বিশেষ সংবাদদাতা
দেশের ব্যাংকিং খাতে করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (সিএসআর) ব্যয়ের দীর্ঘদিনের সম্প্রসারণে বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটেছে। চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন ছয় মাসে ৬১টি তফসিলি ব্যাংক সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতে ব্যয় করেছে মাত্র ১১৯ কোটি চার লাখ টাকা। এর আগের ছয় মাসে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুলাই-ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় ছিল ১৯৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ফলে ছয় মাসের ব্যবধানে ব্যয় কমেছে ৭৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা বা ৩৯.৮৩ শতাংশ।
দেড় দশকের তুলনায় পতনটি আরো তাৎপর্যপূর্ণ। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ে ব্যাংকিং খাতে সিএসআর ব্যয় নিম্নভিত্তি থেকে কয়েক গুণ বেড়েছিল। ২০০৮ সালে যেখানে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় ছিল প্রায় ৪১ কোটি টাকা, ২০১২ সালে তা ৩০৫ কোটি এবং ২০২২ সালে প্রায় এক হাজার ১৪৩ কোটি টাকায় ওঠে; অর্থাৎ ২০০৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ব্যয় বেড়েছিল প্রায় ২৮ গুণ।
কিন্তু এর পর থেকেই চিত্র পাল্টাতে শুরু করে। ২০২৩ সালে সিএসআর ব্যয় কমে প্রায় ৯২৪ কোটি টাকা হয়। ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে তা আরো নেমে আসে ১৫০ কোটি ৫৬ লাখ টাকায়। দ্বিতীয় ছয় মাসে সাময়িকভাবে বেড়ে ১৯৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা হলেও ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে আবার তা ১১৯ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
গতকাল প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের ‘তফসিলি ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিসমূহের সিএসআর কার্যক্রমের ষাণ¥াসিক প্রতিবেদন- জানুয়ারি-জুন ২০২৬’ বিশ্লেষণে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
দেড় দশকের বিস্তার, এখন সঙ্কোচন
ব্যাংকের সিএসআর ব্যয়ের দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একটি উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ দেখা যায়। ২০০৮ সালে প্রায় ৪১ কোটি টাকা থেকে ২০০৯ সালে ৫৫ কোটি এবং ২০১০ সালে প্রায় ২৩৩ কোটি টাকায় ওঠে ব্যয়। ২০১২ সালে তা দাঁড়ায় প্রায় ৩০৫ কোটি টাকা।
এর পরও ব্যয় বাড়তে থাকে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় ছিল প্রায় ৪৪৭ কোটি টাকা, ২০১৩-১৪-তে ৪৪৬ কোটি, ২০১৪-১৫-তে ৫৩৬ কোটি এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৫৫৬ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে তা প্রায় ৭৪৪ কোটি, ২০১৮ সালে ৯০৫ কোটি এবং করোনাকালে ২০২০ সালে প্রায় ৯৬৭ কোটি টাকায় ওঠে।
২০২২ সালে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় প্রথমবারের মতো এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে প্রায় এক হাজার ১৪৩ কোটি টাকায় পৌঁছায়। এরপর অবশ্য নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়।
এই দীর্ঘমেয়াদি চিত্রের বিপরীতে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের ১১৯ কোটি টাকার ব্যয় বিশেষভাবে কম। একই গতিতে পুরো বছর চললে বার্ষিকীকৃত ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ২৩৮ কোটি টাকা; যদিও এটি প্রকৃত বছর শেষের হিসাব নয়। তবু এটি দেড় দশকের শেষ দিকের ৯০০-১,১০০ কোটি টাকার বার্ষিক সিএসআর ব্যয়ের তুলনায় বড় ব্যবধান নির্দেশ করে।
শুধু ব্যয় নয়, অগ্রাধিকারেরও পরিবর্তন
২০২৬ সালের তথ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক শুধু সিএসআর ব্যয় কমে যাওয়া নয়; কোন খাতে অর্থ যাচ্ছে, সেটিও বদলেছে।
জানুয়ারি-জুন সময়ে মোট ১১৯ কোটি চার লাখ টাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি, ৪৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বা ৪০.৭৭ শতাংশ, ব্যয় হয়েছে ‘অন্যান্য’ খাতে। স্বাস্থ্য খাতে ৩৪ কোটি ৬৬ লাখ বা ২৯.১১ শতাংশ এবং শিক্ষা খাতে ২৪ কোটি ১৩ লাখ বা ২০.২৭ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রশমন-অভিযোজন খাতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা বা ৯.৮৪ শতাংশ; অর্থাৎ মোট সিএসআর ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ কমলেও স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় তুলনামূলকভাবে বড় অংশ ধরে রেখেছে ব্যাংকগুলো। অন্য দিকে জলবায়ু খাতের অংশ আগের তুলনায় বাড়লেও মোট ব্যয়ের ১০ শতাংশেরও নিচে রয়েছে।
