মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীতে গত মঙ্গলবার ডুবে যাওয়া মাটিভর্তি ট্রলারটি এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে নদীর তলদেশে স্ক্যান করে ট্রলার জাতীয় কিছু একটার অস্তিত্ব পাওয়ার কথা জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। উদ্ধার কাজের গতি বাড়াতে যোগ দিয়েছে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় ও নৌবাহিনীর আট সদস্যদের বিশেষ টিম। এদিকে মেঘনার পাড়ে ট্রলারের নিখোঁজ ২০ শ্রমিকের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার পরিবেশ।
কারো স্বামী, কারো ছেলে, কারো ভাই আবার কারো নিকটাত্মীয় নিখোঁজ রয়েছেন। কিন্তু তিন দিন পার হলেও তাদের সন্ধান মিলেনি। তাদের সন্ধান পেতে তাই মেঘনার পাড়ে আশ্রয় নিয়েছেন স্বজনরা। তারা অন্তত প্রিয় মানুষটির লাশটি নিয়ে বাড়ি ফিরতে চান।
ফায়ার সার্ভিস বলছে, দুর্ঘটনার সময় শ্রমিকেরা প্রায় সবাই ঘুমিয়ে থাকায় ট্রলার ডুবির স্থানটি সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারছেন না তারা। আর ট্রলারের চালকও নিখোঁজ থাকায় অনেকটা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে তাদের অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করতে হচ্ছে। মেঘনা নদীর এই অংশের গভীরতা ও প্রশস্ততা বেশি হওয়ায় উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হচ্ছে তাদের।
এদিকে গতকাল দুপুরের পর অত্যাধুনিক সাইড স্ক্যান সোনার প্রযুক্তির মাধ্যমে নিখোঁজ ট্রলারটি অবস্থান শনাক্ত করতে সম্ভাব্য এলাকায় নদীর তলদেশের ছবিতে ট্রলার জাতীয় কিছু একটার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে বলে জানান উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা। তবে এটি সেই ডুবে যাওয়া ট্রলার কি-না তা এখন নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন তারা।
বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডোর মোজাম্মেল হক দুর্ঘটনাস্থল থেকে জানান, আমরা নদীর নিচে ট্রলার সাদৃশ একটি ইমেজ পেয়েছি তবে তা ট্রলার কিনা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঢাকা থেকে আরো ইকুইপমেন্ট আনা হয়েছে। একই সাথে নৌবাহিনীর আট সদস্যের বিশেষ টিম ও নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে। আশা করছি অচিরেই ট্রলারটির খোঁজ পাওয়া যাবে।
গত মঙ্গলবার ভোরে মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় মাটি বোঝাই একটি ট্রলার ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারে থাকা ১৪ জন শ্রমিক সাঁতরিয়ে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও অন্তত ২০ শ্রমিক নিখোঁজ হন। এ দুর্ঘটনার এক দিন পর বুধবার উদ্ধার অভিযান শুরু করে প্রশাসন।