রিয়াদ রাজধানীর রামপুরা থানায় অবস্থিত একটি নামকরা বেসরকারি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ে। স্কুল থেকে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ধর্ম, সাধারণ জ্ঞান স্পোকেন বিষয়ের শিট দেয়া হয়েছে পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য। গণিত শিটে রয়েছে জ্যামিতি। বার্ষিক পরীক্ষার জন্য জ্যামিতির মধ্যে রয়েছে সমকোণী ত্রিভুজ, সূক্ষ্মকোণী ত্রিভুজ, স্থূলকোণী ত্রিভুজ, ঘনবস্তু। এসবের সংজ্ঞা দেয়া রয়েছে ছবিসহ। এ ছাড়া রয়েছে গোলক, বেলুনসহ আরো বেশ কিছু বিষয়ের ছবি। তবে এসবের সংজ্ঞা নেই।
স্কুল থেকে দেয়া শিটের জ্যামিতি বিষয়ে রিয়াদের বাবা এ প্রতিবেদককে বলেন, সমকোণী ত্রিভুজ, সূক্ষ্মকোণী ত্রিভুজ, স্থূলকোণী ত্রিভুজ বুঝতে হলে ৯০ ডিগ্রি, ১৮০ ডিগ্রি, ৩৬০ ডিগ্রি সম্পর্কে ধারণা পরিষ্কার থাকতে হবে। এসব কোণ ও ত্রিভুজ আঁকতে হলে চাদা, কম্পাসসহ জ্যামিতিক ইনস্ট্রুমেন্টের ব্যবহারও জানতে হবে।
রিয়াদের বাবা জানান, তার ছেলেকে ৩৬০ ডিগ্রি, ১৮০ ডিগ্রি, ৯০ ডিগ্রি বিষয়ে যতই বোঝানো হোক না কেন সে তা বুঝতে পারছে না। বুঝতে পারছে না সমকোণ, সূক্ষ্মকোণ আসলে কী। কারণ দ্বিতীয় শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে এসব বিষয় ধারণ করা অসম্ভব। ফলে সে না বুঝে কেবল মাত্র এসব ত্রিভুজের সংজ্ঞা মুখস্ত করছে এবং ছবি আঁকছে যেভাবে আমরা দেখিয়ে দিচ্ছি সেভাবে। আসলে সে এসবের কিছুই বুঝতে পারছে না।
রিয়াদের বাবা জানান, সরকার থেকে পাঠ্য করা মূল বইয়ে সমকোণী ত্রিভুজ, সূক্ষ্মকোণী ত্রিভুজ, স্থূলকোণী ত্রিভুজ নেই। মূল বই দেখিয়ে তিনি বলেন, জ্যামিতিক আকৃতি নামে একটি অধ্যায় রয়েছে। সেখানে পাঁচ পৃষ্ঠাজুড়ে জ্যামিতিক আকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন আকৃতির যেসব বস্তু রয়েছে তার জ্যামিতিক নাম বোঝানো হয়েছে। মূল বইয়ে ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ, বাহু, শীর্ষ বিন্দু ছবিসহ সংজ্ঞা দেয়া আছে। তবে অনেকটা সহজভাবে তা উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন বস্তু বল, ইট, তরমুজ, চোঙ্গা, মাছ ধরার পলো, গ্লাস, মগ, লুড়–র ছক্কা, কোন আইসক্রিম প্রভৃতি ছবি দিয়ে কোনটির আকৃতিকে জ্যামিতিক ভাষায় কী বলে তা উল্লেখ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে কিছু অনুশীলনী রয়েছে।
দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের আরো কয়েকজন অভিভাবকের সাথে আলাপ করা হলে তারাও জানান তাদের সন্তানরা শিটের জ্যামিতি বিষয়ে বুঝিয়ে বললেও বোঝে না। শুধু মুখস্ত করানো হচ্ছে।
অনেক অভিভাবক দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি গণিত বইয়ে জ্যামিতি রাখার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাদের মতে বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ বইয়ের বাইরে আলাদা শিটের মাধ্যমে যে জ্যামিতি শিক্ষা দিচ্ছে তা তো অবশ্যই বাড়াবাড়ি। তা ছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি গণিত বইয়ে জ্যামিতি অন্তর্ভুক্ত করাটাও অবশ্যই বাড়াবাড়ি।
দ্বিতীয় শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থীকে এসব কেন শেখানো হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক অভিভাবক।
অভিভাবকদের কেউ কেউ বলেছেন, তাদের সময় প্রাথমিক পর্যায়ে জ্যামিতি ছিল বলে তারা মনে করতে পারছেন না। তাদের সময়ে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকেই জ্যামিতি বিষয়ে প্রথম আলোকপাত করা হয়েছে বলে জানান কেউ কেউ। কিন্তু প্রাথমিকে তাদের এসব পড়তে হয়েছে বলে মনে করতে পারছেন না। অথচ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় দ্বিতীয় শ্রেণীর গণিত বইয়ে জ্যামিতি অন্তর্ভুক্ত করাটা অনেকেই মানতে পারছেন না।





