নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর রামপুরায় পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের গুলিতে নিজ স্বামী আমির হোসেন নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দী দিয়েছেন তার স্ত্রী। গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এ জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রামপুরা এলাকায় ২৮ জন নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৪ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তিনি এ সাক্ষ্য দেন। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সাক্ষীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর মামুনুর রশিদ। শুনানি প্রক্রিয়ায় তার সাথে যুক্ত ছিলেন প্রসিকিউটর মার্জিনা রায়হান ও প্রসিকিউটর মঈনুল করিমসহ প্রসিকিউশনের অন্য আইনজীবীরা।
জবানবন্দীতে নিহতের স্ত্রী আদালতকে জানান, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন আমির হোসেন। নামাজ শেষে তিনি বৈষম্যবিরোধী গণ-আন্দোলনে যোগ দেন। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে হাসান নামে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তার বাড়ির মালিককে জানান যে, রামপুরার একরামুন্নেছা স্কুলের সামনে আমির হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
তিনি বলেন, সংবাদ পাওয়ার পর আমার বাবা ও ভাই তাৎক্ষণিকভাবে তাকে দেখতে রামপুরার বেটার লাইফ হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন। তবে তার আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত অবস্থায় আমার স্বামীকে বাসায় নিয়ে আসেন। পরে জানতে পারি, হাসপাতালে নেয়ার পথেই তিনি ইন্তেকাল করেছেন।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন বেলা সোয়া ২টার দিকে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের ছোড়া গুলি আমির হোসেনের মাথার পেছন দিক দিয়ে ঢুকে চোয়াল দিয়ে বেরিয়ে যায়। জবানবন্দীতে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের জন্য বিজিবি কর্মকর্তা রেদোয়ান ও রাফাত এবং পুলিশ কর্মকর্তা মশিউর রহমান ও রাশেদুলকে অভিযুক্ত করে বলেন, আমি আমার স্বামী হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
মামলার তথ্যসূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রামপুরা এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর ট্রাইব্যুনালে চার আসামির বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
মামলার আসামি বিজিবির তৎকালীন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো: রাফাত বিন আলম বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে ঢাকা সেনানিবাসের সাব-জেলে বন্দী রয়েছেন। অন্য দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো: রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মশিউর রহমান এখনো পলাতক রয়েছেন।