বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন এবং ভূমি উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ বলেছেন, বিগত ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচারী সরকার লুটপাটের জন্য ব্ল্যাঙ্ক চেক দিয়েছিল। যে যার মতো লুটপাট করেছে; যে কারণে বর্তমানের এই মুদ্রাস্ফীতি। বর্তমান সরকার এই মুদ্রাস্ফীতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। মুদ্রাস্ফীতি কাটিয়ে উঠতে পারলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টানা সম্ভব হবে।
সোমবার বিকেলে যশোর কালেক্টরেট ভবনের সভাকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। সরকারি কর্মকর্তা, সুধীজন, ছাত্র প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
হাসান আরিফ আরো বলেন, সংস্কার রাতারাতি কোনো ব্যাপার না। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে। আগামীতে নির্বাচিত সরকারকে এটি এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি বলেন, এক হাজারের বেশি শহীদের জীবনের বিনিময়ে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দেশবাসীর অনেক প্রত্যাশা। সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদেরও এই প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে হবে। উপদেষ্টা বলেন, যশোরকে পর্যটন জেলা করার জন্য জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম অনেক আইডিয়া দিয়েছেন। তার আইডিয়াগুলো যাচাই করে উদ্যোগ নেয়া হবে। এখানকার ফুল চাষ পর্যটনের আওতাভুক্ত হতে পারে। ফুল চাষকে সেভাবে গড়ে তোলা গেলে দেশী-বিদেশী পর্যটক আসবে এখানে।
তিনি বলেন, ভূমি অফিসগুলো দুর্নীতিমুক্ত করতে তিন বছর ধরে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সাথে ভূমির সব কার্যক্রম অটোমেটেড করা হচ্ছে দুর্নীতি রোধ করার জন্য।
জেলা প্রশাসক আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল, জেলা শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, জেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মিয়া আব্দুল হালিম, প্রেস ক্লাব সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক রাশেদ খান প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
মতবিনিময় সভায় উপদেষ্টা তার আওতাধীন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের বিষয়সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেন।





