রাজধানীর গোপীবাগে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের মামলায় ছাত্রদলের সাবেক নেতা আরিফুল ইসলামকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করে অস্ত্র আইনের মামলায় সাত দিনের রিমান্ড চায়। আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল করে জামিন চায়। ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ মিল্লাত হোসেন উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে জামিন আবেদন নাকচ করে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ৩০ জানুয়ারি হাতিরঝিল থানাধীন মহানগর প্রজেক্টের ৮ নম্বর গেট থেকে আরিফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। ওই দিনই আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ডিবি পুলিশের অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও প্রতিরোধ টিমের এসআই এরশাদ হোসেনের দায়ের করা অস্ত্র আইনের মামলায় এ রিমান্ড আবেদন করা হয়।

ওই দিন সন্ধ্যায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও প্রতিরোধ টিমের পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল হক আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন। কিন্তু হরতালের কারণে ওই দিন আরিফকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করেনি পুলিশ। সেজন্য ৫ ফেব্রুয়ারি রিমান্ড শুনানির জন্য তারিখ ধার্য করেন আদালত। সেমতে আজ আসামির উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানী অনুষ্ঠিত হয়।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ‘এ আসামি গত ২৬ জানুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিএনপি মেয়র পদপ্রার্থী ইশরাক হোসেনের কথিত পিএস হিসেবে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করাসহ নির্বাচনপূর্ব মিছিলে অংশগ্রহণ করে। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে ওয়ারী থানাধীন ৪৮/৩ এ আর কে মিশন রোডস্থ রোকন উদ্দিন আহমেদের অস্থায়ী নির্বাচনী ক্যাম্পের সামনে রাস্তায় পৌঁছালে মিছিলটি অবৈধ সমাবেশে রূপ নেয়। এ আসামি প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের লোকজনদের হত্যার উদ্দেশ্যে পিস্তল দিয়ে সাত রাউন্ড গুলি করে। গ্রেফতারের সময় আরিফুল ইসলামের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ম্যাগাজিন, ৫০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলির লাইসেন্সমূলে মালিক দাবি করলেও এ সংক্রান্ত বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। অবৈধ গুলির উৎসসহ আরো অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এ আসামির দখলে রয়েছে কি না তা জানার জন্য রিমান্ড দেয়া প্রয়োজন।