চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নজিরবিহীন অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সদ্য নিয়োগ বাতিল হওয়া ভিসি অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে একদিকে শিক্ষার্থীদের কমপ্লিট শাটডাউন চলছে, অন্য দিকে কাল রোববার থেকে ধর্মঘট ও কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও একই দাবিতে একাট্টা। নতুন নিয়োগ পাওয়া ভিসি শেখ শরীফুল আলম শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার চ্যান্সেলর বরাবর যোগদানপত্র পাঠালেও ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি।
এ দিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো ভিসিকে স্বপদে বহাল রাখার দাবিতে শিক্ষার্থীদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন নজিরবিহীন। এটি প্রমাণ করে যে, তিনি দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় দক্ষতা দেখিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির নেতারা বলেন, তাদের দাবি ও বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান, সচিব এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি সাক্ষাতেরও সময় চাওয়া হয়েছে। সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সঙ্কটের যৌক্তিক সমাধান করবে বলে চুয়েট পরিবার আশা করছে। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা এবং সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে ২১ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। অধ্যাপক সায়েমকে ভিসি পদে পুনর্বহাল করে দ্রুত শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক করার দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেছেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে চুয়েটের ভিসি পদ থেকে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অব্যাহতি দেয়া হয়। একই সাথে নতুন ভিসি হিসেবে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেয়া হয়। মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় আকস্মিক এই পরিবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে দাবি পূরণ না হলে রোববার থেকে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান ধর্মঘট ও কর্মবিরতি পালন করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেয়া হয়। চলমান অচলাবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হচ্ছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রয়োজনে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে তা পুষিয়ে দেয়া হবে বলে শিক্ষকরা জানান।





