আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঢাকা সিটি নির্বচনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আওয়ালের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে বলেন, যদি কোনো প্রার্থী বা ক্যাম্পেইনের ওপর যদি কোনো হামলা হয়ে থাকে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অর্থাৎ যারা ব্যবস্থা নিতে পারে এখন তারা নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত আছে। ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নির্বাচন কমিশন এখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি এখন একটা নালিশনির্ভর দল হয়ে গেছে। আন্দোলন, নির্বাচন কোথাও তাদের সাফল্য নেই। তারা নালিশনির্ভর রাজনীতি করছে। বিদেশীদের কাছে ধরনা দিচ্ছে এবং নালিশ করছে। নির্বাচন, আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে এখন নালিশ করা ছাড়া তাদের আর রাজনৈতিক পুঁজি নেই।
তিনি গতকাল বুধবার সকালে কক্সবাজার শহরের কলাতলির সুগন্ধা পয়েন্টে সম্প্রসারিত চার লোইন সড়কের কাজ পরিদর্শন শেষে সংবাদ মাধ্যমের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের আমরা মানবিক সাহায্য করেছি, সেই মানবিক সাহায্য এখন আমাদেরকে মানবিক সঙ্কটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ভারত, চীনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের ওপর আরো চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চার লেইনের কাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। নানা কারণে এখন কক্সবাজারের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে।
এ সময় কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, মহিলা সংসদ সদস্য কানিজ ফাতেমা মোস্তাক, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র মজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনের আগে জনদরদির অভিনয় করি, পরে ভুলে যাই
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রাজনীতিকদের প্রতি আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘আমরা রাজনীতিকরা নির্বাচনের আগে মানুষকে কাছে টানি, প্রতিশ্রুতির রঙিন বেলুন উড়াই। মনে হয় আমরা কত আপন, কত জনদরদি! নির্বাচন শেষ হলে আমরা অবলীলায় সব ভুলে যাই। ভুলে যাই প্রতিশ্রুতির কথা। নির্বাচনের সময় মানুষের কাছে গিয়ে জনদরদির মতো যে অভিনয় করি নির্বাচনের পরে সত্যিকারের যে পরিচয় তা মানুষ বুঝতে পারে।’ গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি মেহেরুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রীর মরহুম সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন বীরবিক্রম, পিএসসির নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ‘মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন সব সঙ্কটের সময় নেত্রীর পাশে ছিলেন। ক্রাইসিসে আবেদীন ছুটে আসতেন। তিনি দলের কর্মীদের সাথে, জনগণের সাথে গণভবন ও সরকারের সাথে সেতুবন্ধন রচনা করেছিলেন। তিনি বিনয়ী ছিলেন। কোনো অহঙ্কার ছিল না তার। একজন সৈনিক হয়েও পেশাগত জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে জনগণের সাথে অবাধে মিশে যেতে পারতেন।’
শোকসভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী আরো বলেন, জেনারেল আবেদীনকে আমি শ্রদ্ধা করি, স্যালুট করি। তিনি চলে গেছেন কিন্তু রেখে গেছেন বহু কীর্তি। তিনি তার কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশবাসীর হৃদয়ে আজীবন বেঁচে থাকবেন।’
সভায় মন্ত্রী বীরবিক্রম জয়নুল আবেদীন উচ্চবিদ্যালয়কে বিশেষ বিবেচনায় এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেন।
মরহুমের বড় ভাই মুহাম্মদ ইসমাইল মানিকের সভাপতিত্বে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌছিফ আহমদের উপস্থাপনায় শোকসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ মোছলেম উদ্দিন আহমেদ এমপি প্রমুখ।
এতে আরো উপস্থিত ছিলেন শোকসভা উপদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব ও লোহাগাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো: সালাহ উদ্দিন হিরু প্রমুখ। শোকসভা শুরুর আগে সামরিক সচিবের কবর জেয়ারত করেন প্রধান অতিথিসহ অন্যরা। সভার শুরুতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।