ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে করোনা থেকে সুস্থ হওয়া ১৩০ জনের শরীর থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত এ প্লাজমার একটি অংশ ঢামেকে করোনা ইউনিটে ভর্তি ৫০ জন করোনা আক্রান্তের শরীরে প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও জানান কর্তৃপক্ষ। গতকাল সোমবার বিকেলে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন ।
তিনি বলেন, এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্ত কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হওয়া ১৩০ জন রোগী স্বেচ্ছায় প্লাজমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ঢামেকে করোনা ইউনিটে ভর্তি ৫০ রোগীর শরীরে প্লাজমা দেয়া হয়েছে। অন্যগুলো বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের মুমূর্ষু রোগীদের দেয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, চিকিৎসক, নার্সসহ অনেকেই স্বেচ্ছায় প্লাজমা দিয়েছেন। এ পদ্ধতিতে অনেক রোগী সুস্থ হয়েছেন। গত ১৬ মে প্রথমবারের মতো তিন করোনাজয়ী চিকিৎসকের শরীর থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। ওই সময় পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন এর উদ্বোধন করেন। প্লাজমা সংগ্রহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারা বিশ্ব করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। আমাদের দেশও আক্রান্ত। এ পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্লাজমা নেয়া শুরু করা হয়। করোনাজয়ী তিনজন চিকিৎসক দিয়ে শুরু করেছিলাম প্লাজমা সংগ্রহের কার্যক্রম। এমনি পর্যায়ক্রমে অনেকেই প্লাজমা দিয়েছেন, এখনো দিচ্ছেন।
প্লাজমা থেরাপির সুফল সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন বলে অভিমত প্রকাশ করেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ও প্লাজমা থেরাপি সাব-কমিটির প্রধান অধ্যাপক ডা: এম এ খান।
তিনি বলেন, আমরা ন্যাশনাল এক্সপান্টেড অ্যাক্সেস প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্লাজমা থেরাপির সুফল বা এর কার্যক্রম সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারি। এর জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরকে একটি পরিকল্পনা নিতে হবে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগ প্লাজমা সংগ্রহ করবে। তারা এসোপি তৈরি করবে এবং এসোপির মাধ্যমে কাদের থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করা হবে, কতখানি প্লাজমা কিভাবে সংগ্রহ করা হবে, কি পরিমাণে তা অন্যের শরীরে প্রয়োগ করা হবে, এগুলো লিপিবদ্ধ থাকবে। প্লাজমা প্রয়োগ করার আগে অবশ্যই অ্যান্টিবডি টাইটার করতে হবে। কেননা এই প্লাজম দেয়ার জন্য এফডিএ একটি অ্যাপ্রোভাল দিয়েছে, আইএনডি অর্থাৎ ইনভেস্টিগেশনাল নিউ ড্রাগস হিসেবে।
তিনি আরো জানান, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে যদি আমরা প্লাজমা ডিস্ট্রিবিউশন করি তাহলে একটা তালিকা থাকবে, কাদেরকে প্লাজমা দেয়া হচ্ছে এবং কী পরিমাণ সুফল পাওয়া যাচ্ছে, সেই ডাটাগুলোর সংরক্ষণ থাকবে। করোনা থেকে সেরে ওঠা রোগীর কাছ থেকে যে প্লাজমা নেয়া হয়, তার মধ্যে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিবডি থাকে, যা অন্য করোনা আক্রান্ত রোগীর শরীরে গিয়ে ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করে তাকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। ভাইরাসটা তখন আর কোষের মধ্যে ঢুকতে পারে না। দেখা গেছে, যদি কোনো করোনা রোগী আক্রান্ত হওয়ার প্রথম সপ্তাহের মধ্যে আমরা এই প্লাজমা থেরাপি দিতে পারি তাহলে ভালো ফল পাওয়া যায়। আর করোনা রোগী যখন আইসিইউতে চলে যায় অথবা ভেন্টিলেটরে থাকে, তখন তার লাং ড্যামেজ হয়ে যায়। তখনই প্লাজমা থেরাপি দিলে কাক্সিক্ষত ফল না-ও পাওয়া যেতে পারে। এ জন্য প্লাজমা থেরাপির জন্য টাইমিংটা অনেক বেশি প্রয়োজন।
করোনা থেকে সুস্থ ১৩০ জনের প্লাজমা সংগ্রহ করল ঢামেক ষ
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে করোনা থেকে সুস্থ হওয়া ১৩০ জনের শরীর থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত এ প্লাজমার একটি অংশ ঢামেকে করোনা ইউনিটে...





