কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় একটি বিয়ে বাড়িতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে ডিজে পার্টির নামে নাচ ও গান-বাজনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই যুবক নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ও দুইজনকে ঢাকার ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুরাদনগর সার্কেল) আবিদ এবং সিআইডির একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে দেবিদ্বার উপজেলার জীবনপুর ইনসাফ মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেনÑ উপজেলার আব্দুল্লাহ পুর (জীবনপুর) গ্রামের হাবিবুর রহমান মিয়ার পুত্র সাইফুল ইসলাম (১৮) ও মুরাদনগর উপজেলার গুঞ্জুর মধ্যপাড়া গ্রামের আবু হানিফের পুত্র রাহিম (২০)। দেবিদ্বার থানার ওসি আরিফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বার উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামের ওমান প্রবাসী জাকির হোসেনের কন্যা নাজমা আক্তারের সাথে একই উপজেলার বুড়িরপাড় গ্রামের প্রবাসী হোসাইন মিয়ার ৮-৯ মাস আগে বিয়ে হয়। ওই বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল বৃহস্পতিবার। বুধবার সন্ধ্যা থেকে কনের পিত্রালয়ে ডিজে পার্টিসহ নাচ ও গান-বাজনার আয়োজন চলছিল। রাতে সেখানে নাচতে যায় মুরাদনগর উপজেলার গুঞ্জুর গ্রামের রাহিম, সজিব, মামুন ও আক্তারসহ আরো কয়েকজন। এ নিয়ে স্থানীয় যুবকদের সাথে তাদের বাগি¦তণ্ডা হয়। এর জের ধরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিয়ে বাড়ির অদূরে আবদুল্লাহপুরের জীবনপুর ইনসাফ মার্কেটের সামনে স্থানীয় যুবকদের সাথে গুঞ্জুর গ্রাম থেকে যাওয়া যুবকদের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ৮-১০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে সাইফুল ও তার বন্ধু রাহিম মারা যায়। আহতদের মধ্যে সজীবকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর ভোর রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিক্যালে এবং মামুন ও আক্তার হোসেনকে ঢাকার ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
কনের মা সেলিনা আক্তার জানান, রাতে আমাদের গ্রামের অনেক ছেলে ছাড়াও আশপাশের গ্রামের অনেক ছেলে আমাদের বাড়িতে আসে, আমরা অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তাদের মধ্যে কি নিয়ে ঘটনা ঘটেছে জানতে পারিনি। পরে লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি বাড়ির পাশে মার্কেটের সামনে মারামারি হয়েছে।
নিহত রাহিমের পিতা আবু হানিফ জানান, পাশের গ্রাম জীবনপুরে আমার ছেলের বন্ধু সাইফুল ইসলামের সাথে রাতে বিয়ের অনুষ্ঠান দেখতে গিয়ে খুন হয়েছে। কে বা কারা হত্যা করছে তা জানি না। রাতে খবর পেয়ে থানা পুলিশের মাধ্যমে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে দেবিদ্বার থানায় আনা হয়। আমার ছেলে হত্যার প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতারপূর্বক বিচার দাবি করছি।
দেবিদ্বার থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, গভীর রাতে প্রত্যক্ষদর্শী কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় কনের বাবা জাকির হোসেন ও একই এলাকার বাছির মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করা হয়েছে। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে মামলা দায়ের করা হবে।