জুলাই সনদ, রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও জুলাইয়ের গণহত্যাকারীদের বিচার দৃশ্যমান করার পরই অবিলম্বে দেশে নির্বাচন দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল।

শুক্রবার (২০ জুন) ঢাকার কেরানীগঞ্জে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা শাখা আয়োজিত ২ দিনব্যাপী রুকন শিক্ষাশিবিরের ১ম দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা জেলা আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বলেন, জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। কিন্তু দেশে নির্বাচনী পরিবেশ এখনো সৃষ্টি করা যায়নি। জুলাই সনদ এখনো ঘোষিত হয়নি। হয়নি রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কারও। এমনকি গণহত্যাকারীদের বিচারও এখনো দৃশ্যমান নয়।

এ সময় শিক্ষা শিবিরের বক্তব্যে তিনি বলেন, রুকনরাই হচ্ছেন সংগঠনের মূল চালিকাশক্তি। তাই ইসলামী আন্দোলনকে গতিশীল ও মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে রুকনসহ ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদেরকে আরো সক্রিয় ও কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে। মূলত, প্রত্যেক জনশক্তির প্রধান কাজই হবে দাওয়াতি কার্যক্রমের সম্প্রসারণ। এ ক্ষেত্রে গণসম্পৃক্ততা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। সর্বোপরি জনগণের সমস্যা চিহ্নিত করে সেসব সমস্যার সাধ্যমতো সমাধান দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। একইসাথে নিজেদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী সৃষ্টি ও যোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য বেশি বেশি কোরআন-সুন্নাহর চর্চা, ইসলামী সাহিত্য অধ্যয়ন; সর্বোপরি আমল-আখলাকের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। মূলত, প্রতিটি ঘরে ঘরে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে পারলেই ইসলামের বিজয় অনিবার্য হয়ে উঠবে।

তিনি জামায়াতের পক্ষে গণজোয়ারের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশে এক নতুন বিপ্লবের সম্ভবনা সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ নির্বঘ্নে ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে জামায়াত প্রার্থীদের বিজয়ী করবে।

তিনি আল্লাহর আইন ও সৎলোকের শাসন প্রতিষ্ঠায় আগামী নির্বাচনে রুকনদের ময়দানে সর্বশক্তি নিয়োগ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, দ্বীন বিজয়ী করতে দাওয়াত সম্প্রসারণের কোনো বিকল্প নেই। আল্লাহর জমীনে আল্লাহর দ্বীন বিজয়ী করতে রুকনসহ ইসলামী আন্দোলনের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ময়দানে আপোষহীন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তর আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. খলিলুর রহমান মাদানী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, পরিকল্পনা করে নিয়মিত গণসংযোগের কাজ করতে হবে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সকল স্তরের মানুষের মাঝে ইসলামের সুমহান দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে, তাহলে আগামীর বাংলাদেশ ইসলামের বাংলাদেশ হবে ইনশাআল্লাহ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমির অধ্যক্ষ শাহিনুর ইসলাম, মাওলানা আব্দুর রউফ, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা এবিএম কামাল হোসাইন ও মাওলানা শাহাদাত হোসাইন, কর্মপরিষদ সদস্য কবিরুজ্জামান, অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষ তৌহিদ হোসেন, লুৎফর রহমান, অ্যাডভোকেট মীর আতাউর রহমান, ইমদাদুল হক, জেলা প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান জীম প্রমুখ।