আগের ছয় মাসের তুলনায় বড় পতন
খাতভিত্তিক তুলনাতেও সিএসআর সঙ্কোচনের স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের জুলাই-ডিসেম্বরে শিক্ষা খাতে ব্যাংকগুলোর ব্যয় ছিল ৪৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তা কমে হয়েছে ২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা। পতন ৪৫.৭৪ শতাংশ।
স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় ৫৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা থেকে কমে ৩৪ কোটি ৬৬ লাখ হয়েছে। কমেছে ৩৯.৭৪ শতাংশ।
সবচেয়ে বড় পতন পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে। ২৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা থেকে ব্যয় নেমে এসেছে ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকায়। পতন ৫৯.৯৯ শতাংশ।
ব্যতিক্রম ‘অন্যান্য’ খাত। ৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা থেকে এ খাতে ব্যয় বেড়ে হয়েছে ৪৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, অর্থাৎ ৩.৭০ শতাংশ বৃদ্ধি।
‘অন্যান্য’ খাতের উল্লেখযোগ্য অংশ আবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় গেছে। শুধু এ উপখাতেই ব্যয় হয়েছে ৩৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বা মোট সিএসআরের ২৮.৮৫ শতাংশ।
আওয়ামী লীগ আমলেও জলবায়ু ছিল পিছিয়ে
তবে জলবায়ু খাতে কম ব্যয়ের প্রবণতা নতুন নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকেও ব্যাংকের সিএসআরের বড় অংশ স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীভূত ছিল।
২০২২ সালে ব্যাংকের সিএসআর ব্যয়ের প্রায় ৬৪ শতাংশ গিয়েছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়। স্বাস্থ্য খাতে ছিল ১৩.৩৯ শতাংশ, শিক্ষা ১২.০১ শতাংশ এবং পরিবেশ ও জলবায়ুতে মাত্র ৩.৩৩ শতাংশ।
২০২৫ অর্থবছরেও মোট সিএসআর ব্যয় ছিল প্রায় ৪৫৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ‘অন্যান্য’ খাতে ৫৪.৩৪ শতাংশ, স্বাস্থ্য খাতে ২২.৮৬ শতাংশ, শিক্ষা খাতে ১৮.৬৩ শতাংশ এবং পরিবেশ ও জলবায়ুতে মাত্র ৪.১৮ শতাংশ ব্যয় হয়। সেই হিসাবে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে ৯.৮৪ শতাংশ অংশগ্রহণ আনুপাতিকভাবে আগের তুলনায় বেশি। কিন্তু একই সময়ে এ খাতে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ কমে যাওয়ায় বিষয়টি ভিন্ন তাৎপর্য বহন করছে; অর্থাৎ জলবায়ু খাতে সিএসআরের অংশ বেড়েছে, কিন্তু মোট সিএসআরের আকার এতটাই সঙ্কুচিত হয়েছে যে বাস্তবে সেখানে বিনিয়োগ কমেছে।
নীতিমালার সাথে বাস্তবতার ফারাক
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর নীতিমালায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রশমন-অভিযোজনকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। নীতিগত কাঠামো অনুযায়ী সিএসআর বাজেটের ৩০ শতাংশ শিক্ষা, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য এবং ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে ব্যয়ের নির্দেশনা রয়েছে। অবশিষ্ট অংশ আয়-উৎসারী কার্যক্রম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিসহ অন্যান্য খাতে ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে।
২০২৩ সালে জলবায়ু ঝুঁকি তহবিল গঠন এবং সিএসআর বাজেটের ১০ শতাংশ সেখানে সংরক্ষণের নির্দেশনাও দেয়া হয়।
কিন্তু ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের বাস্তবতায় শিক্ষা খাতে ব্যয় হয়েছে ২০.২৭ শতাংশ, স্বাস্থ্য ২৯.১১ শতাংশ এবং পরিবেশ ও জলবায়ু ৯.৮৪ শতাংশ। ফলে বিশেষ করে শিক্ষা ও পরিবেশ খাতে নীতিগত লক্ষ্যমাত্রার সাথে বাস্তব ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য ফারাক রয়েছে।
বেসরকারি ব্যাংকেই সিএসআরের মূল ভার
সিএসআর ব্যয়ের ভার মূলত বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ওপর। জানুয়ারি-জুন সময়ে ৪৩টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে ৩৩টি ব্যাংক মোট ১০৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। মোট সিএসআরের ৮৭.১১ শতাংশ এসেছে এই শ্রেণী থেকে।
