ইকবাল মজুমদার তৌহিদ নিউ ইয়র্ক থেকে
বিশ্ব কূটনীতির শীর্ষ মঞ্চ জাতিসঙ্ঘে বাংলায় ভাষণ দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেয়া ২১ মিনিটের ভাষণে তিনি বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ ও সঙ্ঘাত বন্ধে সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সাথে একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও বাসযোগ্য বিশ্ব গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলের এই ভাষণে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সঙ্ঘটের স্থায়ী সমাধান এবং মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্যও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কামনা করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জলবায়ু ন্যায়বিচার, পর্যাপ্ত অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও অভিযোজন সহায়তার ওপরও জোর দেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, নারী ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও তরুণদের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’-তিন ‘আর’ কৌশলের মাধ্যমে বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের পরিকল্পনার কথা জানান।
ভাষণের শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধ ও গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ : ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদ মুক্তিযোদ্ধার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মদানকারীদেরও স্মরণ করেন তিনি। একই সাথে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসঙ্ঘের এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি তার বাবা জিয়াউর রহমান ও মা বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করেন। বলেন, তারাও এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের জনগণের কথা বলেছিলেন। আজ তিনি একইভাবে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ এবং একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা নিয়ে এই মঞ্চে দাঁড়িয়েছেন।
শান্তিপূর্ণ ও কার্যকর জাতিসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার আহ্বান : বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ, সঙ্ঘাত ও অস্থিতিশীলতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বায়নের যুগে বিশ্বের এক প্রান্তের সঙ্ঘাতের প্রভাব অন্য প্রান্তেও পড়ে। যুদ্ধ ও সঙ্ঘাতের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে, তৈরি হচ্ছে মানবিক সঙ্কট এবং বিশ্ব অর্থনীতি চাপের মুখে পড়ছে। তিনি বলেন, যেকোনো সঙ্ঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত। বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থ, সম্মান ও মর্যাদা রক্ষাকে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব চায়, যেখানে মারণাস্ত্রের পরিবর্তে যুক্তি, আলোচনা, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে উঠবে। এই সমঝোতামূলক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসঙ্ঘকে আরো কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত : ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বহুপাক্ষিকতার নীতির প্রতিও বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন তিনি। জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন। নারীদের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকে ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ কর্মসূচির প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের আহ্বান : রোহিঙ্গা সঙ্কটকে বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মানবিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত চাপ হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় দিয়ে আসছে। এতে বাংলাদেশের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটের উৎস মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই এ সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে জাতিসঙ্ঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এর আগে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও দ্রুত প্রত্যাবাসন, মানবিক সহায়তা, বিচার ও জবাবদিহিসহ একাধিক প্রস্তাব তুলে ধরেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
জলবায়ু ন্যায়বিচার ও অর্থায়নে জোর : জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান খুবই কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির বড় অংশ বাংলাদেশকে বহন করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জলবায়ু ন্যায়বিচার, জলবায়ু অর্থায়ন এবং অভিযোজন সহায়তার ক্ষেত্রে আরো কার্যকর বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, পরিচ্ছন্ন ও সৌর জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং বন্যা ও খরা মোকাবেলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। সুন্দরবনে মিঠাপানির প্রবাহ বাড়ানো ও পানি সংরক্ষণে তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
‘থ্রি-আর’ কৌশলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা : বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময়ের শাসন ও শোষণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশকে পুনর্গঠনে সরকার ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’- এই তিন ‘আর’ কৌশল অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে এবং দেশের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে একটি ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্টআপ কার্যক্রমে চলতি অর্থবছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
