বাংলাদেশ ও ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের চ্যালেঞ্জগুলো স্বীকার করে নিয়ে তা সুরাহার একসাথে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছে। ওমানের রাজধানী মাস্কাটে গতকাল থেকে শুরু হওয়া দুই দিনের অস্টম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনের (আইওসি) সাইডলাইনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সাথে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। গত বছর সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনের (ইউএনজিএ) সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পাঁচ মাস পর মাস্কাটে তারা মিলিত হলেন।
অস্টম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এবারের সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে সামুদ্রিক অংশীদারিত্ব, গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বরকে আরো জোরদার করা, সামুদ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষা, সামুদ্রিক সরবরাহ চেইন শক্তিশালী করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।
ইউএনজিএ’র সাইডলাইনে বৈঠকের পর থেকে বাংলাদেশে ও ভারতের সম্পর্ক নিয়ে তৌহিদ হোসেন ও এস জয়শঙ্কর আলোচনা করেন। এর মধ্যে ছিল ৯ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিবদের বৈঠক, ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জ্বালানি উপদেষ্টা দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভারত জ্বালানি সপ্তাহে যোগ দেয়া ইত্যাদি। আগামী ১৮ ও ২০ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ বৈঠকে সীমান্তসংক্রান্ত ইস্যুগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলে বলে উভয়ে আশা প্রকাশ করেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা পদ্মার পানি বন্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনা শুরুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্কের স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠানের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়ার জন্য জয়শঙ্করকে অনুরোধ জানান।
গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ক্রমাগত অভিযোগ, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের ব্যানারে ভাঙচুর এবং জাতীয় পতাকার অবমাননা, ভারতের আশ্রয়ে থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার বক্তব্য ও নির্দেশনা এবং সর্বশেষ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বাড়িঘরে ছাত্র-জনতার হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। দুই দেশের কূটনীতিকদের তলব-পাল্টা তলবের মাধ্যমে পরিস্থিতির জন্য পরস্পরকে দায়ী করা হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে মাস্কাটে জয়শঙ্করের সাথে বৈঠকে সম্পর্কের আর যাতে অবনতি না ঘটে সেই বার্তা দিয়েছেন তৌহিদ হোসেন।
আইওসির সাইডলাইনে তৌহিদ হোসেন ব্রুনাইয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভিয়েতনামের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তানজানিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়। আজ সোমবার তিনি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করবেন। এর আগে সম্মেলনের প্লানারি সেশনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ভারত মহাসাগরের সাথে বাংলাদেশের গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধন রয়েছে। সামুদ্রিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা সমন্বিত অগ্রগতি এবং টেকসই ও শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের নিশ্চয়তা দেয়।
প্লানারি সেশনের বিষয়বস্তু ছিল সামুদ্রিক সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী করা। এতে সভাপতিত্ব করেন ওমানের ডিপ্লোমেটিক অ্যাকডেমির প্রধান শেখ হুমাদ আল মানি।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের চ্যালেঞ্জ স্বীকার করেছে ঢাকা-দিল্লি
মাস্কাটে সুরাহা নিয়ে আলোচনা
বাংলাদেশ ও ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের চ্যালেঞ্জগুলো স্বীকার করে নিয়ে তা সুরাহার একসাথে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছে। ওমানের রাজধানী মাস্কাটে গতকাল থেকে শুরু হওয়া...





