নারায়ণগঞ্জে জাপার সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকাকে নিয়ে আওয়ামী লীগে বিদ্রোহ শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। গতকাল শনিবারও এমপি খোকার বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে তার কুশপুত্তলিকায় আগুন দেয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্র্মীরা। লিয়াকত হোসেন খোকা নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন সোনারগাঁওয়ের সংসদ সদস্য।
জানা গেছে, সোনারগাঁওয়ে প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জি আর ইনস্টিটিউশনের স্কুল অ্যান্ড কলেজে গেটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নামফলক ভাঙচুরের প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
গত ১৭ নভেম্বর সোনারগাঁও জি আর ইনিস্টিউশনের মূল ফটকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের নামে লাগানো একটি নামফলক কে বা কারা ভেঙে ফেলে। এ নিয়ে ওই দিন রাতেই নারায়ণগঞ্জের জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন নামফলক ভাঙার অভিযোগ তোলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার বিরুদ্ধে।
পরের দিন ১৮ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলায় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ মিছিল করে মহানগর আওয়ামী লীগ। সে মিছিলে নামফলক ভাঙার জন্য এমপি লিয়াকত হোসেন খোকাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। ক্ষমা না চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা অচল করে দেয়া হবে বলে মিছিল থেকে হুমকি দেয়া হয়।
গত বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সারের নেতৃত্বে সোনারগাঁও জি আর স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ফটকের সামনে পৌর আওয়ামী লীগের ব্যানারে একটি প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচিতে সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দয়ায় জাতীয় পার্টি থেকে লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি নির্বাচিত হয়ে মামলার আসামিদের একের পর এক জাতীয় পার্টিতে যোগদান করিয়ে সোনারগাঁওয়ে পুনর্বাসন করছেন। একের পর এক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতন করছেন। নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের স্বনামে জি আর স্কুলের উন্নয়ন কাজের নামফলক ভেঙে সোনারগাঁওসহ জেলার প্রতিটি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মনে আঘাত দিয়েছেন। আপনাকে আর কোনো ছাড় দেয়া হবে না।
এ দিকে পুরো নারায়ণগঞ্জে যখন নামফলক ভাঙার প্রতিবাদ জোরালো হতে থাকে তখন লিয়াকত হোসেন খোকার পক্ষে সোনারগাঁও উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম ইকবাল একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করে নামফলক ভাঙার সাথে পৌরসভা ছাত্রলীগ জড়িত। একটি পক্ষ লিয়াকত হোসেন খোকার উন্নয়নে ঈর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে অপ্রচার চালাচ্ছে। আবু নাঈম ইকবাল সম্প্রতি ছাত্রলীগ থেকে জাপাতে যোগ দেন।
এ দিকে এ বিজ্ঞপ্তির পর সোনারগাঁও পৌরসভা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মাহবুবুর রহমান রবিন ও সাধারণ সম্পাদক শাহারিয়ার সাজু তাদের ফেসবুক আইডিতে আবু নাঈম ইকবালের বক্তব্য অস্বীকার করে বলেন, নামফলক ভাঙার সাথে ছাত্রলীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এ দিকে, গত শুক্রবার বিকেলে সোনারগাঁও জি আর ইনিস্টিটিউশনের সামনে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ। মানববন্ধনে জেলা ও সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং পৌরমেয়র প্রার্থীরা অংশ নেন। সেখানে নামফলক ভাঙার অভিযোগ এনে লিয়াকত হোসেন খোকাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন তারা।
জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, লিয়াকত হোসেন খোকা একজন আইনপ্রণেতা হয়ে নিজে আইন ভঙ্গ করছেন। এমপি খোকা পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করছেন বলে অভিযোগ তার ।
এ দিকে গতকাল শনিবার বিকেলে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এমপি খোকার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও তার কুশপুত্তলিকা পোড়ায়।