রাশিদুল ইসলাম

ঢাকায় আয়োজিত সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এ শেখ হাসিনার ৫ আগস্ট ২০২৪ ভারতে চলে যাওয়া নিয়ে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ভারতের রাজ্যসভায় যে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, ত্রিবেদীর বক্তব্যের সাথে তার কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
বিতর্কের মূল প্রশ্ন হলো- শেখ হাসিনার ভারতে যাওয়ার ঘটনাটি কি ছিল মূলত আকস্মিক পরিস্থিতিতে ভারতের বাধ্যতামূলক মানবিক সিদ্ধান্ত নাকি তার নিজের অনুরোধ এবং বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে নেয়া একটি সিদ্ধান্ত?
এই দুই বয়ানের পার্থক্য শুধু বক্তব্যের ভাষাগত পার্থক্য নয়; এর সাথে জড়িয়ে আছে ভারতের কূটনৈতিক দায়, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেয়ার রাজনৈতিক ব্যাখ্যা এবং বর্তমান বাংলাদেশ-ভারত  সম্পর্কের ভবিষ্যৎ।
ত্রিবেদীর বক্তব্যে কী বলা হয়েছে
ঢাকার সম্মেলনে দীনেশ ত্রিবেদী ৫ আগস্টের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ওই দিন শেখ হাসিনাকে ভারতে অবতরণের অনুমতি না দিলে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারত। তার বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল- শেখ হাসিনাকে কোনো ভারতীয় সামরিক বিমানে করে আনা হয়নি; বরং বাংলাদেশের সামরিক বিমানেই তিনি ভারতে পৌঁছান।
তিনি আরো ইঙ্গিত দেন যে, তখন শেখ হাসিনা বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং পরিস্থিতির বাস্তবতায় ভারতকে তাকে গ্রহণের অনুমতি দিতে হয়েছিল।
এই ব্যাখ্যার রাজনৈতিক তাৎপর্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে ঘটনাটিকে ভারতের সক্রিয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে একটি জরুরি ও অনিবার্য পরিস্থিতির ফল হিসেবে দেখানোর প্রবণতা স্পষ্ট হয়।
অর্থাৎ, বয়ানটির কেন্দ্রবিন্দু হলো- ভারত শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণ করার জন্য উদ্যোগী হয়নি; বরং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সঙ্কটের কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে তাকে প্রবেশের অনুমতি দিতে হয়েছিল।
জয়শঙ্করের রাজ্যসভা বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র
কিন্তু ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর রাজ্যসভায় দেয়া বক্তব্যে যে বিবরণ দিয়েছিলেন, সেখানে ঘটনাটির সূচনা সম্পর্কে ভিন্ন একটি চিত্র পাওয়া যায়।
জয়শঙ্করের বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা নিজেই ভারতের কাছে স্বল্প সময়ের জন্য ভারতে আসার অনুমতি চেয়েছিলেন। তার অনুরোধের পর বাংলাদেশী সামরিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও ভারতের কাছে সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ করা হয়। এরপর ভারত তাকে প্রবেশের অনুমতি দেয়।
এখানে একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
ত্রিবেদীর বয়ানে জোর পড়েছে- পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে ভারতকে একটি কঠিন পরিস্থিতি এড়াতে তাকে গ্রহণ করতে হয়েছে। অন্য দিকে জয়শঙ্করের বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে- শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আসার অনুরোধ, বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ এবং এরপর ভারতের অনুমোদন।
দুই বক্তব্যের মধ্যে ঘটনাটির রাজনৈতিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে তাই যথেষ্ট পার্থক্য সৃষ্টি হয়। কোন বক্তব্যকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে?
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি ভারতের আনুষ্ঠানিক সরকারি অবস্থানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নথি। সংসদীয় বক্তব্য সাধারণত ব্যক্তিগত মন্তব্যের পর্যায়ে থাকে না; সেটি রাষ্ট্রের অবস্থান ব্যাখ্যার একটি প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম।
অন্য দিকে বিদেশে নিযুক্ত কোনো কূটনীতিকের বক্তব্যও অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তা সংসদীয় রেকর্ডের সমতুল্য নয়। ফলে ত্রিবেদীর বক্তব্য যদি জয়শঙ্করের সংসদীয় বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক বলে প্রতীয়মান হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে- ভারতের বর্তমান সরকারি অবস্থান কোনটি?
