত্যার অভিযোগ উঠতে থাকে শুরু থেকেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষের পর আলোচনার টেবিলেও বসে তারা। কিন্তু এর মধ্যেই বান্দরবানের রুমা ও থানচি উপজেলায় দুটি ব্যাংকের তিনটি শাখায় সশস্ত্র হামলা করে টাকা ও অস্ত্র লুটের পর আলোচনায় আসে এই সশস্ত্র সংগঠনটি। গত দু’বছরে এই সংগঠনটির সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে ছয় সেনা সদস্যসহ অন্ততপক্ষে ২৫ জন নিহত হয়। গ্রেফতার করা হয় কেএনএফের দেড় শতাধিক সদস্যকে।









