করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্যবহৃত এন-৯৫ মাস্ক ও পিপিইসহ বিভিন্ন সুরক্ষাসামগ্রী ক্রয়ে দুর্নীতির হোতাদের ধরতে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতোমধ্যে অনুসন্ধানের জন্য চার সদস্যের একটি টিম গঠন করেছে দুদক।
এন-৯৫ মাস্ক কেলেঙ্কারির ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, মাস্ক বা পিপিইর মতো গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীদের জীবনের নিরাপত্তার সাথে সম্পৃক্ত। তাই এসব সুরক্ষা সামগ্রীর ক্রয় দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে। যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।
এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, এন-৯৫ মাস্কসহ সরকারি ক্রয় বিতরণ খাতে স্বচ্ছ নীতিমালা অনুসরণ করা জরুরি। আমাদের পর্যবেক্ষণ তা হয়নি। যে কারণে মাস্ক ক্রয়ে কেলেঙ্কারি ঘটেছে। সেই কেলেঙ্কারি উদঘাটনে যে কমিটি গঠিত হয়েছে, তার প্রতিবেদন চাপা রাখা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগকে পুঁজি করে পরস্পর যোগসাজশে সম্পদ বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, এন-৯৫ মাস্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় সোমবার কমিশন থেকে চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী দুর্নীতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে কমিশন সংস্থাটির গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালককে প্রধান করে টিম গঠন করার নির্দেশনা দেয়। দুদক পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে গঠিত টিমের অন্য সদস্যরা হলেন উপ-পরিচালক নুরুল হুদা, সহকারী পরিচালক মো: সাইদুজ্জামান ও আতাউর রহমান।
দুদকের একজন কর্মকর্তা বলেন, করোনাভাইরাসের মতো পরিস্থিতিতে মাস্ক ও পিপিই ক্রয় দুর্নীতির বিষয়ে দুদক অধিক গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। সে জন্য দুদক গোয়েন্দা বিভাগের একজন পরিচালককে টিম প্রধান করেছে। এর পেছনে যে সিন্ডিকেটই থাকুক না কেন তাদের খুঁজে বের করা হবে।
সূত্র জানায়, গত ১০ জুন দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এক জরুরি বৈঠকে করোনাকালে এন-৯৫ মাস্ক, পিপিইসহ সুরক্ষামূলক সামগ্রী ক্রয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি-প্রতারণার অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। মাস্ক কেলেঙ্কারি নিয়ে প্রথমে স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটার দুর্নীতির বিষয়টি সামনে আসে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এন-৯৫ এর মোড়কে করে সাধারণ মাস্ক সরবরাহ করে সিএমএসডি কর্তৃপক্ষ। তারা দাবি করে, এন-৯৫ মাস্কের কোনো কার্যাদেশ জেএমআইকে দেয়নি। পরে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ প্রসঙ্গ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিষয়টি তদন্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করে। এন-৯৫ মাস্ক ও পিপিই ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মাধ্যমে অনিয়ম-দুর্নীতি বা প্রতারণার কিছু অভিযোগ দুদকের হটলাইনে (১০৬) আসে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সিএমএসডির ৯০০ কোটি টাকার কেনাকাটায় দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে। করোনা দুর্যোগ মোকাবেলায় বিভিন্ন সামগ্রী কেনাকাটা নিয়ে একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। ৯০০ কোটি টাকা কেনাকাটার কথা বলা হলেও তার অর্ধেক টাকার সামগ্রী কেনা হয়নি। বাড়তি মূল্য দেখিয়ে ঠিকাদারদের সাথে জোগসাজশে টাকা লোপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দুদক মাঠে নেমেছে এন-৯৫ মাস্ক ক্রয় কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের খোঁজে
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্যবহৃত এন-৯৫ মাস্ক ও পিপিইসহ বিভিন্ন সুরক্ষাসামগ্রী ক্রয়ে দুর্নীতির হোতাদের ধরতে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতোমধ্যে অনুসন্ধানের জন্য চার সদস্যের একটি...