এই প্রশ্নের উত্তর ভারতকেই স্পষ্ট করতে হবে। কারণ কূটনীতিতে একই ঘটনার দু’টি পরস্পরবিরোধী ব্যাখ্যা শুধু তথ্যগত বিভ্রান্তিই সৃষ্টি করে না; সংশ্লিষ্ট দেশের নীতিগত অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন সৃষ্টি করে।
‘বাধ্য হয়ে আশ্রয়’ নাকি ‘অনুরোধের ভিত্তিতে অনুমতি’?
দুই বক্তব্যের পার্থক্যকে একটি সরল প্রশ্নে নামিয়ে আনা যায়- ভারত কি শেখ হাসিনাকে গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছিল, নাকি তার অনুরোধের ভিত্তিতে তাকে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল?
এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে শেখ হাসিনার বর্তমান ভারতে অবস্থান এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি ঘিরে। যদি ঘটনাটিকে ‘আকস্মিক পরিস্থিতিতে মানবিক কারণে সাময়িক আশ্রয়’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তাহলে ভারতের ওপর রাজনৈতিক দায়ের ব্যাখ্যা এক রকম হবে।
আর যদি ঘটনাটি ‘শেখ হাসিনার অনুরোধ এবং ভারত সরকারের অনুমোদনের’ ফল হিসেবে দেখা হয়, তাহলে সিদ্ধান্তটির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দায় ভারতের ওপর অপেক্ষাকৃত স্পষ্টভাবে বর্তায়। সুতরাং শব্দের পার্থক্য এখানে নিছক শব্দের পার্থক্য নয়; এটি কূটনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন।
শেখ হাসিনার পদত্যাগের প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ
এখানে আরেকটি বিতর্কিত বিষয় রয়েছে- ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা তখনো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কি না। তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জাতির উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং দেশ ছাড়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনও সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎকারে জানান, তার কাছে শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নেই।
ফলে সাংবিধানিকভাবে শেখ হাসিনার পদত্যাগের প্রক্রিয়া, রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পৌঁছানো এবং ৫ আগস্টের ক্ষমতার রূপান্তর- এসব প্রশ্ন এখনো রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কের অংশ।
এই বাস্তবতায় বিদেশী কোনো কূটনীতিক যখন বলেন যে ওই সময় শেখ হাসিনা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন সেটিরও একটি নির্দিষ্ট সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
কারণ এটি শুধু ইতিহাসের বর্ণনা নয়; ভবিষ্যতে প্রত্যর্পণ, রাজনৈতিক আশ্রয় এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নেও এই অবস্থানের প্রভাব পড়তে পারে।
প্রত্যর্পণ প্রশ্নে ভারতের কৌশল
শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি এখন দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয়। বাংলাদেশ এ বিষয়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের অনুরোধ করেছে। ভারতীয় পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময়ে বলা হয়েছে যে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত।
এই অবস্থায় ‘তিনি তখনো প্রধানমন্ত্রী ছিলেন’- এই বয়ান রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ এতে ৫ আগস্টের ঘটনাকে সাধারণ রাজনৈতিক পলায়ন হিসেবে নয় বরং একটি ক্ষমতাসীন সরকারের প্রধানের জরুরি দেশত্যাগ হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
তবে এর সাথে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সাংবিধানিক বাস্তবতা, সেনাপ্রধানের ঘোষণা এবং পরবর্তী রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের সমন্বিত মূল্যায়ন প্রয়োজন।
এখানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন- দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য কি ভারতের একটি বৃহত্তর কূটনৈতিক ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ কৌশলের অংশ?
এটি নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থানের অনুমতি দেয়ার পর বাংলাদেশে ভারতবিরোধী জনমতের একটি বড় অংশের অভিযোগ- দিল্লি সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ ছিল এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতাকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে পারেনি।
এই পরিস্থিতিতে ঢাকায় ভারতের একজন শীর্ষ কূটনীতিক যদি বলেন, ভারত মূলত পরিস্থিতির কারণে শেখ হাসিনাকে গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছিল, তাহলে এর একটি উদ্দেশ্য হতে পারে ভারতের সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক দায় কিছুটা হালকা করা।
অর্থাৎ বার্তাটি হতে পারে- ভারত কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে নয় বরং একটি জরুরি মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
কিন্তু এই ব্যাখ্যা কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
বাংলাদেশের জনমনে এর প্রভাব কী হতে পারে?
