রুয়েট প্রতিনিধি

নিয়মিত শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও জীবন বিমা সুবিধার আওতায় আনল রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)। এ বিমার আওতায় বছরে এক লাখ ১০ হাজার টাকার স্বাস্থ্যসেবা এবং মৃত্যুতে দুই লাখ টাকার জীবন বিমা সুবিধা পাবেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার (২২ জুন) বিকেলে যন্ত্রকৌশল বিভাগের সেমিনার রুমে বিমা কোম্পানি জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স পিএলসি’র সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রুয়েট ভিসি অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘রুয়েট প্রকৌশল শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। আজকের এ স্বাস্থ্য ও জীবন বিমা সুবিধা তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শিক্ষার্থীদের সুস্থতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ চুক্তি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। ভবিষ্যতেও আমরা শিক্ষার্থীবান্ধব এমন আরো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

অনুষ্ঠানে ছাত্র কল্যাণ দফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো: রবিউল ইসলাম সরকারের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন অর্থ ও হিসাব দফতরের কন্ট্রোলার নাজিমউদ্দীন আহম্মদ।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আরিফ আহম্মদ চৌধুরী, ছাত্র কল্যাণ দফতরের উপ-পরিচালক অধ্যাপক ড. মো: আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, জেনিথ ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স পিএলসি’র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রশাসন) আব্দুর রহমান, ভাইস প্রেসিডেন্ট (হেড অব গ্রুপ ইন্সুরেন্স) মো: আনোয়ার হোসেন সরকার, অর্থ ও হিসাব দফতরের অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মো: ফয়ছাল আরেফিনসহ বিভিন্ন বিভাগ ও বর্ষের ক্লাস প্রতিনিধি, বিভিন্ন ক্লাবের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন অর্থ ও হিসাব দফতরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো: মুক্তার হোসেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আরিফ আহম্মদ চৌধুরী এবং ইনস্যুরেন্স কোম্পানির পক্ষে স্বাক্ষর করেন এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রশাসন) ও কোম্পানির সচিব আব্দুর রহমান।

জানা যায়, স্বাস্থ্য বিমার আওতায় থাকা কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বীমা সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চিকিৎসা নেয়ার ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিমা সুবিধা পাওয়া যাবে। এছাড়া একজন শিক্ষার্থী বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার ক্ষেত্রেও বছরে এক লাখ টাকা পর্যন্ত বিমা সুবিধা পাবেন।

এদিকে বিমার আওতায় থাকা রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী মারা গেলে তার পরিবার এককালীন সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পাবেন বলে জানানো হয়।

প্রিমিয়াম জমা দেয়া থেকে শুরু করে বিমা দাবি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীরা অনলাইনে সম্পন্ন করতে পারবেন। ফলে বিমা সুবিধা পেতে জটিলতা কমবে শিক্ষার্থীদের।