শিক্ষার্থীদের অসহযোগ আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করেছেন দেশের আলেম সমাজ। সংহতি জানিয়ে তারা নানা তৎপরতাও ইতোমধ্যে শুরু করেছেন।

রোববার সকাল থেকেই মাঠে নেমেছে বিভিন্ন মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। আলেম সমাজ পরিচালিত নানা প্রতিষ্ঠানও অনির্দিষ্টকালের জন্য তাদের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। এছাড়া জনপ্রিয় নানা আলেম রাজপথে নেমে এসেছেন।

দেশের বিভাগীয় শহরের বড় বড় মাদরাসার ছাত্রদের আন্দোলনে নামার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকার ফরিদাবাদ, আরজাবাদ, বারিধারা ও যাত্রাবাড়ি মাদরাসার ছাত্রদের ভূমিকা রীতিমতো আলোচনায় আসছে। মাঠে নেমেছে চট্টগ্রামের দারুল উলূম হাটহাজারি, জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়া, ফটিকছড়ির নাজিরহাট বড় মাদরাসার ছাত্ররা। সিলেটের দারুল কোরআন মাদরাসা, ময়মনসিংহের জামিয়া ফয়জুর রহমান রহ. বড় মসজিদ মাদরাসার ছাত্রদের তৎপরতাও দৃষ্টি কেড়েছে।

কওমি মাদরাসা কেন্দ্রীক নানা রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠেছে। তাদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস আন্দোলনে মাঠে নেমেছে। এছাড়া নেজামে ইসলাম পার্টি, খেলাফত আন্দোলন প্রভৃতি দলও আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে সংহতি প্রকাশ করেছে। অরাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দেশের সর্ববৃহৎ দল হেফাজতে ইসলামসহ ‘সাধারণ আলেম সমাজ’ ব্যানারের একটি সংহতি প্রকাশ করেছে।

সংহতি প্রকাশ করে আলেম সমাজ পরিচালিত নানা প্রকাশনী ইতোমধ্যে তাদের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রাহনুমা প্রকাশনী, চেতনা প্রকাশন, মাকতাবাতুল ইসলাম, ইত্তেহাদ, পেনফিল্ড পাবলিকেশন,
ফাতিহ প্রকাশন, দারুল ইলম প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রত্যেকেই তাদের অফিসিয়্যাল ফেসবুক পেজে ওই ঘোষণা দেয়।

এছাড়া কওমি আলেম সমাজ পরিচালিত হাফেজ্জি হুজুর রহ. সেবা ফাউন্ডেশন নামের একটি সংস্থা হাসপাতালে গিয়ে গিয়ে আহতদের পরিষেবা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে।

কওমি জনপ্রিয় কিছু উলামায়ে কেরাম ছাত্রদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে মাঠে অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে জাগ্রত কবি মুহিব খান, কবি মুসা আল হাফিজ, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী প্রমুখ অন্যতম।

এছাড়া কোনো কোনো মাদরাসা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমও বন্ধ রাখার ঘোষণা করেছে।