সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রশ্ন রেখে বলেছেন, আইনজীবী পলাশ কুমার রায় কারাগারে পুড়ে মারা যাওয়ার পরেও কীভাবে বহাল তবিয়তে আছেন স্বরাষ্টমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা। তিনি বলেন, ‘পলাশ কারাগারে মারা গেছেন কিন্তু এখনো সে কারাগারের জেলসুপার বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন, বহাল তবিয়তে আছেন আইজি প্রিজন (কারা মহাপরিদর্শক) ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলাদেশে সাধারণ মানুষ হত্যার বিচার হয় না। আর এখন আইনজীবী হত্যারও বিচার হয় না। এটা আমরা মেনে নেব না। জেলখানা নিরাপদ জায়গা।’

সোমবার দুপুরে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের নিচে পঞ্চগড়ের আইনজীবী পলাশ কুমার রায়কে ‘হত্যার’ প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে এমন প্রশ্ন রাখেন তিনি। এ কর্মসূচির আয়োজন করে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবীদের সংগঠন ‘ন্যাশনাল ল ইয়ার্স কাউন্সিল’।

‘জেলখানার হাসপাতালের টয়লেটে রেখে একজন আইনজীবীকে হত্যা করবে, সারাদেশে এইটা নিয়ে আন্দোলন হওয়ার কথা। আমি আশা করি সকল আইনজীবী ভাই ও বোনেরা দলমত নির্বিশেষে প্রতিবাদ গড়ে তুলবে আপনার সহকর্মী হত্যার বিরুদ্ধে। সরকার ও মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আহ্বান জানাই, অনতিবিলম্বে পলাশ কুমার রায় হত্যার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত করুন। যদি না করা হয় তাহলে কিন্তু আমরা সারাদেশের আইনজীবীরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।’

সংগঠনের চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী জুনুর সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব হেমায়েত উদ্দিন বাদশা, ইয়ুথ ফোরামের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম মনির প্রমুখ।

গত ২৫ মার্চ দুপুরে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে পলাশের বিরুদ্ধে ‘কোহিনুর কেমিক্যাল কোম্পানি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের করা মামলা প্রত্যাহার দাবিতে পরিবারের লোকজন নিয়ে অনশন শুরু করেন পলাশ কুমার রায়। পরে সেখান থেকে উঠে তারা জেলা শহরের শের-ই-বাংলা পার্ক সংলগ্ন মহাসড়কে মানববন্ধন শুরু করেন।

ওইদিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করার অভিযোগ এনে স্থানীয় বাসিন্দা রাজিব রানা সদর থানায় পলাশের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে পলাশকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। আইনজীবী পলাশকে ২৬ এপ্রিল বিকেলে ঢাকা পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু সকালে হঠাৎ কারাগার হাসপাতালের বাইরে থাকা একটি টয়লেট থেকে সে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় দৌড়ে বের হয়।

এ সময় কারারক্ষীরা তাকে উদ্ধার করে এবং শরীরের আগুন নেভায়। আগুনে তার শরীরের ৪৭ শতাংশ পুড়ে যায়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরদিনই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে ৩০ এপ্রিল দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।