৯টি বিদেশী ব্যাংকের মধ্যে ছয়টি ব্যাংক ব্যয় করেছে ১২ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা ১০.৮৫ শতাংশ। অন্য দিকে ছয়টি রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে মাত্র সোনালী ও রূপালী ব্যাংক সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে। তাদের সম্মিলিত ব্যয় মাত্র দুই কোটি ৩১ লাখ টাকা বা ১.৯৪ শতাংশ। বিশেষায়িত তিন ব্যাংকের মধ্যে মাত্র একটি ব্যাংক ব্যয় করেছে ১১ লাখ টাকা। ফলে সিএসআরের সামগ্রিক পতনের মধ্যেও সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি দাঁড়ায় রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে।
শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকে ১৮ কোটি টাকা
জানুয়ারি-জুন সময়ে শরিয়াহভিত্তিক ১০টি ব্যাংক সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে মোট ১৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বা প্রায় ১৫.৩৮ শতাংশ।
এর মধ্যে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ১০ কোটি ৫০ লাখ, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পাঁচ কোটি ৯৫ লাখ, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ৩৫ লাখ, এক্সিম ব্যাংক ৮৯ লাখ এবং স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ৬৬ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। তবে এসব ব্যাংকের সিএসআর ব্যয়ের প্রায় পুরোটাই এসেছে অন্যান্য উৎস থেকে। ২০২৫ সালের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা থেকে ব্যয় হয়েছে মাত্র পাঁচ লাখ টাকা।
বিদেশী ব্যাংকে এক ব্যাংকের আধিপত্য
বিদেশী ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও সিএসআর ব্যয়ের চিত্র কেন্দ্রীভূত। নয়টি বিদেশী ব্যাংকের মধ্যে ছয়টি সিএসআর ব্যয় করলেও মোট ১২ কোটি ৯১ লাখ টাকার মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক একাই ব্যয় করেছে ১১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
বিদেশী ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয়ের ৯৯.৩৮ শতাংশ এসেছে ২০২৫ সালে অর্জিত কর-পরবর্তী নিট মুনাফা থেকে। ব্যাংকের তুলনায় নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সিএসআর ব্যয়ের পতন আরও বেশি।
দেশের ৩৫টি ফাইন্যান্স কোম্পানি জানুয়ারি-জুন সময়ে সিএসআর খাতে ব্যয় করেছে মাত্র এক কোটি ৮৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা। আগের ছয় মাসে এ ব্যয় ছিল চার কোটি ৯৯ লাখ টাকা; অর্থাৎ কমেছে ৬২.৯৩ শতাংশ।
এখানেও স্বাস্থ্য খাত সর্বোচ্চ- ৭৭ লাখ ৪৯ হাজার টাকা বা ৪১.৮৫ শতাংশ। শিক্ষা খাতে ৫৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং পরিবেশ ও জলবায়ুতে ৩০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।
কেন এই পতন- সেটিই এখন বড় প্রশ্ন
সিএসআর ব্যয়ের এই পতনকে কোনো একক রাজনৈতিক কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। ব্যাংকিং খাতের আর্থিক দুর্বলতা, খেলাপি ঋণের চাপ, মুনাফা সঙ্কোচন, পুনর্গঠন ও সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাওয়া এবং সামগ্রিকভাবে ব্যাংকের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ- সবই সিএসআর ব্যয়ে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সিএসআরের আকার দ্রুত সঙ্কুচিত হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। আওয়ামী লীগ আমলের দীর্ঘ সময়ে সিএসআর ব্যয় কয়েক গুণ বাড়লেও সেই ব্যয়ের বড় অংশ কোন খাতে এবং কার কাছে যাচ্ছে- এ নিয়ে প্রশ্নও ছিল। ফলে বর্তমান সঙ্কোচনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সিএসআরের পরিমাণের চেয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, প্রকৃত সুবিধাভোগী ও জাতীয় অগ্রাধিকারের সাথে ব্যয়ের সামঞ্জস্য আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের চিত্র বলছে, ব্যাংকিং খাতে সিএসআর এখন শুধু অর্থ ব্যয়ের একটি হিসাব নয়; এটি ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা, সামাজিক দায়বদ্ধতার অগ্রাধিকার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠেছে।
দেড় দশকে ৪১ কোটি টাকা থেকে এক হাজার কোটি টাকার ওপরে ওঠা সিএসআর ব্যয় এখন আবার ১১৯ কোটি টাকার ছয় মাসের স্তরে। ফলে প্রশ্নটি শুধু ‘কত টাকা কমেছে’ নয়; ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতার এই সঙ্কোচন সাময়িক, নাকি সিএসআরের একটি নতুন যুগের সূচনা- তা-ই এখন দেখার বিষয়।





