বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) চিকিৎসা কেন্দ্রের সিলযুক্ত ওষুধ বিক্রির দায়ে এক ফার্মেসির মালিককে আটক করা হয়েছে। আটককৃতের নাম হানিফ। নীলক্ষেতের মামুন ফার্মেসির মালিক তিনি।
আজ সোমবার দুপুরে ঢাবি সংলগ্ন নীলক্ষেতে এই ঘটনা ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সাহেব আলী এই ঘটনার সতত্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রতক্ষদর্শী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য তানভীর হাসান সৈকত নয়া দিগন্তকে জানান, নীলক্ষেতের এক ফার্মেসিতে ঢাকা ইউনিভার্সিটি মেডিকেলের ওষুধ বিক্রি হয় এমন খবর পাই। সেখানে গিয়ে ‘জিফ্লক্স-৫০০’ নামে ঢাকা ইউনিভার্সিটির সিলমারা ওষুধ কিনি। মালিকের কাছে সিলমারা ওষুধ কোথায় পেয়েছেন জানতে চাইলে তিনি প্রথমে ক্ষমা চান এবং অনেক পীড়াপীড়ির পর স্বীকার করেন মেডিকেলে অ্যাম্বুলেন্স চালক আব্দুল মালেকের কাছ থেকে তিনি এই ওষুধ কিনেছেন। পরে তাকে নিয়ে ঢাকা ইউনিভার্সিটি মেডিকেলে যাই।
মামুন ফার্মেসির মালিক আটক হওয়ার আগে বলেন, ঢাকা ইউনিভার্সিটি মেডিকেলে অ্যাম্বুলেন্স চালক আব্দুল মালেক তার কাছে ছয় পাতা ‘জিফ্লক্স ৫০০’ ওষুধ বিক্রি করেন। তিনি বিক্রি করার জন্য নয় এমন ওষুধ বিক্রির জন্য দুঃখ প্রকাশও করেন।
ওষুধ বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা ইউনিভার্সিটি মেডিকেলের অ্যাম্বুলেন্স চালক আব্দুল মালেক জানান, তিনি মেডিকেলে ডাক্তার আরিফুর রেজা সিকদারের কাছ থেকে প্রেসক্রিপশন করে ছয় পাতা ওষুধ নেন। তবে ডা. আরিফুর রেজা সিকদার কাউকে ছয় পাতা জিফ্লক্স ওষুধ প্রেসক্রাইব করেননি বলে জানান। অভিযুক্ত এরপর ডা: মো: সালাহউদ্দিন ও ডা: নূর-মোহাম্মদের কাছ থেকে দুই পাতা ওষুধ প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে নেন বলে জানান।
ডাকসুর কেন্দ্রীয় সদস্য তানভীর হাসান সৈকত ফার্মেসির মালিক হানিফ ও অ্যাম্বুলেন্স চালক আব্দুল মালিককে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের নিকট হাজির করেন। প্রক্টর ওষুধগুলো জব্দ করেন।
জনেতে চাইলে এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, আমরা জানার চেষ্টা করছি ঢাকা ইউনিভার্সিটি মেডিকেলেও ওষুধ দোকানে কিভাবে গেল?
উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন সময় নীলক্ষেত ও আশপাশের এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের ওষুধ পাওয়ার খবর আসে। অভিযোগ রয়েছে এর সাথে মেডিকেল সেন্টারের একটি চক্র জড়িত। শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে সাধারণ রোগের ওষুধ দেয়া হলেও, বেশি দামের ওষুধগুলো বাইরে থেকেই কিনতে হতো বলে অভিযোগ ছিলো দীর্ঘদিনের। অবশেষে এর সত্যতা মিললো।
এ বিষয়ে ঢাকা ইউনিভার্সিটি মেডিকেলের প্রধান অফিসার ডা: সারওয়ার জাহান মুক্তাফী বলেন, এই রকম ঘটনা শুনতাম। এখন প্রমাণ পেলাম। মেডিকেল বোর্ড আছে। আমরা তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিব।
আটককৃত হানিফকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসানকে মোবাইলে কল দিলে তার নম্বরটি ব্যস্ত পাওয়া যায়। এসআই সাহেব আলী নয়া দিগন্তকে বলেন, আটককৃত হানিফকে শাহবাগ থানায় রাখা হয়েছে।