বর্তমান বাংলাদেশে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি রাজনৈতিক ইস্যু। ফলে এই বিষয়ে ভারতের যেকোনো বক্তব্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে দেওয়া প্রয়োজন।
বিশেষ করে যখন একই ঘটনার বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদীয় বক্তব্য আগে থেকেই জনসমক্ষে রয়েছে, তখন ভিন্ন কোনো ব্যাখ্যা সহজেই প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।
ডিজিটাল যুগে রাষ্ট্রীয় বক্তব্য আর কেবল কূটনৈতিক মহলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। সংসদীয় ভাষণ, ভিডিও, সংবাদ প্রতিবেদন ও সরকারি বিবৃতি কয়েক মিনিটের মধ্যে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।
ফলে কোনো বক্তব্যের সাথে পূর্ববর্তী রেকর্ডের অসামঞ্জস্য থাকলে তা খুব দ্রুতই জনপরিসরে আলোচিত হয়।
এখানেই কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি মৌলিক শিক্ষা রয়েছে- জনগণকে প্রভাবিত করার জন্য কৌশলী বয়ানের চেয়ে তথ্যের সামঞ্জস্য ও স্বচ্ছতা অনেক বেশি কার্যকর।
ত্রিবেদীর ‘হোমওয়ার্ক’ প্রশ্ন
এখন প্রশ্ন উঠছে- এটি কি ত্রিবেদীর ব্যক্তিগত বক্তব্যের সমস্যা নাকি ভারতের নীতিনির্ধারণী কাঠামোর অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের ঘাটতি?
দু’টি সম্ভাবনাই বিবেচনা করা যায়।
প্রথমত, একজন কূটনীতিক কোনো স্পর্শকাতর বিষয়ে বক্তব্য দেয়ার আগে নিজ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংসদীয় বক্তব্য এবং পূর্ববর্তী সরকারি অবস্থান পর্যালোচনা করবেন- এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা।
দ্বিতীয়ত, যদি ঢাকায় দেয়া বক্তব্য সচেতনভাবেই আগের অবস্থান থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন উঠবে- এই পরিবর্তিত বয়ান কি দিল্লির নতুন কোনো কৌশলগত অবস্থানের ইঙ্গিত?
ভারত সরকার যদি সত্যিই শেখ হাসিনাকে গ্রহণের ঘটনাটিকে এখন নতুনভাবে ব্যাখ্যা করতে চায়, তাহলে সেটি কূটনৈতিকভাবে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। একজন কূটনীতিকের বক্তব্যের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলে বিভ্রান্তি বাড়ে।
সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হলে প্রয়োজন স্বচ্ছতা
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কোনো একক ব্যক্তি বা একটি সরকারের ওপর নির্ভরশীল নয়। দুই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, সীমান্ত, পানি, বাণিজ্য, নিরাপত্তা, জ্বালানি, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতি- সবকিছু মিলিয়ে সম্পর্কটি দীর্ঘমেয়াদি।
তাই শেখ হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশে ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হওয়া উচিত নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে বোঝা এবং জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা করা।
সেই কাজ কৌশলী বক্তব্য দিয়ে সহজ হবে না। বরং প্রয়োজন- অতীতের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে পরিষ্কার ব্যাখ্যা, বর্তমান সরকারের সাথে স্বচ্ছ যোগাযোগ এবং বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার প্রতি সম্মান।
দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এখানেই। একই ঘটনার বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদীয় বক্তব্য এবং ঢাকায় নিযুক্ত হাইকমিশনারের বক্তব্য যদি ভিন্ন অর্থ বহন করে, তাহলে দুই দেশের মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক।
ভারত চাইলে খুব সহজেই এই বিভ্রান্তি দূর করতে পারে- ঘটনার বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট, অভিন্ন এবং নথিভিত্তিক অবস্থান প্রকাশ করে। কারণ কূটনীতিতে তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিশ্বাসযোগ্যতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দিল্লির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু শেখ হাসিনা ইস্যু নয় বরং নতুন বাংলাদেশের জনগণের কাছে ভারতের ভূমিকা কী হবে, সেই প্রশ্নের গ্রহণযোগ্য উত্তর দেয়া।
সেই উত্তর যদি বাস্তবতা ও তথ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ উল্টো ‘ড্যামেজ’ বাড়িয়ে দিতে পারে।
আর যদি ভারত সত্যিই বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করতে চায়, তাহলে প্রথম শর্ত হওয়া উচিত- একই বিষয়ে একাধিক পরস্পরবিরোধী বয়ান নয় বরং অভিন্ন ও স্বচ্ছ রাষ্ট্রীয় অবস্থান।
কারণ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ভিত্তি কেবল কৌশল নয়- বিশ্বাসযোগ্যতা, পারস্পরিক সম্মান ও সত্যনিষ্ঠ যোগাযোগ।