বিশেষ সংবাদদাতা

সংবিধান সংস্কার কিংবা সংশোধন নিয়ে নির্বাচনের আগে দেশের রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে একটি অভিন্ন লক্ষ্য ও গণ-আকাক্সক্ষা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রাধান্য সেই ঐকমত্যে ফাটল ধরাচ্ছে। ’৭২-এর সংবিধানের কাঠামো অক্ষণœ রেখে শাসনব্যবস্থায় স্বৈরাচারী প্রবণতার পুনরুৎপাদনের আশঙ্কা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ এর পেছনে প্রতিবেশী দেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের ধারাবাহিক রাজনৈতিক তৎপরতার যোগসূত্রও দেখছেন।
তাদের মতে, সংস্কার প্রশ্নে রাজনৈতিক বিভাজন গভীর হলে দলগুলো কার্যকর ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হতে পারে। এর সাথে যুক্ত হবে ভূরাজনৈতিক সমীকরণ ও আন্তর্জাতিক চাপ। ফলে বাংলাদেশে একটি অনিশ্চিত ও অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নানা প্রতিকূলতা, সঙ্ঘাত, অপপ্রচার ও উসকানিমূলক তৎপরতা জনগণ কঠিন সংযমের সাথে মোকাবেলা করলেও এখন তাদের মধ্যে হতাশা ও অনাস্থা বাড়ছে।
সংস্কার টেকসই না হলে কারো জন্যই মঙ্গলজনক হবে না : সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ও সুপ্রিম  কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিকী নয়া দিগন্তকে বলেন, সরকার সংবিধান সংস্কারের জন্য কমিটি গঠন করেছে। কমিটি সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞদের সাথে বৈঠক করছে। সরকারের এই উদ্যোগে মানুষের আস্থা কতটা তৈরি হচ্ছে, তা সামনের দিনগুলোতেই স্পষ্ট হবে।
সরকার নিজেদের মতো করে সংস্কার বাস্তবায়নের কথা বলছে। হাতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা এবং বিরোধী দলের সাথে দূরত্ব বাড়তে থাকায় এ ক্ষেত্রে ‘গিভ অ্যান্ড টেক’ নীতি বজায় থাকবে, নাকি পরিস্থিতি ‘পয়েন্ট অব নো রিটার্নে’ পৌঁছাবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সরকারের আন্তরিকতার ওপর নির্ভর করছে। ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিকী বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার বা সংশোধনের মতো এত বড় একটি বিষয় গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে নেয়া না গেলে এবং বিরোধী দলের অংশগ্রহণ না থাকলে এর গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়। অথচ সংবিধান সংস্কারে সবার অভিন্ন ইচ্ছা ও লক্ষ্য ছিল। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারলে এই সংস্কার টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী হবে। এখনো সময় আছে। সরকারি দল চাইলে বিরোধী দলকে সাথে নিয়ে কাজটি সম্পন্ন করতে পারে। অন্যথায় তা কারো জন্যই শুভ হবে না।’
তিনি বলেন, ‘এত বড় একটি আন্দোলনের পর আমরা যেসব বিষয়ে একমত হয়েছিলাম, সেই ঐক্যের জায়গা থেকে সরে এসে একসাথে কাজ করতে না পারলে এবং সংস্কারের ভিত্তি শক্ত না হলে পরবর্তীতে যেকোনো সরকার ক্ষমতায় এসে এই সংস্কার বা সংশোধনকে নস্যাৎ করে দিতে পারে। এ জন্য সমন্বিত ও অংশগ্রহণমূলক উপায়ে কাজটি করা সবচেয়ে কল্যাণকর।’
আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যে টিকে থাকা সরকার
কবি, চিন্তক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর কোনো কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়নি। রাষ্ট্র গঠনের আকাক্সক্ষায় মৌলিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সবার মতৈক্য না থাকলেও দরকষাকষির মাধ্যমেই তা এগিয়ে নিতে হয়। যদি কিছুই পরিবর্তন না করে রাষ্ট্রকে আগের মতো চলতে দেয়া হয়, শ্রেণিগত অবস্থান টিকে থাকে এবং লুটপাট অব্যাহত থাকে- যেখানে দুর্বৃত্তরা নতুন ক্ষমতার ছত্রছায়ায় প্রশাসন ও স্থানীয় মাস্তানদের সাথে হাত মিলিয়ে অপকর্ম চালিয়ে যাবে- তাহলে তা কিছুতেই কাম্য হতে পারে না।’
তার ভাষায়, ‘বিএনপি পুরনো ক্ষমতার হাতিয়ার নিয়েই নির্বাচন করেছে এবং গণভোটের ম্যান্ডেটকেও অস্বীকার করেছে। এখন হাহাকার করে লাভ নেই, কারণ ভিন্ন কিছু তো হওয়ার কথা ছিল না। বরং মানুষের ধৈর্য দেখে আমি অবাক হই। আগামী দিনে তাদের জন্য আরো ভয়াবহ বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।’
পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘খুব কষ্টে আমরা একটি ভয়ানক রক্তাক্ত পরিস্থিতি এড়াতে পেরেছি। কিন্তু ভবিষ্যতে ছোট ছোট বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অরাজকতা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখছি। রাজনৈতিক দলগুলো এখনো সঠিক ভূমিকা নিতে পারছে না। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির সমীকরণ বুঝতে না পারলে সঙ্ঘাত এড়ানো অসম্ভব।’
তার মতে, এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনি প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও দূরদর্শিতা জরুরি। বর্তমান সরকারের সামনে রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে থাকার প্রশ্ন যেমন রয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবেলা, জ্বালানি সঙ্কটের সমাধান এবং পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের প্রত্যাশা ছিল, অন্তত নিজেদের স্বার্থেই সরকার পুরনো অব্যবস্থার জঞ্জাল পরিষ্কার করবে।
ফরহাদ মজহার বলেন, ‘বিশৃঙ্খলা রোধে দলীয় পক্ষপাতিত্ব এড়িয়ে ইতিবাচক কৌশলে ভূরাজনৈতিক বিবেচনায় আমাদের সমর্থন দিতে হবে। কারণ আমরা আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক শৃঙ্খলে এমনভাবে বন্দী যে চাইলেই তা থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব নয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের নানা সমীকরণ এখানে কাজ করছে।’
তার মতে, সরকারকে অভ্যন্তরীণভাবে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে এবং প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও আইনের শাসনের ক্ষেত্রে জনগণের পক্ষ নিতে হবে। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ যে শক্তির প্রমাণ দিয়েছে- সেটিই সরকারের একমাত্র বৈধতা। এই বৈধতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের পুনর্গঠন না হলে সরকার দুর্বল থাকবে,’ বলেন তিনি।
সরকার পক্ষের চিন্তাশীলরাও হতাশ
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলার চৌধুরী বলেন, সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে সরকার জনগণের কাছে যথেষ্ট স্বচ্ছ নয়। ফলে জনগণ সরকারকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছে না।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বয়ং সংবিধান সংস্কারে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার কথা বললেও সালাহউদ্দিন আহমেদ বলছেন- ‘এ আদেশ মানি না, এ আদেশ বেআইনি’। রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করা উচিত, আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে নয়। এমন রাজনৈতিক কৌশল স্বৈরাচারী আমলেও দেখা গেছে।’
তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিএনপির ওপর জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং সন্দেহপ্রবণতা বাড়ছে। ‘এসব দেখে আমরা হতাশ বোধ করলেও কখনোই চাই না বিএনপি সরকার ব্যর্থ হোক,’ বলেন তিনি।
যেভাবে রাজনৈতিক সঙ্কট আত্মঘাতী রূপ নিচ্ছে
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, গণভোটের পর সংবিধান সংস্কার সভার অস্তিত্ব নিয়ে বিএনপি প্রশ্ন তোলায় রাজনীতিতে নতুন সঙ্কট তৈরি হয়েছে। বিএনপি দ্বিতীয় শপথ না নেয়ায় সংস্কারের প্রাথমিক বন্দোবস্ত ভেঙে পড়েছে এবং সরকারের সাথে বিরোধী দলগুলোর দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে।
তিনি বলেন, ‘এটি একধরনের আত্মঘাতী আচরণ। না বুঝেই হোক বা অবচেতন মনেই হোক, তারা দেশের এবং নিজেদের তথা সরকারের অপূরণীয় ক্ষতি করছেন।’
তার বক্তব্য অনুযায়ী, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে বর্তমান সরকার মানবাধিকার সুরক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলো দুর্বল করে দিচ্ছে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে।
শিশির মনির বলেন, বিচারক নিয়োগ আইন বাতিল, সচিবালয় প্রতিষ্ঠা আইন বা মানবাধিকার আইন সঙ্কুচিত করা কিংবা গুম-খুন থেকে সুরক্ষার আইন সীমিত করার মতো উদ্যোগ দেশের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তার মতে, অতীতের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের চেয়েও কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগও ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে না।
কী দেখার কথা, কী দেখছি!
জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী হায়দার আলীর গানের পঙ্ক্তি- ‘কী দেখার কথা, কী দেখছি... ৩০ বছর পরেও আবার স্বাধীনতাকে খুঁজছি’- এর মতোই দেশের রাজনীতি আবারো পুরনো আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। এক দিকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে দেশে ফেরার নানা ঘোষণা দিচ্ছেন, অন্য দিকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে ‘আগের দিনগুলোই ভালো ছিল’- এমন একটি বয়ান তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কারে জোরালো ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে।
দীর্ঘ দিন ক্ষমতার বাইরে থাকার পর বিএনপির তৃণমূল ও শীর্ষ পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের গ্রুপিং এবং দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে একশ্রেণীর নেতাকর্মীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডও উদ্বেগ তৈরি করছে। দেশের ভেতরে ও বাইরে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের নানা তৎপরতা চলছে- এমন অভিযোগও রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের তৎপরতা দক্ষতার সাঙ্গে মোকাবেলা করা জরুরি। একই সাথে নির্বাচনী বিজয়কে সংস্কারের বিকল্প হিসেবে দেখার প্রবণতাও বিপজ্জনক।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, একই ব্যক্তির হাতে দল ও সরকারের নেতৃত্ব কেন্দ্রীভূত না করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মতো যেসব সংস্কারের কথা আলোচনায় এসেছিল, সেগুলো এখন অনেকটাই আড়ালে চলে যাচ্ছে। এর বিপরীতে আমলাতন্ত্রের প্রভাব ও কর্তৃত্ব বাড়লে গণ-আকাক্সক্ষার ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
বিশৃঙ্খলার অদৃশ্য প্রতিযোগিতা
সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেন, ‘পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে এনসিপি নেতা নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর হামলাকে যেন একধরনের বৈধতা দেয়া হচ্ছে। কেউ তাকে অপছন্দ করতেই পারে; কিন্তু তার ওপর প্রকাশ্য হামলা চালিয়ে উল্টো তাকে জনপ্রিয় করে তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশের মনস্তত্ত্বে নির্যাতিতের পক্ষেই মানুষ সায় দেয়।’ তিনি বলেন, ‘হবিগঞ্জের ঘটনার পর কুষ্টিয়ায় একই ধরনের হামলা প্রমাণ করে যে দলগুলোর মধ্যে একধরনের অদৃশ্য বিশৃঙ্খলার প্রতিযোগিতা চলছে। পুলিশ প্রশাসনকে নিষ্ক্রিয় রেখে এমন সহিংসতা হতে দেয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
সরকারের সাথে জনগণের দূরত্ব কোথায়?
সুপ্রিম কোর্টের ব্যারিস্টার রিজওয়ানা ইউসুফ বলেন, ‘জুলাইয়ের পরও আমাদের আজ ঐক্যের জন্য বসতে হচ্ছে। সব সরকারই জনগণের কথা বললেও বাস্তবে একধরনের দূরত্ব বা গ্যাপ থেকে যায়। নির্বাচিত সরকারের সাথে সাধারণ মানুষের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ এখনো সীমিত।’ তিনি বলেন, সংবিধানে রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ- আইনসভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের ক্ষমতার পৃথকীকরণের কথা বলা হলেও বাস্তবে একটি অঙ্গ আরেকটির ওপর প্রভাব বিস্তার করে। ‘বিচার বিভাগ স্বাধীন থাকলে অনেক সমস্যার সুরাহা আরো সুন্দরভাবে হতো,’ বলেন তিনি। গণমাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি একটি উদাহরণ দেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হাসানুল হক ইনুকে আইসিটি থেকে দুই কনস্টেবল বের করে আনার সময় তিনি বলেছিলেন, ‘স্যার চিন্তা করেন কেন, আমরা তো আছি।’ ঘটনাটি গণমাধ্যমে এমনভাবে প্রচার করা হয় যেন পুলিশ ফ্যাসিস্টকে ফেরাতে সক্রিয় ছিল।
ব্যারিস্টার রিজওয়ানা ইউসুফের ভাষ্য, প্রকৃত ঘটনা ছিল ভিন্ন। উঠান ভেজা থাকায় ইনু পিছলে পড়ে যেতে পারেন- এ আশঙ্কায় কনস্টেবলরা তাকে ধরে সহযোগিতা করেছিলেন। অথচ এ ঘটনায় ওই কনস্টেবলদের চাকরি হারাতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংস্কারের প্রশ্নে শেষ কথা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্যে একটি বিষয়ে কমবেশি অভিন্ন সতর্কতা রয়েছে- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা দলীয় স্বার্থের সঙ্কীর্ণতায় আটকে গেলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সঙ্ঘাত আরো তীব্র হতে পারে। নির্বাচনী সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরকারকে আইন প্রণয়নের শক্তি দিতে পারে; কিন্তু টেকসই রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক ঐকমত্য, প্রতিষ্ঠানগত ভারসাম্য, আইনের শাসন এবং জনগণের আস্থা।
সংস্কার যদি কেবল ক্ষমতাসীন দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর দাঁড়ায়, তাহলে তা পরবর্তী সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে আবারো পাল্টে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে। আর যদি রাজনৈতিক দলগুলো পারস্পরিক অবিশ্বাস, প্রতিহিংসা ও দলীয় স্বার্থের বাইরে এসে একটি ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছতে না পারে, তাহলে জুলাইয়ের গণ-আকাক্সক্ষা বাস্তব রাষ্ট্রীয় সংস্কারে রূপ নেয়ার পরিবর্তে নতুন রাজনৈতিক সঙ্ঘাতের উৎস হয়ে উঠতে পারে। তাই এখন মূল প্রশ্ন কে কত আসন পেয়েছে তা নয়; বরং রাষ্ট্রকে কিভাবে এমন একটি সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো হবে, যাতে কোনো দল, সরকার কিংবা ব্যক্তি ভবিষ্যতে সেই কাঠামোকে নিজেদের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে। সেই ভিত্তি দুর্বল থাকলে নির্বাচনী বিজয় সাময়িক রাজনৈতিক সাফল্য দিতে পারে; কিন্তু রাষ্ট্রকে স্থিতিশীলতা দিতে পারবে না।