ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের মুলতবি অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেটের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ বছর মোট বাজেটের আকার ৮৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। গতকাল বেলা সাড়ে ৩টায় এ অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ অর্থ বছরের মূল বাজেট এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট উপস্থাপন করেন ভারপ্রাপ্ত কোষাধ্যক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ।
এর আগে ২৮ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স কমিটিতে বাজেট উপস্থাপন করা হয়। গত ২০ জুলাই সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট আগামী অর্থবছরের জন্য ৮৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন দেয়। পরে বৃহস্পতিবার সিনেট অধিবেশনে তা চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়।
এই বাজেট বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ৭৪৮ কোটি ছয় লাখ টাকা অনুদান দেবে। অন্য দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব খাত তথা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি, ভর্তি ফরম বিক্রি, বেতন-ভাতা থেকে কর্তন, সম্পত্তিসহ অন্যান্য খাত থেকে ৭১ কোটি টাকা আয় হবে। এই দুই খাত থেকে ৮১৯ কোটি ছয় লাখ টাকা আয় হলেও বাজেটে ৫০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঘাটতি থাকবে। অর্থাৎ, বরাবরের মতোই এবারো বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে ঘাটতি দেখানো হয়েছে।
এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গত পাঁচ বছরের বাজেট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, যুগের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে প্রতি বছরই বাড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট। তবে বাজেট বাড়ার সাথে সাথে এর সাথে সমন্বয় করে শিক্ষা ও গবেষণায় পর্যাপ্ত হারে বরাদ্দ বাড়ছে না। কখনো গবেষণায় তুলনামূলক বরাদ্দ বাড়লেও তা ব্যয় করার মতো গবেষণা হচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়ে।
গত পাঁচ বছরে বাজেট বৃদ্ধির হার ঊর্ধ্বমুখী : বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, পাঁচ অর্থবছরে বাজেটের আকার বেড়েছে ৪৪ কোটি ৪০ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার বাজেট প্রণয়ন করা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোট বাজেটের আকার বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬৪ কোটি ১১ লাখে। একইভাবে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৬৬৪ কোটি ৩৭ লাখ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭৪১ কোটি ১৩ লাখ, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৮১০ কোটি ৪২ লাখ এবং আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে ৫৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা বেশি।
তিন বছরের মাথায় গবেষণায় বরাদ্দের হার নিম্নমুখী : বাজেটের আকার ঊর্ধ্বমুখী হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় বরাদ্দের হার নিম্নমুখী। গত তিন বছরের গবেষণায় বরাদ্দের হার তুলনামূলক কমছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট এবং প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৮১০ কোটি ৪২ লাখ টাকা। সেখানে গবেষণায় মোট বরাদ্দ ছিল ৪০ কোটি ৮০ লাখ ৭০ হাজার টাকা, যা ছিল বাজেটের ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ ছিল বাজেটের ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। তার আগে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চেয়ে ২ শতাংশ বাড়িয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে গবেষণা খাতে বরাদ্দ দেয়া হয় ৩৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের মাত্র ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ। তবে সে হিসাবে সর্বশেষ দুই অর্থবছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় বরাদ্দ ক্রমাগত কমেছে।
এবারের ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য প্র্রস্তাবিত বাজেটে গবেষণা খাতে মোট বরাদ্দ করা হয়েছে ৪০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। শতাংশের হিসাবে এই বরাদ্দ মোট বাজেটের ৪.৭ ভাগ। এর মধ্যে কয়েকটি অনুষদের গবেষণার সরঞ্জাম কেনা এবং কয়েকটি অনুষদ-বিভাগের ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি কেনা ও ল্যাব স্থাপনে ১৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া গবেষণা মঞ্জুরি হিসাবে রয়েছে ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং শিক্ষকদের গবেষণা ভাতা হিসেবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮ কোটি টাকা।
এ দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গত বছরের (২০১৯-২০ অর্থবছর) বাজেটে গবেষণা খাতে মোট বরাদ্দ ছিল ৪০ কোটি ৮০ লাখ ৭০ হাজার টাকা। কিন্তু সংশোধিত বাজেটে গবেষণা খাতে মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৮ কোটি ৭২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ, গবেষণা-বরাদ্দের পুরো টাকা ব্যয় করতে পারেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ঢাবির সিনেটে ইতিহাসের বড় বাজেট অনুমোদন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের মুলতবি অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেটের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ বছর মোট বাজেটের আকার ৮৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। গতকাল বেলা...