নারী ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা : নারীর ক্ষমতায়নকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আর্থসামাজিক রূপান্তরে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত নারীদের বিনাবেতনে শিক্ষার সুযোগ দেয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
সামাজিক সুরক্ষার অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘ফার্মার্স কার্ড’, ‘স্পোর্টস কার্ড’ ও ‘ই-হেলথ কার্ডে’র মতো কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবারের নারী প্রধানের নামে দেয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’কে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে এসব কর্মসূচিকে সমন্বিত করে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ : শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়াকে সরকারের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো এবং আগামী পাঁচ বছরে জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত শিক্ষায় ব্যয় করার লক্ষ্য তুলে ধরেন তিনি। কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বায়োটেকনোলজি ও বিজ্ঞানের নতুন যুগে বিশ্ব প্রবেশ করছে। তবে প্রযুক্তির সুফল যাতে সব দেশ ও জনগোষ্ঠী সমানভাবে পায়, সে জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত সম্প্রসারণের সুফল ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে জাতিসঙ্ঘের কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কামনা : স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণকে টেকসই করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে নিশ্চিত অর্থায়ন, বাজারে প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক সহায়তা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। আঞ্চলিক বাণিজ্য, যোগাযোগ ও অর্থবহ সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর পারস্পরিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ : ভাষণের শেষ পর্যায়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’- এই প্রত্যয়ের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তার সরকার কাজ করছে, যেখানে তরুণরা নিরাপদ পরিবেশে নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে যাবে এবং প্রতিটি শিশু তার সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পাবে। সর্বোপরি জনগণ একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ জীবনযাপনের নিশ্চয়তা পাবে।
ভাষণের শেষাংশে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তুলতে জাতিসঙ্ঘের নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
নিউ ইয়র্ক ক্লাইমেট উইকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান
এ দিকে নিউ ইয়র্ক ক্লাইমেট উইকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারি স্টোরেজ খাতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (ইঝজঊঅ) সভাপতি হিসেবে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আলোচনা, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্ভাবনা ও জলবায়ু ঝুঁকির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত একটি জবহবধিনষব ঊহবৎমু জড়ঁহফঃধনষব-এ বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ু ন্যায়বিচারের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ। বক্তব্য রাখেন গ্লোবাল সোলার কাউন্সিল (এঝঈ) সেক্রেটারি ড্যানি কেনেডি, চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার এবং রিনিউয়েবল এনার্জি কাউন্সিল এশিয়া-প্যাসিফিক জন গ্রাইমসসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা।
আলোচনায় বলা হয়, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। অথচ বৈশ্বিক জলবায়ু সঙ্কট সৃষ্টিতে বাংলাদেশের অবদান তুলনামূলকভাবে নগণ্য। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার, অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় বাংলাদেশ কোনো দয়া বা অনুদান চাইছে না; বরং জলবায়ু ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে ন্যায্য অধিকার ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে। একই সাথে বিশ্বের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জলবায়ু খাতের নেতাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতকে আরো টেকসই ও আধুনিক করার সুযোগ রয়েছে বলে আলোচনায় তুলে ধরা হয়।
এ উদ্যোগে জাতিসঙ্ঘকে আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় তৈরিতে জাতিসঙ্ঘের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মত তুলে ধরা হয়।
ক্লাইমেট উইকের বিভিন্ন কর্মসূচির ফাঁকে এষড়নধষ ঝড়ষধৎ ঈড়ঁহপরষ এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্বালানি খাতের নেতৃত্বের সাথে ওহাবংঃ ইধহমষধফবংয-এর চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর একটি বৈঠকেরও আয়োজন করা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সুযোগ এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারি স্টোরেজ খাতের সম্ভাবনা, বিনিয়োগের সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে যৌথভাবে কাজ করার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। বাংলাদেশের জ্বালানি রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা কিভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এ দিকে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব আরো জোরদার করার লক্ষ্যে ইঝজঊঅ, ওহাবংঃ ইধহমষধফবংয এবং বিদ্যুৎ বিভাগ যৌথভাবে শিগগিরই একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও প্রদর্শনীর আয়োজন করার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।
নিউ ইয়র্ক ক্লাইমেট উইকের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু ন্যায়বিচার, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলোকে সামনে আনা হয়েছে।





