বিশেষ সংবাদদাতা
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসার পর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো বাস্তবে রূপ নেয়নি। বরং ব্যাংকিং খাতের গভীর সঙ্কট, জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতি, দুর্বল বিনিয়োগ, মূল্যস্ফীতি, কম রাজস্ব আহরণ এবং রফতানির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা কমে যাওয়ায় অর্থনীতির ওপর চাপ আরো বাড়ছে। এর প্রেক্ষাপটে চলতি অর্থবছর ২০২৬-২৭-এ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ করেছে বিশ্বব্যাংক।
গত এপ্রিলে বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল। ছয় মাসের ব্যবধানে সেই পূর্বাভাস ১ দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমানো হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানোর হার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এমনকি নতুন পূর্বাভাসটি করোনা মহামারীতে বিপর্যস্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির চেয়েও সামান্য কম।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকবে। পরের অর্থবছর ২০২৭-২৮-এ তা কিছুটা বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। তবে এই পুনরুদ্ধার নির্ভর করবে জ্বালানি সঙ্কট কমানো, বৈশ্বিক পণ্যমূল্যের স্থিতিশীলতা এবং কাঠামোগত সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর।
গতকাল আগারগাঁওস্থ বিশ^ব্যাংকের ঢাকা অফিসে এই বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিং-এ এসব তথ্য জানান বিশ^ব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানে বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেম, মুখ্য অর্থনীতিবিদ ধ্রুব শর্মা এবং অর্থনীতিবিদ নাজমুস সাদাত খান। সঞ্চালনায় ছিলেন, সিনিয়র এক্সটার্নাল অফিসার মেহরীন আহমেদ মাহবুব।
বিশ্বব্যাংক বলছে, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে ও বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে এখনই সংস্কার এগিয়ে নেয়ার সময়। সংস্থাটির বাংলাদেশ ও ভুটানের ডিভিশন ডিরেক্টর জঁ পেসম বলেছেন, ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার প্রয়োজন। দরিদ্রদের সুরক্ষা এবং বেশি ও উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য জরুরি সংস্কারগুলো দ্রুত এগিয়ে নেয়ার ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিন বছর ধরে প্রবৃদ্ধির অবনতি
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। এর মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয় বছরের মতো প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে। বিনিয়োগ ও নিট বাণিজ্যের দুর্বলতাই এই শ্লথগতির প্রধান কারণ। বেসরকারি বিনিয়োগ টানা দ্বিতীয় বছরের মতো সঙ্কুচিত হয়েছে। উচ্চ সুদহার, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানি খাতের সমস্যাগুলো রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে যাওয়ার সুফলকেও অনেকটা ম্লান করে দিয়েছে।
শিল্প খাতেও এর প্রভাব স্পষ্ট। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শিল্প উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ২ শতাংশ। বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে মহামারীর পর প্রথমবারের মতো শিল্প খাত সঙ্কুচিত হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহে বিঘœ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে অনেক কারখানা সক্ষমতার নিচে পরিচালিত হয়েছে কিংবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।
ব্যাংকিং খাত সবচেয়ে বড় ঝুঁকি
বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি এখন ব্যাংকিং খাত। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাত ‘তীব্র ঝুঁকিপূর্ণ’ অবস্থায় রয়েছে। জুন ২০২৬-এ খেলাপি ঋণের অনুপাত মোট ঋণের ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে উঠেছে, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের ২০ দশমিক ২ শতাংশের তুলনায় ব্যাপক বৃদ্ধি। ইসলামী ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত; এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার যথাক্রমে ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ ও ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ।
একই সময়ে ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে গেছে, যেখানে নিয়ন্ত্রক ন্যূনতম মান ১০ শতাংশ। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক জুন পর্যন্ত প্রায় ৭৬ হাজার কোটি টাকা জামানতবিহীন তারল্য সহায়তা দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, এ ধরনের সহায়তা এবং দীর্ঘস্থায়ী নিয়ন্ত্রক ছাড় ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক পুনর্গঠন বিলম্বিত করতে পারে।
এর প্রভাব পড়েছে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহেও। জুনে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি মাত্র ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ৩৩ বছরের মধ্যে সর্বনি¤œ। ফলে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সময়ে ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতের পরিবর্তে সরকারকে ঋণ দিতে বেশি আগ্রহী হওয়ায় অর্থনীতিতে বেসরকারি বিনিয়োগের গতি আরো কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি সঙ্কটে শিল্প উৎপাদন
ব্যাংকিং খাতের পাশাপাশি জ্বালানি সঙ্কটও অর্থনীতির অন্যতম বড় বাধা হয়ে উঠেছে। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। বর্তমানে দেশের গ্যাস চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আমদানি করা এলএনজি থেকে পূরণ হচ্ছে। মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে সমস্যার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এতে শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমেছে, কোথাও কোথাও কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে লোডশেডিং বেড়েছে।
জ্বালানি সঙ্কটের আরেকটি বড় প্রভাব পড়েছে উৎপাদন ব্যয়ে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতির কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
রাজস্ব কম, বাড়ছে সরকারের আর্থিক চাপ
অর্থনীতির আরেকটি দুর্বল জায়গা হলো সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় মোট দেশজ উৎপাদনের মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের কর-রাজস্ব জিডিপির ৭ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে আটকে আছে, যা বিশ্বের অন্যতম নি¤œহার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গত অর্থবছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৮২ দশমিক ৬ শতাংশ অর্জন করতে পেরেছে।
অন্য দিকে সরকারি ব্যয় বাড়ছে। নতুন বেতন কাঠামো, ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণ, ভর্তুকি এবং ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৪ দশমিক ৮ শতাংশে উঠতে পারে। ২০২৭-২৮ অর্থবছরে তা ৪ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। একই সময়ে সরকারি ঋণ ২০২৮ অর্থবছরে জিডিপির ৪৫ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো সরকারের অর্থায়নে ব্যাংকনির্ভরতা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে সরকারের মোট অর্থায়নের ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ এসেছে ব্যাংক ঋণ থেকে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় ঋণ ও ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি পরস্পরের সাথে আরো বেশি যুক্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মূল্যস্ফীতি ও দারিদ্র্যের চাপ
প্রবৃদ্ধি কমার পাশাপাশি উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের ওপরও চাপ বাড়াচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরেও তা ৮ দশমিক ৬ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এর ফলে নি¤œ আয়ের মানুষের প্রকৃত মজুরি কমছে এবং ক্রয়ক্ষমতা দুর্বল হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দৈনিক তিন ডলারের আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের হার বেড়ে ১০ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। এর ফলে প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে ওই দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। একই সময়ে আয় ও ভোগের বৈষম্যও বেড়েছে।
রফতানিতেও বাড়ছে চাপ : রেমিট্যান্সে কিছুটা স্বস্তি
বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যেও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সামগ্রিক রফতানি ০ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। তৈরী পোশাক খাতের ওপরও চাপ বাড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে দুর্বল চাহিদার কারণে স্বল্প মেয়াদে পোশাক রফতানিতে ধীরগতি এবং দীর্ঘ মেয়াদে প্রতিযোগিতা বাড়ার আশঙ্কা করেছে বিশ্বব্যাংক।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও বাংলাদেশের পোশাকের অবস্থান চাপে পড়ছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি ৫ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া থেকে আমদানি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখন শুধু কম উৎপাদন ব্যয়ের দিকে তাকাচ্ছে না; সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, নমনীয়তা, কমপ্লায়েন্স ও ঝুঁকি মোকাবেলার সক্ষমতাকেও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
তবে অর্থনীতির পুরো চিত্রই নেতিবাচক নয়। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৈদেশিক লেনদেনে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২৬ সালের আগস্টে ৩২ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে এবং চলতি হিসাবের ঘাটতি জিডিপির ০ দশমিক ৩ শতাংশে সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে।
তবে রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক প্রবাহ একা অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে পারবে না। কারণ উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, রফতানি সক্ষমতা এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ভিত্তি শক্তিশালী করা কঠিন।
ভর্তুকির কার্যকারিতা ও দ্রুত সংস্কার
বিশ্বব্যাংক সরকারের ভর্তুকি ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির লক্ষ্য নির্ধারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বাংলাদেশ জ্বালানি, সার ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বছরে জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যয় করে। কিন্তু এর বড় অংশ সঠিকভাবে লক্ষ্যভুক্ত হচ্ছে না।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, বিদ্যুৎ ভর্তুকির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তুলনামূলকভাবে সচ্ছল পরিবারের কাছে যাচ্ছে। অন্য দিকে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বাইরে রয়েছে। দরিদ্রদের জন্য বিদ্যমান কর্মসূচিগুলো আরো সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যভিত্তিক করা গেলে অতিরিক্ত প্রায় ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব হতে পারে বলে সংস্থাটি মনে করছে।
বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে বাংলাদেশের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ শুধু প্রবৃদ্ধি বাড়ানো নয়; বরং প্রবৃদ্ধির ভিত্তিকে টেকসই করা। ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করা, খেলাপি ঋণ আদায় ও পুনর্গঠন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো, রাজস্ব আহরণ শক্তিশালী করা এবং সামাজিক সুরক্ষার অর্থ যথাযথভাবে দরিদ্রদের কাছে পৌঁছে দেয়া- এসব ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
ডাইনামিক সোস্যাল রেজিস্ট্রির ওপর গুরুত্ব
দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সঠিক সময়ে সঠিক সহায়তা দেয়ার জন্য ‘ডাইনামিক সোস্যাল রেজিস্ট্রি’ বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এটি এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা এবং তাদের ক্রমাগত তালিকাভুক্তির সুযোগ সৃষ্টি করা যায়। বিশ্বব্যাংকের মতে, ডাইনামিক সোস্যাল রেজিস্ট্রি, ফ্যামিলি কার্ড এবং অন্যান্য সহায়তা কর্মসূচি- যেমন কৃষক কার্ড ও ভর্তুকি- পরস্পরের সাথে যুক্ত করা গেলে সঙ্কটের সময়ে দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীর কাছে দ্রুত সেবা পৌঁছে দেয়ার সরকারি সক্ষমতা বাড়বে।
এআই প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি
বিশ্বব্যাংকের আঞ্চলিক প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় এআই-এর ব্যবহার বাড়ছে। তবে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় এখনো এ অঞ্চলে এর ব্যবহার অনেক পিছিয়ে। তারপরও প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন বাজারের সুযোগ খুঁজতে এআই ব্যবহার করছে এবং সরকারগুলোও সম্মুখসারির কর্মীদের কর্মক্ষমতা বাড়াতে ক্রমবর্ধমানভাবে এআই ব্যবহার করছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, দ্রুত বর্ধনশীল এআই-ভিত্তিক বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনের সুযোগ কাজে লাগাতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে দক্ষতা, অবকাঠামো এবং কর্মী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে এআই ব্যবহারে সক্ষম করে এমন অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে বিনিয়োগ করতে হবে।
সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেছেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দক্ষিণ এশিয়া অসাধারণ সহনশীলতা দেখিয়েছে। তবে প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে এবং আরো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে অঞ্চলটিকে প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তিতে বিনিয়োগ করতে হবে।





