নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতে নথি দেখে দেখে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেয়া বন্ধ চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আবেদনের শুনানি শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) বিচারপতি মো: নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী শুনানি করেন।

শুনানিতে এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘১৯৯৭ সালে এই কেসের জন্ম হয়েছে। এই কেসের মাধ্যমে মাইনাস টু থিওরি কার্যকর করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা নিয়ে ১৯ নম্বর কেস শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এবং ২০ নম্বর কেস খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হয়। এখন এই কেসের মাথা নেই, বডি আছে। এখন প্রশ্ন- এই কেস চলবে কি? এখানে ভবিষ্যৎ দেখবে বিচার বিভাগ কী করেছে। জুডিশিয়ারির অবস্থা আমরা ভবিষ্যতে দেখব।’

এরপর আগামীকাল বুধবার দুপুর ২টায় শুনানির আবেদন করেন। তখন আবেদনের বিষয়বস্তু নিয়ে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাছান চৌধুরী বক্তব্য রাখে। এসময় তার সাথে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মধ্যে তর্ক হয়। তবে আদালতের হস্তক্ষেপে দুই পক্ষের আইনজীবীরা শান্ত হন। আদালত বলেন, শুনানির সময় দেব, তবে শর্ত হচ্ছে, যদি কোনো ধরনের সাউটিং হয়, তাহলে শুনানি সম্ভব হবে না।’

শুনানিতে এ জে মোহাম্মদ আলীকে সহায়তা করেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

আবেদনের বিষয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘দেখে দেখে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হচ্ছে, যা ফৌজদারি আইনগতভাবে বৈধ না। নিয়ম হচ্ছে মেমোরি রিফ্রেশের জন্য সাক্ষ্য দেয়ার সময় সাক্ষী দু-একবার চোখ বোলাতে পারেন। কিন্তু এভাবে লাগাতার দেখে দেখে বইয়ের মতো পড়ে পড়ে সাক্ষ্য দেয়া আইনসিদ্ধ নয়। আমরা মনে করছি, এ মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেল প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ করছেন, তিনি সেখানে গিয়ে নিজে বসে থাকছেন। এটা তার এখতিয়ারবহির্ভূত।’

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘নাইকো দুর্নীতি মামলা কিন্তু দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে মামলা করেছে দুদক। মামলা পরিচালনা করবে দুদকের আইনজীবী। অথচ মামলা পরিচালনা করার জন্য হাজির হয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। তিনি রাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল নাকি আওয়ামী লীগের? এটা ইতোপূর্বে আর কখনো ঘটেনি, এটা নজিরবিহীন।’

এরআগে গত ১৬ অক্টোবর কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার নবম (অস্থায়ী) বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে নাইকো মামলার বাদিকে আংশিক জেরা করা হয়। এরপর ১৯ অক্টোবর পরবর্তী জেরার দিন ধার্য করেন আদালত।

এদিন মামলার বাদি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎকালীন সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলমকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম জেরা করেন।

এর আগে, গত ১৯ মার্চ নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান।

কানাডার কোম্পানি নাইকোর সাথে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে দুদক। মামলায় তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক।