বিদেশগামীদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূত স্মাটকার্ড এবং স্মার্টকার্ড সংশোধন ফি’র নামে যে টাকা প্রতিদিন গ্রহণ করা হচ্ছিল সেটি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বহির্গমন শাখা থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এর আগে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালকের দফতর থেকে বিষয়টি প্রত্যাহার করার জন্য প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানানো হয়। এরপরই মন্ত্রণালয় টাকা আদায় বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
এ দিকে চলতি বছরের নভেম্বর মাস পর্যন্ত সৌদি আরব, কাতার, জাপান, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বৈধভাবে সাড়ে আট লাখের মতো কর্মী পাড়ি জমিয়েছেন। যদিও গতকাল বৃহস্পতিবার বিএমইটির নিজস্ব ওয়েব সাইটে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মী যাওয়ার পরিসংখ্যান দেয়া রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের (কর্মসংস্থান শাখা-২)-এর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপ সচিব মোহাম্মদ হেদায়েতুল ইসলাম মণ্ডল স্বাক্ষরিত ‘বহির্গমন ছাড়পত্রের অনুকূলে গৃহীত স্মার্টকার্ড ফি স্মার্টকার্ড সংশোধন ফি বাতিল সংক্রান্ত’ একটি চিঠি গত ২৬ নভেম্বর জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়, বৈদেশিক কর্মসংস্থানে অভিবাসন ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে নির্ধারিত ইমিগ্রেশন কার্ড (স্মাটকার্ড) ফি বাবদ ২৫০ টাকা এবং স্মার্টকার্ড সংশোধন ফি বাবদ ২৫০ টাকাসহ মোট ৫০০ টাকা আদায় বাতিল করা হলো। কোনো ফিস ছাড়াই কিউআর কোড-সংবলিত বহির্গমন ছাড়পত্র ইস্যু অব্যাহত থাকবে এবং অনলাইনে নিশ্চিত তথ্য থাকবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক (বহির্গমন) মামুন সরদার নয়া দিগন্তকে এই প্রসঙ্গে বলেন, আগে বিদেশগামী কর্মীদের ফাইল এপ্রুপড হলে মেনুয়ালি স্মার্টকার্ড প্রিন্ট করতে হতো। সেই নিয়ম অনেক আগেই বাদ হয়ে গেছে। এখন বিদেশগামী কর্মীরা স্মার্টকার্ড যেকোনো জায়গা থেকেই ডাউন লোড করেই নিতে পারছে। তাহলে স্মার্টকার্ড প্রিন্ট ও সংশোধনের নামে কেন টাকা নেয়া হবে? আমরা মনে করেছি, এই টাকা নেয়া ঠিক হচ্ছে না। এই বিষয়টি অবহিত করে আমাদের ডিজি (মহাপরিচালক) স্যারের নির্দেশে ও আলোচনার পর মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। এর আগে বিএমইটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক স্যারের নেতৃত্বে এ-সংক্রান্ত একটি কমিটি গঠন করা হয়।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে এই খাতে টাকা আদায় না করার জন্য একটি অফিসিয়ালি নির্দেশনা আসে। গত সপ্তাহ থেকেই আমরা নির্দেশনা মোতাবেক এটি কার্যকর করেছি। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বহির্গমন ছাড়পত্র দেয়ার ফ্লো প্রতিদিন বাড়ছে। নভেম্বর মাসে রেকর্ডসংখ্যক কর্মী বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে এক লাখ তিন হাজার। তবে ডিসেম্বর মাসে এই সংখ্যা কমে আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, সৌদি আরবেই বেশি শ্রমিক যাচ্ছে। এরপর অন্যান্য দেশে যায়। ইউরোপের দেশগুলোতে বিএমইটির ওয়ানস্টপ সার্ভিস থেকে দেয়া হচ্ছে। তবে সংখ্যায় কম। মালয়েশিয়ার কাজ আবারো শুরু হয়েছে। তবে রোমানিয়ায় কর্মী কম যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন পরিচালক মামুন সরদার।
এর আগে একাধিক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক নয়া দিগন্তকে বলেন, দীর্ঘ দিন ধরেই স্মার্টকার্ড ও স্মার্টকার্ড সংশোধনের নামে তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। আমরা অনেক আগে থেকেই এই টাকা আদায় বন্ধ রাখার কথা বলছিলাম; কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেটি দেরিতে হলেও আমলে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা। এভাবে বিভিন্ন খাতে যে অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে সেগুলো কমে এলে বিদেশগামীদের অভিবাসন ব্যয় আরো কমে আসবে বলে তারা দাবি করছেন।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর-২৪ মাস পর্যন্ত মোট সাত লাখ শ্রমিক বিদেশে গিয়েছে। এর পরের দুই মাসের পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েব সাইটে নেই। এর মধ্যে সৌদি আরবেই গিয়েছে প্রায় অর্ধেক শ্রমিক। তবে সৌদি আরবে যাওয়া শ্রমিকদের অনেকেই ভালো নেই। তাদের অনেকেই গিয়ে আকামা জটিলতায় কাজ এবং বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। এ ব্যাপারে বিপদে ফেলা কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের জমা দেয়া ভিসার আবেদন আরো বেশি করে যাচাই-বাছাইয়ের পরই যেন বহির্গমন ছাড়পত্র প্রদান করা হয় সে ব্যাপারে অভিবাসন বিশ্লেষকরা মতামত দিয়েছেন।





