বগুড়ার শাজাহানপুরে তাওহীদুল ইসলাম তাওহীদ নামে আট বছরের এক শিশুকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে অমানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। তাওহীদ এশিয়ান টেলিভিশন, যায়যায়দিন ও স্থানীয় দৈনিক মুক্ত সকালের উপজেলা প্রতিনিধি এবং শাজাহানপুর প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: আবদুল ওহাবের ছেলে। ওহাব কাটাবাড়িয়া সি-ব্লক এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে স্থানীয় সাংবাদিক ও এলাকার সুশীলসমাজ। অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধারের পর ঘটনার সাথে জড়িত তিনজনকে আসামি করে শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার কাটাবাড়িয়া গ্রামের সেনাপল্লী মসজিদের সামনে ২৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশু তাওহীদ খেলছিল। এ সময় ওই এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে মো: মোস্তফা (১৯) তাকে ফুসলিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে অপহরণ করে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর মোস্তফা তার মা সখিনা (৪০) এবং বোন কুলসুমের সহায়তায় শিশুটিকে তাদের বাসার দ্বিতীয় তলার একটি রুমে নিয়ে খাটের সাথে হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে ও মুখ বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। এরপর রাত হলেও শিশুটি নিজ বাড়িতে ফিরে না যাওয়ায় বাবা-মাসহ লোকজন খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা জানতে পারেন কাটাবাড়িয়া সি-ব্লক এলাকার মকবুল হোসেনের ছেলে মোস্তফা শিশু তাওহীদকে তাদের বাসায় নিয়ে গেছে। সেখানে গিয়ে তারা কান্নারত শিশু তাওহীদের হাত-পা দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে দুইজন অপরিচিত মহিলা ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে দেখা পায়।
শিশু তাওহীদ জানায়, খেলার সময় তাকে ফুসলিয়ে ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি রুমে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় এবং দড়ি দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর নানা ভয়ভীতি দেখায়। এ সময় সে চিৎকার করলে মুখ হাত দিয়ে চেপে ধরে এবং আওয়াজ করলে তাকে তিন তলার ছাদে তুলে ফেলে দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়। শুধু তাই নয়, কিছুক্ষণ পর অন্য একটি জায়গায় তাকে নিয়ে যাবে বলে জানায়। এ সময় চিৎকার করতে নিষেধ করে। কথা না শুনলে মেরে ফেলার ভয় দেখায়।
সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধারের পর শাজাহানপুর থানায় অভিযোগ করলে অভিযুক্তদের থানায় ডেকে আনা হয়। এ সময় তারা জানায়, শিশুটি প্রায় দুই মাস আগে তাদের বাড়ির ছাদ থেকে ফুল তুলে নিয়ে গিয়েছিল। সে জন্য ওর এই পরিণতি হয়েছে। এ সময় শিশু তাওহীদকে আটক রেখে নির্যাতনের কথা স্বীকার করে শিশুটির প্রতি এ ধরনের আচরণ করা ভুল হয়েছে জানিয়ে শিশুটির বাবা সাংবাদিক আবদুল ওহাব এবং থানার ওসির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন অভিযুক্ত কুলসুম ও তার বাবা মকবুল হোসেন। স্থানীয়রা জানান, শিশু নির্যাতন একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। তাই তারা এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
শাজাহানপুর থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, একটি শিশুকে এভাবে নির্যাতন করা নিঃসন্দেহে একটি অমার্জনীয় অপরাধ। তবে এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বগুড়ায় সাংবাদিকের শিশুপুত্রকে নির্যাতন
মামলা হলেও গ্রেফতার হয়নি
বগুড়ার শাজাহানপুরে তাওহীদুল ইসলাম তাওহীদ নামে আট বছরের এক শিশুকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে অমানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। তাওহীদ এশিয়ান টেলিভিশন, যায়যায়দিন ও স্থানীয় দৈনিক...





