সিলেট-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। এসময় তার সমর্থক হাজার হাজার নেতাকর্মী প্রচারণায় শরীক হন। দরগাহ এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
বুধবার (২২ অক্টোবর) জোহরের নামাজের পর বেলা ২টার দিকে শহাজালাল (র:) এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন। জিয়ারত শেষে তিনি লিফলেট বিতরণ করেন। এসময় বিএনপির নেতাকর্মী ও তার সমর্থকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে যায় দরগা গেইট এলাকা। আরিফুল হক চৌধুরী এসময় সবার দোয়া ও সহযোগিতা চান।
সংসদীয় আসন সিলেট-১ নিয়ে মিথ রয়েছে, এই আসনে থেকে যে দলের প্রার্থী বিজয়ী হন, সে দলই সরকার গঠন করে। সেই দিক থেকে সিলেটের এই আসন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। আর মর্যাদাপূর্ণ এই আসনে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির মনোনয়ন পেতে লড়াই করছেন হেভিওয়েট দুই প্রার্থী।
তারা হলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) দুই মেয়াদের মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী এবং বিএনপি প্রধানের আরেক উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ১০ বছর থেকে সিলেটে মাঠে থাকা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির দাবি করেছেন তিনিই এই আসনে নিশ্চিত মনোনয়ন পাবেন। তবে যে কেউ মনোনয়ন চাইতেই পারেন। আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ও বিরোধ বহু পুরানো। সিলেটে বিএনপির রাজনীতিতে আরিফুল হক চৌধুরী সাইফুর রহমানের অনুসারী বলে পরিচিত।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৩শ’ আসনেই প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি। তবে প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। খবরে বলা হয়েছে, মনোনীত প্রার্থীদের ফোন দেয়া শুরু করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বগুড়ার কয়েকজন ইতোমধ্যে ফোন পেয়েছেন বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে সিলেটের কারো ফোনে এখনো তারেক রহমানের কল আসার খবর পাওয়া যায়নি।
এই তোড়জোড়ের মধ্যে আরিফুল হক চৌধুরী মাজার জিয়ারতের মধ্যদিয়ে সিলেট-১ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করলেন।
তবে এর আগে অবশ্য আরো একবার সিলেট-১ আসনে প্রচারণা শুরু করেছিলেন সাবেক মেয়র আরিফ।
গত ১১ জুলাই (শুক্রবার) সিলেট মহানগরের বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সামনে আরিফুল হক চৌধুরী বলেছিলেন ‘আমি মুরব্বিদের ইজাজত নিয়েই প্রচারণায় নেমেছি। সিলেট বিভাগ ও সিলেট জেলার উন্নয়নের স্বার্থে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সিলেটে প্রয়োজন। তবে কোনো কারণে যদি তিনি না আসেন, তাহলে এই এলাকার সন্তান হিসেবে আমি নিজেকে এ আসনে হকদার মনে করি।’
সম্প্রতি আরিফুল হক চৌধুরী লন্ডন সফরে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে একান্তে কথা বলেন। তিনি এই আসনে জিয়া পরিবারের কাউকে প্রার্থী করার দাবি জানান। না হলে তাকে এই আসনে মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানান। তারেক রহমানকে সংসদ নির্বাচনে তাকে প্রার্থী দিতে হলে সিলেট-১ আসন দেয়ার অনুরোধ জানান।অন্যথায় তাকে সিলেটের আগামী মেয়র নির্বাচনে প্রার্থীতার ঘোষণা দেয়ারও দাবি জানান আরিফ।
তিনি তারেক রহমানকে বলেন, ‘আমি নগরের রাজনীতি করি, আমাকে নগরেই সংসদ নির্বাচন অথবা মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দেন।’
বিএনপির সাথে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, আরিফুল হক চৌধুরীর মূল টার্গেট মেয়র নির্বাচন। তাকে মেয়র পদে ফাইনাল করতেই নানাভাবে চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।









