দেশে অব্যাহত ধর্ষণ, নিপীড়ন ও বিচারহীনতার প্রতিবাদে ১০ম দিন গতকালও উত্তাল ছিল শাহবাগ। এবার নারী সমাবেশের আয়োজন করেন আন্দোলনকারীরা। সমাবেশ থেকে ৯ দফা দাবি জানান তারা। দাবি আদায়ে নারী সমাবেশের পাশাপাশি মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের বিচারহীনতার অন্ধকার দূর করে আলো আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আন্দোলনকারীরা।
গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে ঘোষিত ‘ধর্ষণ ও নিপীড়ন বিরোধী বাংলাদেশ’-এর ব্যানারে এ সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। ধর্ষণ, নিপীড়নে বিচারহীনতার প্রতিবাদে নারী সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার নারীদের অংশ নিতে দেখা যায়। এ সময় প্রতিবাদকারীরা ধর্ষণের বিরুদ্ধে লেখা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
ধর্ষণের বিরুদ্ধে তাদের ৯ দফা দাবি হলোÑ সারা দেশে অব্যাহত ধর্ষণ-নারীর প্রতি সহিংসতার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে; পাহাড়-সমতলে আদিবাসী নারীদের ওপর সব ধরনের যৌন ও সামাজিক নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে; হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতন বিরোধী সেল কার্যকর করতে হবে এবং সিডো সনদে স্বাক্ষর ও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে, পাশাপাশি নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সব আইন ও প্রথা বিলোপ করতে হবে; ধর্মীয়সহ সব ধরনের সভা-সমাবেশে নারীবিরোধী বক্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করার পাশাপাশি সাহিত্য, নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন বন্ধ করতে হবে ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে বিটিসিএলের কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে; তদন্তকালে সময়ে ভিকটিমকে মানসিক নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং ভিকটিমের আইনগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে; অপরাধ বিজ্ঞান ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে ও ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে অনিষ্পন্ন সব মামলা দ্রুত নিষ্পন্ন করতে হবে; ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-১৫৫ (৪) ধারা বিলোপ করতে হবে এবং মামলার ডিএনএ আইনকে সাক্ষ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে কার্যকর করতে হবে; পাঠ্যপুস্তকে নারীর প্রতি অবমাননা ও বৈষম্যমূলক যেকোনো প্রবন্ধ, নিবন্ধ, পরিচ্ছেদ, ছবি, নির্দেশনা ও শব্দ চয়ন পরিহার করতে হবে; গ্রামীণ সালিসের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।
১০ম দিনের নারী সমাবেশে বক্তারা বলেন, একের পরে এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও এগুলোর কোনো সুরাহা হচ্ছে না। ধর্ষণকারীরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে পার পেয়ে যায়। তারা বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ধর্ষণের যত মামলা বিচারাধীন রয়েছে, সেগুলোর যদি বিচার না হয়, তাহলে এ দেশের জনগণ আবার ১৯৭১ সৃষ্টি করবে, ১৯৯০ সৃষ্টি করবে। তারা আরো বলেন, ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড আইন পাস করেছেন। কিন্তু ধর্ষকদের যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, যারা ধর্ষক সৃষ্টি করছে, তাদের জন্য কী শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন?
সমাবেশে বক্তারা নারীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার দায়ে অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। পাশাপাশি প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শাহবাগে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন
ধর্ষকদের আশ্রয় প্রশ্রয়দাতাদের বিচারের দাবি
দেশে অব্যাহত ধর্ষণ, নিপীড়ন ও বিচারহীনতার প্রতিবাদে ১০ম দিন গতকালও উত্তাল ছিল শাহবাগ। এবার নারী সমাবেশের আয়োজন করেন আন্দোলনকারীরা। সমাবেশ থেকে ৯ দফা দাবি জানান...





