নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চারজনের সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তিতর্ক শেষ করেছে প্রসিকিউশন। অন্য দিকে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে দেয়া ১০ বছরের সাজা অপর্যাপ্ত আখ্যা দিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়া পৃথক মামলায় সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকার সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আপিল বিভাগে এসব আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
হানিফসহ চারজনের সর্বোচ্চ সাজা দাবি
কুষ্টিয়ায় ছয়জন  নিহতের মামলায় মাহবুবউল আলম হানিফসহ পলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে তাদের সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করেছে প্রসিকিউশন। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ দাবি জানানো হয়। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এর আগে গত ১০ জুন যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হলেও প্রসিকিউশন অতিরিক্ত তথ্যপ্রমাণ দাখিল করায় পুনরায় এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আওয়ামী লীগের সিভিলিয়ান লিডার হিসেবে হানিফ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি টেলিফোনে কুষ্টিয়ার এসপি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যাযজ্ঞ চালানোর নির্দেশ দেন, যার কল রেকর্ড প্রমাণ হিসেবে জমা দেয়া হয়েছে। একই অপরাধে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরের সর্বোচ্চ সাজা হওয়ায় হানিফসহ পলাতক চারজনেরই সর্বোচ্চ সাজা দেয়া উচিত বলে তিনি দাবি করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।
ইনুর সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডকে ‘কন্ট্রাডিক্টরি বা সামঞ্জস্যহীন’ উল্লেখ করে তার সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম জানান, নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে ১১টি গ্রাউন্ডের ভিত্তিতে এ আপিল করা হয়েছে। রায়ে যে বিষয়গুলোতে ইনুকে খালাস দেয়া হয়েছে, সেগুলোতেও সাজা চেয়েছেন তারা।
ব্রিফিংয়ে তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক আইনশাস্ত্র অনুযায়ী, আন্দোলন দমনে ইনুর মতো একজন ‘সিভিলিয়ান সুপিরিয়র কমান্ডারে’র উসকানিমূলক নির্দেশনা একজন সামরিক কমান্ডারের নির্দেশের চেয়েও মারাত্মক ছিল। তিনি অপরাধ সংঘটনের পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলেন।
গত ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন এবং পাঁচটি অভিযোগ থেকে খালাস দেন।
কামরুল-মেননের সাক্ষ্য গ্রহণ পেছাল
রাজধানীর বাড্ডাসহ সংলগ্ন এলাকায় ২৩ জনকে হত্যার মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ পিছিয়েছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চ সাক্ষ্য গ্রহণের নতুন দিন ধার্য করেন আগামী ৭ অক্টোবর। এদিন পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দী নেয়ার কথা থাকলেও প্রসিকিউশনের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। সকালে কারাগারে থাকা কামরুল ও মেননকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।