সিলেট বিভাগে হামের প্রকোপে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে হাম ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৪ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ৯৮ জন সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩০৮ জন সন্দেহজনক রোগী।

সোমবার (২৪ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মো: মাহবুবুল আলম এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী সাড়ে ১০ মাস বয়সী শিশু সাকিব হবিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বাসিন্দা।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হওয়া ৯৮ জনের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৪০ জন, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৪৬ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে একজন ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১১ জন ভর্তি হয়েছে।

বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩০৮ জন সন্দেহজনক হাম রোগীর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৫১ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০৫ জন, রাজীব রাবেয়া মেডিক্যাল হাসপাতালে ১২ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে চারজন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৬ জন, জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নয়জন ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৫ জনে। এর মধ্যে সিলেটে ৩৪৭ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন ও সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হবিগঞ্জে নতুন করে দুইজনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে।

সবশেষ হিসেবে, চলতি বছরে হাম ও উপসর্গে মারা যাওয়া ১৪৪ জনের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১৩৪ জন।

জেলাভিত্তিক হিসাবে এ পর্যন্ত সিলেটে ৫৫ জন, হবিগঞ্জে ১৯ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন ও সুনামগঞ্জে ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যায় এখনো সুনামগঞ্জ শীর্ষে রয়েছে।

একদিনের ব্যবধানে বিভাগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমলেও নতুন রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে সিলেট বিভাগে হামের পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।