সৈয়দ সামসুজ্জামান নীপু
দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর জন্য আগামী বছর ১৪ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করবে বাংলাদেশ। দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির (ইআরপিএলসি) জন্য এই তেল সৌদি আরব ও আবুধাবির দু’টি সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হচ্ছে ‘আরামকো’ এবং অন্যটি ‘অ্যাডনক’। জি-টু-জি বা সরকারি পর্যায়ে এই তেল আমদানি করা হবে। ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি) থেকে ঋণের মাধ্যমে এই তেল কেনা হবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদির আরামকো থেকে সাতটি পার্সেলে সাত লাখ মেট্রিক টন এরাবিয়ান লাইট ক্রুড এবং আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (অ্যাডনক) থেকে সাতটি পার্সেলে সাত লাখ মেট্রিক টন মারবান ক্রুড আমদানি করা হবে। সব মিলিয়ে ১৪টি পার্সেলে ১৪ লাখ মেট্রিক টন তেল আসবে। প্রতিটি পার্সেলের পরিমাণ সাধারণত এক লাখ মেট্রিক টন। আমদানি হবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি চুক্তির (জি-টু-জি) আওতায়।
ইআরপিএলসির সক্ষমতা ও আমদানির ধরন : সূত্র জানায়, ১৯৬৮ সালে নির্মিত ইআরপিএলসির বার্ষিক প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা ১৫ লাখ মেট্রিক টন। প্রস্তাবিত ১৪ লাখ টন আমদানি এই সক্ষমতার প্রায় ৯৩ শতাংশের সমান। তেল আমদানি হয় ফ্রি অন বোর্ড (এফওবি) ভিত্তিতে। পরিবহন ও লাইটারেজের কাজ করে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। আমদানির অর্থায়নে ঋণ নেয়া হবে ইসলামিক ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি) থেকে।
জানা গেছে, শুরুর দিকে ইআরপিএলসির জন্য সৌদি আরব, ইরান, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে তেল আনা হতো। তবে ইরাক-ইরান যুদ্ধের প্রাক্কালে ১৯৮০ সাল থেকে সৌদি আরামকো ও আডনকের সাথে দীর্ঘমেয়াদি জি-টু-জি চুক্তির আওতায় তেল আমদানি চলছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্ল্যান্ট দীর্ঘদিনের পুরনো হওয়ায় এরাবিয়ান লাইট ও মারবান ছাড়া অন্য গ্রেডের তেল শোধন অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হয় না বলে দাবি করা হয়েছে। ফিড ডিজাইন অনুযায়ী এই দু’টি গ্রেডই সবচেয়ে উপযোগী।
উন্মুক্ত দরপত্রের পরিবর্তে সরাসরি ক্রয় কেন করা হচ্ছে- এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, এই দুই পণ্য সৌদি আরামকো ও আডনকের স্বত্বাধিকারী পণ্য। ফলে অন্য কোনো দেশ বা সরবরাহকারী থেকে চাহিদা অনুযায়ী এগুলো পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। ইআরপিএলসির নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন অব্যাহত রাখতে উন্মুক্ত দরপত্রে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে আমদানির সুযোগও নেই। জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি জি-টু-জি চুক্তিকে সরবরাহ নিরাপত্তার দিক থেকে স্থিতিশীল বলে মনে করেন।
এ দিকে বাংলাদেশের অপরিশোধিত তেলের পুরোটা আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। প্রধান উৎস দু’টি দেশÑ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর থেকে প্রতিবছর প্রায় সাত থেকে আট লাখ টন ‘আরাবিয়ান লাইট’ ক্রুড বাংলাদেশে আসে। এ ছাড়া আমিরাতের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি আডনকের মাধ্যমেও তেল আমদানি করা হয়। এসব তেলবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসতে হয়।
পরিশোধিত জ্বালানি তেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করা হয়। সরকার-টু-সরকার চুক্তি এবং উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এই তেল কেনা হয়। প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান। সাম্প্রতিক সময়ে বিপিসি যে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে তেল কিনেছে, তার মধ্যে রয়েছে পেট্রোচায়না ও ইউনিপেক (চীন), ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন, পেটকো ট্রেডিং লাবুয়ান (মালয়েশিয়া), পিটিটি (থাইল্যান্ড), ওকিউ ট্রেডিং (ওমান) এবং এনওসি (ইউএই)।





