অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-চায়না অ্যালামনাইয়ের (অ্যাবকা) ২০২১-২০২৩ সেশনের কমিটি ঘোষণা এবং চীনের ক্ষমতাসীন দল চায়না কমিউনিস্ট পার্টির শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক সেমিনারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে ২৫ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি এবং তিন সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সোমবার সকালে ওয়েবিনারের মাধ্যমে এই সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। অ্যাবকার নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শাহাবুল হকের সঞ্চালনায় মূল বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চীনা দূতাবাসের মিনিস্টার কাউন্সিলর ও ডেপুটি চিফ অব মিশন ইয়ান হুয়ালং, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এম শাখাওয়াত এবং জুলিয়া জু, চীনা দূতাবাসের প্রথম সচিব, সংস্কৃতি বিভাগ। সমাপনী বক্তব্য রাখেন অ্যাবকার প্রেসিডেন্ট ও চীনে নিযুক্ত সাবেক বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, চীন ১৯৪৯ সাল থেকে অন্তত ১৯৫২ সাল পর্যন্ত কিভাবে ভেতর থেকে বদলে গেছে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সুযোগ আছে। বাংলাদেশের সাথে চীনের সব যুগেই সম্পর্ক ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ যখন বাংলার স্বাধীন সুলতান ছিলেন, বিশেষ করে ১৩৯৩ সাল থেকে শুরু করে ১৪০৮ সাল পর্যন্ত তিনি চীনের সাথে বাংলার সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন।

চীনা দূতাবাসের মিনিস্টার কাউন্সিলর ও ডেপুটি চিফ অব মিশন ইয়ান হুয়ালং বলেন, নানা লডাই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে চীন ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টি আজকের অবস্থানে এসেছে। কঠিন সময় পার করলেও এই দলই চীনা জাতির মেরুদণ্ড।

তিনি আরো বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা চীনা টিকা ও চীনে ফেরার ব্যাপারে অগ্রাধিকার পাবে। চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ফেরার ব্যাপারে বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস কাজ করছে বলেও তিনি জানান। তিনি নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটিকে শুভেচ্ছ ও অভিন্দন জানান। এই সংগঠনটি চায়না-বাংলাদেশ এর সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এম শাখাওয়াত হোসেন বলেন, নিঃসন্দেহে চীন ব্যাপক বদলে গেছে। চীন সার্বিকভাবেই বিশ্বের এক নম্বর অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে যাচ্ছে। আর যখন একটি দেশ অর্থনীতিতে শক্তিশালী হয়, তখন ওই দেশ সুপারপাওয়ারে পরিণত হয়।

সমাপনী বক্তব্যে অ্যাবকা সভাপতি মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বক্তব্যের শুরুতে তাকে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং নবনির্বাচিত সকল সদস্যদের শুভেচ্ছা ও অভিন্দন জানান। তিনি মনে করেন অ্যাবকার সদস্যরা শুধু পড়াশোনা বা গবেষণা নয় বরং সবক্ষেতেই ভূমিকা পালন করবে যেমন অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বাণিজ্যিক উন্নয়ন, চিকিৎসা বা কৃষি ক্ষেত্র। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রাক্তন চীনা শিক্ষার্থীদের নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার আশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, চীনের ক্ষমতাসীন দল সিপিসি বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সিপিসি অসামান্য অবদান রাখছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের এক নম্বর বন্ধু চীন।

অ্যাবকার সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মান্নান খান ২৫ সদস্য বিশিষ্ট প্রথম কার্যনির্বাহী বোর্ড এবং ৩ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন। কমিটির সদস্যরা হলেন মুন্সি ফয়েজ আহমেদ, সভাপতি, চীনে নিযুক্ত সাবেক বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। সম্মানিত সভাপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, পিএসসি (অবঃ), প্রাক্তন সেনাপ্রধান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং ছাই শি, বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক চীনা রাষ্ট্রদূত। সহ-সভাপতি প্রফেসর ডক্টর মইনুল ইসলাম, প্রাক্তন চেয়ারম্যান, জনসংখ্যা বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ডক্টর মোঃ রকিবুল হক, সহযোগী অধ্যাপক, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যুগ্ম-সম্পাদক, ডক্টর এ.এ.এম. মুজাহিদ, গবেষক, ইনস্টিটিউট অব স্মার্ট সিটি, সাংহাই ইউনিভার্সিটি; ডাঃ মোঃ আবু কাউসার শপন, হেড অব অপারেশন (ইনচার্জ), ওরিওন রেন্টাল এন্ড জেনারেল হাসপাতাল এবং মারুফ হাসান, পিএইচডি গবেষক, হুয়াযং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সাংগঠনিক সম্পাদক, ডা. নাজমুস সাকিব, পিএইচডি গবেষক ও শিশু বিশেষজ্ঞ, পিকিং ফার্স্ট ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল; অর্থ-সম্পাদক ডক্টর মোঃ রাশেদুজ্জামান, সহযোগী অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর; অফিস সম্পাদক, ডক্টর কে এম শফিক, সহযোগী অধ্যাপক (গণিত), জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ; গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক, প্রফেসর ডক্টর শফিকুল ইসলাম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; প্রচার সম্পাদক, মোহাম্মদ ছাইয়েদুল ইসলাম, পিএইচডি গবেষক, চিয়াংশি ইউনিভার্সিটি অব ফাইন্যান্স এন্ড ইকনোমিকস, চীন; সমাজসেবা সম্পাদক, জান্নাত-উন নাহার, প্রভাষক, চাইনিজ ভাষা, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; সংস্কৃতি সম্পাদক, নুজহাত ফারহানা, বিবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিএ, চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগ, ইউন্নান বিশ্ববিদ্যালয়, চীন।

কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তৌকীর রাশাদ নওয়াজ, নানকাই বিশ্ববিদ্যালয়, চীন; উম্মে আয়মান আহমেদ মউটুসি, সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়, চীন; মুহাম্মদ জাকারিয়া, সহযোগী অধ্যাপক, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়; প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ মুজাহিদ, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল; নাঈম হাসান, সহকারী অধ্যাপক, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়; ডাঃ মোঃ ইব্রাহিম রহমান রুমী, মেডিকেল কো-অর্ডিনেটর, প্রগ্রেস গ্রুপ; ডক্টর শিবলী নোমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এইচ অ্যান্ড এন পাবলিকেশনস ইন্টারন্যাশনাল এবং ইফতে খাইরুল হক ইমন, ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক, হেনান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চীন।

তিন সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটির সদস্যরা হলেন ইয়ু কুয়াং ইউয়ে আনন্দী, প্রধান প্রতিবেদক, বাংলাদেশ ব্যুরো, চায়না মিডিয়া গ্রুপ; ডঃ মিসবাহুল ফেরদৌস, ফুওয়াই হাসপাতাল, বেইজিং, চীন এবং ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শামসুল হক।

এছাড়াও বক্তব্য দেন অ্যাবকার ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাইনুল ইসলাম, অ্যাবকার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ওরিয়ন ডেন্টাল অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল ঢাকার হেড অব অপারেশনস মো. আবু কাউসার স্বপন, এবং অ্যাবকার সাংগঠনিক সম্পাদক, পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাস্ট হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ড. নাজমুস সাকিব।