শীতের মৌসুমের শুরুতেই পর্যটকে টইটম্বুর এখন বান্দরবান। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। জেলা শহরের কাছের পর্যটনকেন্দ্রগুলো থেকে শুরু করে সুদূর থানছি উপজেলার রেমাক্রি, তিন্দু বড় পাথর, বগালেক দুর্গম কেওক্রাডংসহ বিভিন্ন জায়গায় হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত এখন এলাকাগুলো। সবচেয়ে বেশি পর্যটক ভিড় করছেন রুমার বগালেক ও থানছির নাফাখুম এলাকায়। সেইসাথে চিম্বুক পাহাড়ের নীলগিরি, শহরের কাছে নীলাচল ও মেঘলায় পর্যটকদের ভিড় ক্রমাগত বাড়ছে। শহরের কাছে স্বর্ণমন্দির ও রামজাদিতেও পর্যটকরা যাচ্ছেন। পর্যটক যে হারে বাড়ছে সেই সাথে দুর্ভোগও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বেড়াতে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় পর্যটকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে তারা অভিযোগ করেছেন। দুর্গম এলাকায় পর্যাপ্ত টয়লেটের অভাব ও পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা না থাকায় পর্যটকরা দুর্ভোগের মধ্যে পড়ছেন। প্রতিষ্ঠিত পর্যটনকেন্দ্রগুলোতেও পর্যটকদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অনেক পর্যটক বলছেন, এসব সমস্যার সমাধান না হলে বান্দরবান থেকে পর্যটকরা মুখ ঘুরিয়ে নেবেন।
নানা সমস্যার কারণে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে গত ২-৩ বছর ধরে পর্যটকদের বেড়ানোর হার কমে গেছে বলে এখানকার পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। বিদেশী পর্যটকদের হারও কমেছে বলে তারা জানান।
সুদূর খুলনা থেকে বেড়াতে আসা ব্যবসায়ী দম্পতি আমিনুল হক ও তার স্ত্রী রহিমা খাতুন জানিয়েছেন, বান্দরবানের কাছে নীলাচল পর্যটনকেন্দ্র থেকে শুরু করে চিম্বুক পাহাড়ের নীলগিরি পর্যন্ত পর্যটকরা বেড়াতে গিয়ে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত টয়লেট ও খাবারের অভাব রয়েছে। নিরাপত্তা চৌকিগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে পর্যটকরা দুর্ভোগের মধ্যে পড়ছেন।
চট্টগ্রামের পর্যটক খোরশেদ আলম জানিয়েছেন, শহরের কাছে নীলাচল পর্যটনকেন্দ্রে যেতে দুই দফায় টাকা আদায় করা হচ্ছে। এটি দেশের অন্য কোনো জায়গায় নেই বলে তারা জানিয়েছেন।
মেঘলায় বেড়াতে আসা পর্যটকরা জানিয়েছেন, এই পর্যটন কেন্দ্রটি পুরনো হলেও এটির সংস্কারে প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই। অথচ খুব সুন্দরভাবেই চট্টগ্রামের ফয়জ লেকের মতো পর্যটনকেন্দ্র বানানো যেত। তবে পর্যটকরা বান্দরবান শহরের কাছে নীলাচল স্বর্ণমন্দির রামজাদিসহ অন্যান্য কেন্দ্রগুলো নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এ দিকে বান্দরবান চিম্বুক সড়কের ওয়াই জংশন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে পর্যটকদের গাড়ির দীর্ঘ লাইন। পর্যটকদের গাড়ি ছাড়াও যাত্রীবাহী গাড়িগুলো আটকে রয়েছে। খোঁজ নিতে গিয়ে পর্যটকরা জানিয়েছেন, ওয়াই জংশনে নিরাপত্তার জন্য পর্যটকদের যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে সেখানে দীর্ঘ সময় পার করা হচ্ছে। এতে করে পর্যটকদের দুর্ভোগ ছাড়াও এই সড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। একই অবস্থা দেখা গেছে থানছি ও রুমায়। পর্যটকরা জানিয়েছেন এ প্রক্রিয়াটি আরো সহজ করা গেলে পর্যটকদের হার বান্দরবানে আরো বাড়বে।
বান্দরবান হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল আলম জানিয়েছেন, বছরের শুরু থেকে বান্দরবানে নানা কারণে পর্যটকদের আগমনে অত্যন্ত কম ছিল। গত ২-৩ ধরে থেকে বান্দরবানে এই অবস্থা চলছে। তবে বছরের শেষ দিকে শীতের মৌসুমের শুরুতেই বান্দরবানে পর্যটকদের আগমন সন্তোষজনক। কিন্তু পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধান করা গেলে পর্যটকদের আগমন আরো বাড়বে বলে তিনি জানিয়েছেন।
বান্দরবান জিপ মাইক্রো মালিক সমিতির সভাপতি নাসিরুল আলম জানিয়েছেন, পর্যটকদের জন্য সেসব খোলা জিপ (চান্দের গাড়ি) রয়েছে এগুলোর চলাচলে অনেক জায়গায় সীমিত করে দেয়া হয়েছে। যার কারণে পর্যটকরা দুর্ভোগের মধ্যে পড়ছেন। রুমা উপজেলায় বেড়াতে যাওয়া পর্যটকরা জানিয়েছেন, দুর্গম বগালেক-কেওক্রাডংসহ বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে গিয়ে পর্যটকরা যানবাহনের জন্য চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক শামীম আহমেদ জানিয়েছেন, বান্দরবানে বেড়াতে গিয়ে পর্যটকদের যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে তা দিয়ে পার্শ^বর্তী দেশগুলো সহজেই ঘোরা যায়। পর্যটকদের ব্যয় আরো কমানো যেতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।
বান্দরবানে পর্যটকদের সমস্যা সম্ভাবনা নিয়ে জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলামের সাথে কথা বলা হলে তিনি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বান্দরবানে পর্যটকদের আগমন অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেড়েছে তবে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। এগুলো চিহ্নিত করে তা দ্রুত সমাধান করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।